প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফারজানা শবনম আন্নী: ভিটামিন ডি, করোনাভাইরাস

ফারজানা শবনম আন্নী: ভিটামিন – ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ, হাড় ও দাঁতের গঠন এবং রোগপ্রতিরোধ হ্মমতা গড়ে তোলার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। ভিটামিন – ডি চর্বিতে দ্রবণীয় ১টি ভিটামিন। যা কিনা ২ ধরনের হয়ে থাকে।
❇ ডি ২ – এরগোক্যালসিফেরল ( D2 – Ergocalciferol ): উদ্ভিদ এই ভিটামিন – ডি তৈরি করে থাকে।
❇ ডি ৩ – কোলেক্যালসিফেরল ( D3 – Cholecalciferol ): প্রাণীদেহে এই ভিটামিন – ডি তৈরি হয়।
The National Center for Biotechnology Information (NCBI) র, অনুসারে গোটা বিশ্বের প্রায় ৫০% মানুষ ভিটামিন – ডি ঘাটতিতে ভুগে থাকেন। Merkin Institute of Medicine র, পরামর্শ অনুযায়ী গড়ে দৈনিক (১০-২০) মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন – ডি খাওয়া প্রয়োজন।
করোনা ভাইরাসের এই দুঃসময়ে লকডাউনের জন্য মানুষের গৃহবন্দী জীবনযাপনের কারণে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া গৃহের বাহিরে কেউ বের হতে পারছে না। ফলে তারা সূর্যালোকের সংস্পর্শ হতে বঞ্চিত হচ্ছে। আর সূর্যের আলো ত্বকে না লাগার কারনে ভিটামিন – ডি তৈরি হতে পারছেনা। তাই ব্রিটেনের জনস্বাস্থ্য সংস্থা এসময়ে ভিটামিন – ডি সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
করোনা ভাইরাসের এই মহামারীতে ভিটামিন – ডি সেবনে স্বাস্থ্যগত কিছু সুফল পাওয়া সম্ভব। বেশ কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে – শরীরে পর্যাপ্ত মাএায় ভিটামিন – ডি থাকলে তা সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বর এবং বিভিন্ন ফ্লু তে ও সাহায্যকারী ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে কোভিড – ১৯ এর হ্মেএে তা কতটা কার্যকরী সে বিষয়ে এখনও কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
Professor Jon Rhodes & Dr. Sree Subramanian (University of Liverpool) র, মতে — ভিটামিন – ডি’র প্রদাহ কমানোর হ্মমতা আছে। কোভিড – ১৯ র, এই সংক্রমনে কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ে এতটাই সক্রিয় হয়ে ওঠে যে যার ফলে “Cytokine Storm Syndrome” (“সাইটোকিন স্টর্ম”) নামে প্রদাহ দেখা দেয়। এই প্রদাহ শরীরের ভাল কোষগুলোকে তখন ধ্বংস করতে শুরু করে। ভিটামিন ডি-র যেহেতু প্রদাহ কমানোর ক্ষমতা আছে, তাই এক্ষেত্রে ভিটামিন ডি ঐ মারাত্মক প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে তারা বলেছেন এ নিয়ে আরও ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

💠 বয়সভেদে ভিটামিন ডি এর প্রয়োজনীয়তাঃ
Recommended Dietary Allowances (RDAs) for Vitamin D :
⏺ জন্ম – ১২ মাসঃ ৪০০ IU
⏺ ১ – ১৩ বছরঃ ৬০০ IU
⏺ ১৪ – ১৮ বছরঃ ৬০০ IU
⏺ ১৯ – ৭০ বছরঃ ৬০০ IU
⏺ তার ঊর্ধ্বেঃ ৮০০ IU
⏺ গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারীঃ ৬০০ IU
Source: Food & Nutrition Board (FNB).
ওষুধ হিসেবে ভিটামিন – ডি সেবন নিরাপদ। কিন্তু, তাই বলে অতিরিক্ত পরিমাণে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেশি মাত্রায় ভিটামিন – ডি খেলে সেহ্মেএে দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতি দেখা দিতে পারে।

💠 ভিটামিন ডি ঘাটতির কারণঃ
🔴 সানস্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহার;
🔴 সূর্যালোকহীন বাড়িতে বসবাস;
🔴 বাড়িতে বেশি সময় থাকা;
🔴 ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার না খাওয়া ;
🔴 বয়স্ক হলে;
🔴 অতিরিক্ত ওজন;
🔴 কালো ত্বক ( কালো ত্বক কম সূর্যালোক শোষণ করে) ;
🔴 অতিরিক্ত দূষিত এলাকায় বসবাস।
💠 ভিটামিন ডি এর উপসর্গঃ

✔ হাড় ও পেশীর বিভিন্ন রকম দুর্বলতা (হাড় হ্ময় হওয়া, সামান্য আঘাতে হাড় ভেঙে যাওয়া, ব্যাক পেইন, গিরায় গিরায় ব্যাথা, বাতের ব্যাথা, সম্পূর্ণ শরীরে অসহ্য ব্যাথা ও যন্ত্রনা);
✔ ঘনঘন ক্লান্তিবোধ/ অসুস্থতা বোধ করা;
✔ উচ্চরক্তচাপ;
✔ মাথা ঘামা;
✔ অতিরিক্ত চুল পড়া;
✔ খাবার হজমে সমস্যা ;
✔ শরীরের রং বেশি কালো হওয়া;
✔ অ্যালার্জি সমস্যা ;
✔ হ্মত নিরাময়ে অনেক সময় নেয়া;
✔ রোগপ্রতিরোধ হ্মমতা কমে যাওয়া ;
✔ ইনসমনিয়া (ঘুমের ব্যাঘাত);
✔ ডিপ্রেশন।

💠 ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাদ্য উৎসঃ
খুবই অল্প সংখ্যক খাদ্যে ভিটামিন – ডি এর উপস্থিতি লহ্মণীয়। যেমনঃ
🔶 তৈলাক্ত মাছ ( স্যামন, টুনা, ম্যাকারেল, সারডিনস্)। যদিও এ সামুদ্রিক মাছ গুলো আমাদের দেশে পাওয়া একটু কষ্টকর ।
🔶 চিংড়ি, ওয়েস্টার(ঝিনুক);
🔶 বিভিন্ন ফরটিফাইড সমৃদ্ধ খাবার {দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য-( ছানা, মাখন, পনীর, দই ইত্যাদি।), সয়ামিল্ক, কমলার রস এবং কিছু শস্য};
🔶 কডলিভার অয়েল ( এটি সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ফার্মেসিতে পাওয়া যায়);
🔶 গরুর কলিজা;
🔶 মাটন;
🔶 ডিমের কুসুম;
🔶 মাশরুম;
🔶 সূর্যমুখীর বীজ;
🔶 কোকোয়া।

সূর্যের আলো থেকে আল্ট্রাভায়োলেট বি রশ্মি (UVB ray) যখন আমাদের ত্বকে পড়ে তখন ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি হয় এবং পরে রক্তে শোষিত হয়। তাই সকালের মিষ্টি রোদ (১০-১৫) মিনিট গায়ে লাগাতে পারলেই আপনার এই ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে।
বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষকেই যদি শারীরিক কিছু পরীক্ষা করানো হয় তবে দেখা যাবে তিনি কোনও না কোনও উপাদানের ঘাটতিতে ভুগছেন। আর এর মধ্যে ভিটামিন ডি র, ঘাটতি অনেকের মাঝেই পরিলক্ষিত হবে। তবে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন – ডি র, অভাবে ভুগে থাকে শিশুরা। এরপরই রয়েছে গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা। ৬০ বছর বয়সের পরে শরীরে ভিটামিন ডি এর উৎপাদন হ্মমতা হ্রাস পেতে শুরু করে। ফলে শরীরে এসময় ভিটামিন ডি এর ব্যাপক ঘাটতি দেখা যায়।
একমাত্র ভিটামিন – ডি হলো এমন একটি ভিটামিন যা মানুষের শরীরে নিজে নিজে তৈরি হতে সহ্মম। বিশেষজ্ঞদের মতে ভিটামিন ডি শরীরে ঠিক ভাবে তৈরি না হলে ক্যালসিয়াম কাজ করতে পারে না। ফলে ছোটদের রিকেট, বড়দের অস্টিওপরোসিস, অস্টিওম্যালেশিয়া, কোলন, স্তন বা প্রস্টেট ক্যান্সারের মতো রোগ হয়ে থাকে।
সুতরাং, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য ভিটামিন ডি যেহেতু খুবই প্রয়োজনীয় তাই লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শরীরে ভিটামিন ডি র, কোন ঘাটতি না হয়।

লেখক : নিউট্রিশনিস্ট এন্ড ডায়েট কনসালটেন্ট, লেজার মেডিকেল সেন্টার, গুলশান ব্রাঞ্চ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত