শিরোনাম
◈ জ্বালানি সংকটের সঙ্গে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ, চ্যালেঞ্জে সরকার ◈ অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন কর্মপরিকল্পনা, উন্নতির পথে আইনশৃঙ্খলা ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের প্রচার নিয়ে নির্দেশনা জারি ◈ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ-ভুটান ◈ ‘ওস্তাদ চাপ দিয়েন না, মহিলা’ এ কথা শুনতে হয় নারী চালককে, প্রথম দিনেই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ◈ তারেক রহমানের সফরের জন্য এখনও অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ভারত: ভারতীয় হাইকমিশনার ◈ মদ পান ক‌রে গাড়ি চালিয়ে শাস্তি পেলেন অ‌স্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ডে‌ভিড ওয়ার্নার ◈ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো তথ্য নেই: শামা ওবায়েদ ◈ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা হচ্ছে: জয়সওয়াল ◈ তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে: সাবেক কূটনীতিক

প্রকাশিত : ০২ মার্চ, ২০২০, ০৬:২২ সকাল
আপডেট : ০২ মার্চ, ২০২০, ০৬:২২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাঠ জরিপ, গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং হাইকমিশন পাঠানো নোট দেখে বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে মোদী কী সিদ্ধান্ত নেন দেখার বিষয়

 

সাঈদ তারেক : দিল্লিতে ‘মুসলিম গণহত্যা’র পর মুজিববর্ষের মূল কর্মসূচিতে মিস্টার মোদীর যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দিল্লির ঘটনাটিকে অনেকে ‘দাঙ্গা’ বলে চালানোর চেষ্টা করছেন। দাঙ্গা হলে সেটা হয় দু’পক্ষের মাঝে খুনাখুনি। কিন্তু দিল্লিতে যা দেখা গেছে একপক্ষ আরেক পক্ষের উপর হামলে পড়েছে। কাজেই এটা দাঙ্গা নয়, গণহত্যা। বিশ্লেষকরা সেভাবেই বিশেষায়িত করছেন। স্বভাবতই এ নিয়ে বাংলাদেশের মুসলিম তো বটেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ডান-বাম সবার মনেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্ষোভ থেকেই দাবি উঠেছে মুজিববর্ষের কমর্সূচিতে মিস্টার মোদীকে যেন না আনা হয়। আনন্দ বাজার পত্রিকা অবশ্য কৌশলে বাম এবং মডারেটদের কথা এড়িয়ে গিয়ে শুধু দু’টি ইসলামী সংগঠনের কথা উল্লেখ করেছে। হয়তো ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছে ইসলামপন্থীরা স্বভাবজাত কারণে বিরোধিতা করছে, বাংলাদেশের আপামর জনগণের বিরোধী নয়। হ্যাঁ ওবায়দুল কাদের সাহেবরা বিরোধী নন সেটা তারা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন। তারা সরকার। কাজেই ধরে নেওয়া যায় মিস্টার মোদী আসবেন। এটাও ঠিক সরকার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে, কোনো ব্যক্তি মোদীকে নয় এবং আমন্ত্রণটা জানানো হয়েছে দিল্লি গণহত্যার আগেই। কাজেই এ মুহূর্তে এসে তাকে আসতে বারণ করাটা সরকারের জন্য দুরূহ কাজ।

মাঠ জরিপ, গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং হাইকমিশন পাঠানো নোট দেখে এই সফরের ব্যাপারে মিস্টার মোদী কী সিদ্ধান্ত নেন সেটা দেখা যেতে পারে। তবে সব চাইতে ভালো হতো তিনি যদি অন্য কোনো কাজের অজুহাতে সফর বাতিল করে অবিতর্কিত কাউকে পাঠান। তারপরও যদি আমাদের সরকার ‘একই রক্তের’ কারণে মিস্টার মোদীকে আনতে গোঁ ধরে থাকে বা মিস্টার মোদী প্রেস্টিজ রক্ষার্থে মুজিববর্ষের কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকা আসতে সংকল্পবদ্ধ হন ব্যাপারটা সুখকর হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না।

তার এই সফরকে নিরুপদ্রুত করতে সরকারকে বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হবে। হয়তো গণহারে গ্রেপ্তার শুরু করতে হতে পারে, প্রেস সেন্সরশিপ আরোপ করা হতে পারে, মিটিং, মিছিল, বিক্ষোভ, হরতাল নিষিদ্ধ করতে হতে পারে। অবস্থা বেগতিক দেখলে ১৪৪ ধারাও জারির প্রয়োজন হতে পারে। মুজিববর্ষ একটি আনন্দের উৎসব। তাতে শুধু মিস্টার মোদীর অংশগ্রহণ নিরুপদ্রুত রাখতে যদি এতো সব ব্যবস্থা নিতে হয় তাহলে এই উৎসব হয়ে যাবে নিছক একটা আনুষ্ঠানিকতা। হারাবে প্রাণোচ্ছলতা, মাহাত্ম্য এবং গৌরব। ব্যাপারটা বাংলাদেশ সরকার এবং মিস্টার মোদীÑ উভয়ের জন্য বিব্রতকর। তারপরও আশা করবো উভয়ই একটা সম্মানজনক উপায় বের করবে। আমরা চাই মুজিববর্ষের কর্মসূচি উৎসবমুখর হোক। কোনো কারণে তা যেন চাপিয়ে দেওয়ার ব্যাপার না হয়ে যায়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়