মাজহারুল ইসলাম : বাকেরগঞ্জ উপজেলার আউলিয়াপুর এলাকায় ভণ্ড ফকির মো. রিয়াজের অপচিকিৎসায় কালাম মৃধা (৪২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে আউলিয়াপুরস্থ ওই ভণ্ড ফকিরের আস্তানার পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ। জাগোনিউজ
ঘটনার পর ভণ্ড তার সহযোগী অসীম ফকির এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তবে রিয়াজ ফকিরের বোন অনিকা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। কালামের স্বজনরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে কালাম কথা কম বলতেন। একা থাকতে পছন্দ করতেন। এ বিষয়টি নিয়ে স্ত্রী পারভীন বেগম ও পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। গত শুক্রবার সকালে স্বামীর চিকিৎসা করাতে ২ দেবরকে সঙ্গে নিয়ে রিয়াজ ফকিরের আস্তানায় যান। এ সময় ওই ভÐ ফকির ও তার সহযোগী কালামকে জিনে ধরেছে বলে জানান। ভণ্ড ফকির রিয়াজ চিকিৎসা করে কালামকে ভালো করতে পারবেন বলে আশ্বাস দেন। এতে স্ত্রী পারভীন বেগম রাজি হন। এরপর জিন তাড়ানোর জন্য কবিরাজি চিকিৎসার নামে কালামকে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাকে বাড়ির পাশের পুকুরে ১০১টি ডুব দেয়ানো হয়। কাজ না হলে তাকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এতে কালাম অসুস্থ হয়ে পড়লে একটি রুমে আটকে রাখা হয়। পরে ওই রাতেই কালামের মৃত্যু হয়।
পারভীন বলেন, ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে রাত ৩টার দিকে রিয়াজ ফকিরের বোন অনিকা বেগম আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। গতকাল সকালে আমাকে তার বাড়ি থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন অনিকা। এ সময় সন্দেহ হলে চিৎকার দেই আমি। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে কালামের খোঁজ করতে থাকি। বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে অপচিকিৎসার নামে রিয়াজ ফকির ও তার সহযোগী অসীম ফকিরসহ কয়েকজন কালাম মৃধাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছে।