প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কুমিল্লায়-জীবিকার আশায় রাস্তার পাশে নিম্ন আয়ের মানুষ

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধি: [২] ব্যস্ত কুমিল্লায় এখন ভীড় নেই। রুদ্ধশ^াসে ছুটছে মানুষজন। গন্তব্য পৌঁছে কাজ সেরে আবার বাসায় ফিরছে। রাস্তার পাশে যতটুকু ভীড় তা শুধু নিম্ন আয়ের মানুষজনের। জীবিকার টানে ঝুঁকি নিয়ে বেরিয়েছে তারা। সাধারণ ছুটি ঘোষণার ও সেনা মোতায়েনের খবরের পর গতকাল থেকে এমনই চিত্র ফুটে ওঠে কুমিল্লাজুড়ে।

[৩] সকাল ১০ টা নগরীর অন্যতম প্রবেশদ্বার শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড গিয়ে দেখা যায়,বাস চালক ও হেল্পারদের হাকডাক আছে তবে বাসস্ট্যান্ডমূখী যাত্রীদের চাপ নেই ,তাই দৌড়ঝাপও নেই যাত্রীদের। সকাল সোয়া ১০ টায় রেইসকোর্স পুলিশ লাইন এলাকায় গিয়ে দু একটা খাবার দোকান খোলা থাকতে দেখা যায়। সুনশান নিরবতায় ডুবে আছে পুলিশ লাইন স্কুল মাঠ।

[৪] মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় কান্দিরপাড় টাউন হলের সামনে গিয়ে দেখা যায়,কাজের আশায় বসে আছেন জনা ত্রিশেক দিন মজুর। সবার সামনে ঝুড়ি আর কোদাল। কেতাদুরস্ত পোষাকের কাউকে দেখলেই এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন কাজের লোক লাগবে কিনা। নীলফামারীর আজাদ থাকেন ধর্মপুরে। জানালেন করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গতকাল সোমবার আর আজ মঙ্গলবার কেউ কাজে নেয়নি। আগের কিছু টাকা জমা আছে। এগুলো দিয়ে চলছি।

[৫] পাশে টাউন হলের মূল ফটক তালাবদ্ধ। পলিথিনে মোড়ানো চা-দোকানগুলো। লিবার্টি চত্বরের চা দোকানগুলোতে নেই আড্ডা। মনোহরপুরে মাতৃভান্ডারে দু একজন ক্রেতাকে রসমলাই কিনতে দেখা গেছে। তবে লাইনে দাড়ানো ক্রেতা সমাগম চোখে পড়েনি।

[৬] মনোহরপুরের সোনালী ব্যাংকের মূল ফটকে শতাধিক গ্রহককে দেখা যায় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ঝাউতলা থেকে আসা গৃহিনী আয়েশা জানান, সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশ তুলে নিতে ব্যাংকে এসেছি। আজ ব্যাংকের সামনে বেশীর ভাগ আমার মতো। সবাই অপেক্ষা করছে লেনদেন শেষ করে বাসায় কখন ফিরবে। অপেক্ষারত গ্রাহকদের চোখেমুখে একটা স্পষ্ট আতংকের ছাপ ফুটেছিলো।

[৭] এদিকে মঙ্গলবার বেলা ১১ টা পর্যন্ত কুমিল্লার মূল সড়কগুলোতে সেনা সদস্যদের টহল চোখে পড়েনি। বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো.আবুল ফজল মীর জানান, আমরা মিটিং করছি। সেনা সদস্যরা কিভাবে টহল জারি রাখবেন সে বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সাথে সেনা কর্মকর্তাদের মত বিনিময় চলছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত বলা যাবে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত