প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ‘তৃতীয় দফা বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন, প্রস্তুত রয়েছে”টিম কোম্পানীগঞ্জ”

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: [২] ভারতের উজান থেকে বয়ে আসা তৃতীয় দফা পাহাড়ি ঢলে থইথই করছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের প্রধান নদী ধলাই ও পিয়াইন। এই দুই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে অতিক্রম করায় উদ্ভেগ ও উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে উপজেলার ১৪৮ টি গ্রাম।এর আগে দুই দফা বন্যায় শতাধিক প্লাবিতগ্রামে এখনো বন্যার পানি সরে না যাওয়ায় তৃতীয় দফা বন্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পূর্বের প্লাবিত গ্রামের দুর্গত পরিবারগুলো পানি সাথে যুদ্ধ করে বাচা প্রানপন চেষ্টা করে যাচ্ছে।খাদ্য,চিকিৎসা সুপানীয় জল ও গো খাদ্যের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে।বন্যাপ্লাবিত অসহায় পরিবারগুলোর জন্যে শুরু থেকেই উপজেলার নিম্নাঞ্চল গুলোতে ৩৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে।

[৩] পূর্বের ন্যায় তৃতীয় দফা বন্যাতেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাপরিস্থিতি মোকাবেলায় “টিম কোম্পানীগঞ্জ ” নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে প্রধান করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার,অফিসার ইনচার্জ (ওসি),আনসার ইনস্ট্রাক্টর,পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ার, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (UHFPO),উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (PIO),ট্যাগ অফিসার ও স্ব স্ব ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের নিয়ে টিম কোম্পানীগঞ্জ গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও ইউপি চেয়ারম্যানদের নিজ নিজ ইউনিয়নে কতগুলো আশ্রয় কেন্দ্রে কতটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে সে হালনাগাদ তথ্য প্রতিদিন কমিটি প্রধানকে অবহিত করার জন্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।।

[৪] বন্যাকালীন সময়ে কেউ কোথাও আটকে গেলে দ্রুত উদ্ধার কাজসহ ত্রাণ তৎপরতা ব্যাহত না হয় সে জন্য সবসময় ইঞ্জিন চালিত নৌকা প্রস্তুত রাখাতে নির্দেশ দিয়েছে।

[৫] প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে গ্রাম পুলিশ নিয়োগসহ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতিটি ওয়ার্ডে মেম্বারদের আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর সার্বিক দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া এবং তাদের কার্যক্রম তদারকি করার কথা বলা হয়েছে।

[৬] কোন আশ্রয় কেন্দ্রে বিদ্যুৎ এর সংযোগে সমস্যা থাকলে ডিজিএম, পল্লীবিদ্যুৎ কে অবহিত করন সেই সাথে ডিজিএম, পল্লীবিদ্যুৎ তা তৎক্ষনাৎ সমস্যার সমাধান করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া জনসাধারণসহ বন্যায় আক্রান্ত বাড়িঘরে খাদ্য সামগ্রী,পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ নিশ্চিত ও এর ব্যবহারবিধি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যে চেয়ারম্যানদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

[৭] প্রয়োজনে উপবরাদ্দকৃত চাল ও শুকনো খাবার ট্যাগ অফিসার, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দের উপস্থিতিতে আশ্রয়কেন্দ্র ও বন্যায় আক্রান্ত বাড়িঘরে সঠিকভাবে বিতরণ করার কথা বলা হয়েছে। বন্যাপরিস্থিতি অবহিতকরন ও বিশেষ কোনো প্রয়োজনে জরুরি হট লাইন চালু রাখা হয়েছে।

[৮] বন্যাপরিস্থিতি মোকাবিলা সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য প্রতিবেদকে বলেন,তৃতীয়দফা বন্যায় কেউ যাতে খাদ্য কষ্ট করতে না হয় সে জন্যে জেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাতে পাওয়ার পরপরই সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়াও জরুরি কোনো প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুম (সহায়তার পাওয়ার জন্যে) চালু করা হয়েছে।একজন ব্যক্তি সার্বক্ষনিক এই কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব পালন করে যাবেন। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বাধিক পঠিত