প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনাভাইরাস : একটি সুন্দর সকালের অপেক্ষা

শুভদীপ চন্দ : জানি না কী অবস্থা হচ্ছে। করোনাভাইরাস আরও ছয়টি দেশে ছড়িয়ে পড়লো। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিকে ‘হাই’ থেকে ‘ভেরি হাই’য়ে উত্তীর্ণ করে দিচ্ছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় চায়নায় আক্রান্ত ৩২৯ জন। এখন পর্যন্ত মোট কেস ৭৮,৮০০। মারা গেছেন ২,৮০০ জন। মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, এস্তোনিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, লিথুনিয়া তাদের প্রথম কেস শনাক্ত করেছে। সব ছড়িয়েছে ইতালি থেকে। ইতালিতে মারা গেছেন ১৭ জন। আক্রান্ত ৬৫৫ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত ৬০, ফ্রান্সে ৩৮, স্পেনে ২৩। দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্ত ২,৩৩৭ জন। মারা গেছেন ১৩ জন। বুলগেরিয়া তুরস্কের সীমান্তে এক হাজার ফ্রেশ সৈন্য মোতায়েন করেছে যেন অবৈধ অনুপ্রবেশ না ঘটে। মঙ্গোলিয়া তাদের প্রেসিডেন্টকে একঘরে করে রেখেছে। তিনি রাষ্ট্রীয় সফরে চায়না গেছিলেন। সারা পৃথিবীতে শেয়ার মার্কেট ফল করেছে। অধিকাংশ দেশ স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে। এমনকি করিৎকর্মা জাপানও হালে পানি পাচ্ছে না। সম্ভবত পিছিয়ে যেতে পারে টোকিও অলিম্পিক। সাম্প্রতিক সময়ের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক প্রোগ্রাম বাতিল হয়ে গেছে। সর্বশেষ নাম লিখিয়েছে সুইজারল্যান্ড। মোটর গাড়ির ইভেন্ট বাতিল।

চীনের এক কর্মকর্তা বলেছেন, যারা সুস্থ হয়ে গেছেন তারাও ইনফেকশন ছড়াচ্ছেন। এ তথ্য ভয়ংকর। কারণ ভাইরাস নির্মূল করা খুব কঠিন হয়ে যাবে। এ স্ট্যাটাস লিখতে লিখতে বিবিসি থেকে অটো নোটিফিকেশন আসলো ইরানে মারা গেছেন ২১০ জন। আমেরিকান স্পাই এজেন্সি বলছে ভারতের ব্যাপারে তারা সন্দিগ্ধ। যেকোনো মুহূর্তে মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে আসল হিটটা যাবে বাংলাদেশের উপর দিয়ে। এক ডেঙ্গু নিয়েই আমাদের যা লেজে গোবরে অবস্থা, করোনার তো কোনো গাইডলাইন নেই। রোগটির সে রকম সর্বজন গ্রহণযোগ্য কোনো চিকিৎসা নেই। কীভাবে ছড়াচ্ছে, কীভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে, গৃহপালিত জীব জন্তুর কী ভূমিকা কোনো বিষয়ই সুস্পষ্ট নয়।

উন্নত দেশগুলোর এতো আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এ অবস্থা, আমাদের কী হবে সহজে অনুমেয়। কেউ নিরাপদ নয়। কিন্তু কিছু লোকের হাসপাতাল জব। প্রতিদিন হাসপাতাল, প্রতিদিন আউটডোর। একশ থেকে দেড়শ অসুস্থ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কন্টাক্ট। তারপর বাস, বাজার, ভিড়বাট্টা। শত শত মানুষ। প্রস্তুতির খাতা প্রায় পুরোটা ফাঁকা। মহাসড়কে উঠে কানে হেডফোন গুঁজে বসে আছি। উচ্চস্বরে গান বাজছে। জানালার ওপাশটায় ঘুটঘুটে অন্ধকার। বাস ছুটছে উল্কার গতিতে। সাঁই সাঁই করে। অপর পাশ থেকে আসা বাসের গতি ডপলারের সূত্র মেনে এ বাসের ভেতর থেকেও টের পাওয়া যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে কষে ব্রেক, লাফিয়ে লাফিয়ে উঠা। ধীরে চালানোর কথা বলা হলে ড্রাইভার বললো, ‘মরলে আমি চালাইলে মরবেন, না চালাইলেও মরবেন। চোখ বুইজ্যা ঘুম দেন’। একটি ভোরের অপেক্ষা সবসময় আনন্দের, তাই না? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত