প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাশেদা রওনক খান : ছয়জন চিকিৎসককে বরখাস্ত করে আসলে কী প্রমাণ করলো স্বাস্থ্য প্রশাসন?

রাশেদা রওনক খান : ছয়জন চিকিৎসককে বরখাস্ত করে আসলে কী প্রমাণ করলো স্বাস্থ্য প্রশাসন? এই যে আপনারা দিনের পর দিন বলে গেলেন সব রকম প্রস্তুতি আছে, অথচ তেমন কিছুই প্রস্তুতি ছিলো না, এখনো নেই। এখনো অনেক জেলা শহরগুলোতে ঠিকমতো একটা ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা নেই, করোনা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি নেই, জেলা-উপজেলায় টেস্ট করানোর কিট নেই, সিলেটে একজন ডাক্তার ভেন্টিলেটরের অভাবে নিজ ব্যবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আসেন চিকিৎসা নিতে, একটা অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত দিতে পারে না, এসবের জন্য স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাউকে কি দায়ী করা হয়েছে, বরখাস্ত তো পরের বিষয়। সারাবছর যে পরিমাণ হাসপাতাল সামগ্রী কেনার নামে টেন্ডারবাজি হলো, আফজালের মতো কর্মচারী অস্ট্রেলিয়াতে ছেলেমেয়ে পড়ায় নিজ খরচে আর ঢাকা শহরে ১২টি বিল্ডিংয়ের মালিক, তাকে কি চাকরি হতে বরখাস্ত করা হয়েছিলো?

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সাংবাদিক পেটানোর জন্য বরখাস্ত হয়নি, প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বৃদ্ধ মানুষদের কানধরে ছবি তোলার জন্য বরখাস্ত হয়নি, একজন যুগ্ম সচিবের জন্য ফেরি আটকে রাখার ফলে তিতাস নামের ছেলেটি মারা যাওয়ার পরও দায়ী ব্যক্তির বরখাস্ত হয়নি, কিন্তু জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে করোনা চিকিৎসার সময় চিকিৎসকদের বরখাস্ত করে কি প্রমাণ করা হলো স্বাস্থ্য খাতে নিজেদের সমন্বয়হীনতার দৈন্যতা? এই যে প্রতিদিন পত্রিকায় পড়ছি, ত্রাণচুরি করছেন নেতাদের কেউ কেউ, তাদের কাউকে কি দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে? এতো অমানবিক চিন্তা আসে কোথা হতে? হতে পারে তারা মানসিকভাবে দুর্বল, হতে পারে ট্রমার মাঝে আছেন, হতে পারে কারও সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি সে সময় যেতে পারেননি, হতে পারে পরিবারের একমাত্র সন্তান বলে মা তাকে যেতে দেননি, হতে পারে শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করছিলেন, হতে পারে কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা হয়েছে আরও অনেক কারণ হতে পারে তাদের কাছে কারণ জানতে চাওয়ারও প্রয়োজনবোধ করেননি কেউ?

এ ধরনের ঘটনা বিদেশে হরহামেশা আমরা দেখছি, পড়ছি। বিদেশে দুয়েকজন ডাক্তার আত্মহত্যাও করেছে মানসিক চাপ নিতে না পেরে। এসব ক্ষেত্রে বাইরের দেশে তাদের ছুটিতে যেতে বলা হচ্ছে কিছুদিনের জন্য। ডাক্তার হলেই যে মানুষ খুব মানসিকভাবে শক্ত হবেন এমন তো নয়।

তাদের কাছে কী কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিলো? মানবাধিকার বলে তো একটা কিছু আছে, নাকি? তাদের প্রয়োজনে অন্য কোথাও বদলি করে দেওয়া যেতো, তাদের দুই সপ্তাহের বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া যেতো। এমনকি সঠিক তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতো। সঠিক তদন্ত ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলাফল প্রথম দফায় বরখাস্ত করে আবার দুজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বদল করা। এক আদেশে ছয়জনকে এবং পরবর্তী আদেশ পরিবর্তন করে চারজনকে বহিষ্কারাদেশ। এভাবে দুর্বলের উপর রাষ্ট্রের নিপীড়ন করার চিত্র ভালো কিছু বয়ে আনবে কি? ঝিকে মেরে বউকে শেখাতে গিয়ে শেষে বউকে হারিয়ে ফেললে কিন্তু এই মুহূর্তে দেশ বিপদে পড়ে যেতে পারে। এসব নির্বুদ্ধিতা থেকে জাতি মুক্ত হোক। মানবিক হোক রাষ্ট্র, মানবিক হোক নীতিনির্ধারকেরা। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত