প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রভাষ আমিন: সাহেদ জোয়ার আনলে, সাবরিনা এনেছেন সুনামি

প্রভাষ আমিন: ডা. সাবরিনা কোনো অনৈতিক কাজ করেননি, এই দাবি সত্য হলেও তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ তার সাবেক প্রতিষ্ঠান জেকেজি শুধু অনৈতিক নয়, মহাঅপরাধ করেছে। তিনি জেনেও চুপ করেছিলেন। এটাও অন্যায়। জেকেজি কেলেঙ্কারির খবর আমি প্রথম পাই ডা. সাবরিনার ফেসবুক থেকে। ২৪ জুন তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘অনেক আশা নিয়েই জেকেজি হেলথকেয়ার শুরু করেছিলাম বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেবার জন্য। যেকোনো জিনিস প্রতিষ্ঠা করাই বড্ড কঠিন। অনেক কষ্ট করেছি। করোনা বিপর্যয় শুরু হবার পর প্রথম এলাকাভিত্তিক স্যাম্পল কালেকশন শুরু হয়- কতো মানুষের কতো রকম বাধা। কোনো দোকান খোলা নেই, জিনিসপত্র নেই, কেউ ভয়ে করোনা নিয়ে কাজ করতে চায় না। সব পেরিয়ে পথচলা। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠান থেকেই আমাকে সরে আসতে হয়। যারা আমাকে কাছ থেকে চেনেন তারা জানেন, আদর্শ আর ভালোবাসার কনফ্লিক্টে আমি সবসময় আদর্শকেই বেছে নিয়েছি। ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার ল্যাবের অধ্যাপক তুষার স্যার এবং আমার কাছে যেকজন সাংবাদিক ভাই ও বোনের নম্বর ছিল তাদের জানিয়ে আমি সরে যাই এখান থেকে’।

এই স্ট্যাটাস তিনি দিয়েছেন জেকেজি অফিসে পুলিশের অভিযান চালিয়ে আরিফুল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর। তিনি যদি ৪ জুন জেকেজির সকল অন্যায় ফাঁস করে আদর্শিক অবস্থান নিতেন, তাহলে অবশ্যই তিনি বেনিফিট অব ডাউট পেতেন। তার স্ট্যাটাসকে সত্য ধরলে, ৪ জুন জানার পর জেকেজি ছেড়ে এসেছেন। কিন্তু জেকেজি তাদের অপকর্ম চালিয়ে গেছে ২৪ জুন পর্যন্ত। তার মানে সাবরিনা একজন চিকিৎসক হয়েও ২০ দিন ধরে অপরাধটি হতে দিয়েছেন, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে ডা. সাবরিনা তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘যারা ভাবছেন, আমি জেকেজিতে নেই এই তথ্য আগে কেন জানালাম না; তাদের উদ্দেশ্যে বলব, বিচ্ছেদ- তা সে যার সাথেই হোক- কোনো ঢাকঢোল পিটিয়ে জানানোর জিনিস নয়।’ আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে তার ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ ঢাকঢোল পিটিয়ে জানানোর জিনিস অবশ্যই নয়। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানের অন্যায়, যার সাথে মানুষের জীবনমরণ জড়িত; তা অবশ্যই ঢাকঢোল পিটিয়েই বলতে হবে। আমার জানার ইচ্ছা, জেকেজি ছাড়ার আগে তিনি কোন সাংবাদিক ভাইবোনদের জানিয়েছিলেন। কেন এতো বড় নিউজ পেয়েও সেই সাংবাদিক ভাইবোনরা চুপ থাকলেন? জেকেজি এবং রিজেন্ট কেলেঙ্কারিতে প্রতিবাদের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরোনো একটা নোংরা প্রবণতা আবার সামনে চলে এসেছে। জেকেজি ও রিজেন্ট কেলেঙ্কারিতে আলোচিত ব্যক্তি তিনজন- জেকেজির সাবেক চেয়ারম্যান ডা.সাবরিনা, সিইও আরিফ চৌধুরী এবং রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান। সাধারণ বিবেচনায়ও যদি বলি জেকেজি কেলেঙ্কারির মূল দায় অবশ্যই আরিফ চৌধুরীর। কিন্তু তিনি যেহেতু পুরুষ এবং তার যেহেতু সেলিব্রেটিদের সাথে সেলফি নেই, তাই ফেসবুকে তিনি তেমন ঝড় তুলতে পারেননি।

একই সমস্যা ডা. সাবরিনার ক্ষেত্রেও। রিজেন্ট সাহেদ যদি ফেসবুকে ঝড় তুলে থাকেন, সাবরিনা তুলেছেন সাইক্লোন; সাহেদ জোয়ার আনলে সাবরিনা এনেছেন সুনামি। ডা. সাবরিনা সুন্দরী, স্মার্ট, মেধাবীও। ডাক্তারি পাস করে বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি নিজেকে দেশের প্রথম নারী কার্ডিয়াক সার্জন দাবি করেন। যদিও তার সহকর্মীরা বলছেন, তিনি প্রথম নন, দ্বিতীয়। সেটাও কিন্তু কম গৌরবের নয়। কিন্তু ফেসবুক দেখলে মনে হবে, তার মূল অপরাধ হলো খোলামেলা পোশাক পরা এবং শরীর ছাড়া তার কোনো যোগ্যতা নেই। ফেসবুকেই ডা. সাবরিনা লিখেছিলেন, তিনি ডাক্তার নন, নায়িকা হতে চেয়েছিলেন। নায়িকা হতে না পারলেও তার আকাক্সক্ষাটা বোধহয় মরে যায়নি। তার ওয়ালে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন লোকেশনে বিভিন্ন ভঙ্গিতে তোলা অসংখ্য ছবি আছে। অনেকেই সেখান থেকে বেছে বেছে খোলামেলা নিজের ওয়ালে শেয়ার করে তার পোশাকের সমালোচনা করছেন, ছিঃ ছিঃ একজন ডাক্তার এই পোশাক পরতে পারে। সেইসব স্ট্যাটাসের নিচে, এমন সব গালিগালাজ, যার সাথে করোনা টেস্ট নিয়ে জালিয়াতির কোনো সম্পর্ক নেই। তারচেয়ে বড় কথা, ডাক্তার হলেই কি সারাদিন সাদা অ্যাপ্রোন পরে থাকতে হবে। কে কোন পোশাক পরে কোন ভঙ্গিতে ছবি তুলবে, সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ। সেখানে নাক না গলানোই ভালো। ডা. সাবরিনা যদি বোরকা বা হিজাব পরে ভুয়া করোনা রিপোর্ট দিতেন, তাহলে কি তার অপরাধ কম হয়ে যেতো। ডা. সাবরিনা যেটুকু অপরাধ করেছে, সেটুকু বলুন। সেলফি আর পোশাকে মনোযোগ দিয়ে আমরা যেন আসল অপরাধ ভুলে না যাই বা হালকা না করে ফেলি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত