প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গাজীপুরের বর্জ্যে বিবর্ণ মহাসড়ক

আমাদের সময় : ময়মনসিংহ বিভাগের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত ও সহজতম করতে বর্তমান সরকার জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ৮৭ কিলোমিটার এলাকা চার লেনে উন্নীত করে ২০১৬ সালে। কাজ শেষে সড়ক বিভাজনে বাহারি জাতের ফুল গাছ রোপণের মাধ্যমে মহাসড়কের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হয়। ফুলগাছগুলোয় বছরের নানা সময়ে ফুল ফুটে স্নিগ্ধতার পরিবেশ জোগাত সড়কে। সেই ফুলের ঘ্রাণ শিহরণ জাগাত যাত্রীদের মাঝে। তবে সে দৃশ্য এখন আর নেই।

মহাসড়কের পাশে ফেলা বর্জ্যে বিবর্ণ এখন এই মহাসড়কের গাজীপুর অংশের ৩০ কিলোমিটার এলাকা। এ ছাড়াও গাজীপুর সিটি করপোরেশন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও গাজীপুর বাইপাস-মীরেরবাজার সড়কের বিভিন্ন অংশে নিয়মিত বর্জ্য ফেলছে। এতে একদিকে সরকারের উন্নয়নকাজ আড়ালে চলে যাচ্ছে; অন্যদিকে যাত্রী ও পথচারীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শিল্পকারখানা সমৃদ্ধ গাজীপুর এখন অধিক জনবহুল জেলা। বর্তমানে জেলাজুড়েই রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনার অভাব। বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা না করেই অপরিকল্পিত নগরায়ণ হচ্ছে। বর্জ্য অপসারণের নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় কয়েক বছর ধরেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও শিল্পকারখানা বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত বর্জ্য অপসারণ করছে মহাসড়কের পাশে সড়ক বিভাগের অব্যবহৃত জমিতে। মহাসড়কঘেঁষে বর্জ্য ফেলা স্থানগুলো হচ্ছে গাজীপুর সিটি এলাকার নাওজোড়, সালনা, গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর, ভবানীপুর, হোতাপাড়া, শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী, এমসি বাজার ও জৈনা বাজার এলাকা। এর মধ্যে শ্রীপুর পৌরসভা গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় মহাসড়কের উপর বর্জ্য ফেলছে। এর বাইরে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কড্ডা বাইমাইল, জয়দেবপুর বাইপাস-মীরের বাজার সড়কের ঝাঝর, টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের মরকুন এলাকায় মহাসড়কেই নিয়মিত বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ করছে।

গাজীপুর সিটি সালনা এলাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি সকালে ঢাকা-ময়মনিসংহ মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে বেড়াতেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন গন্তব্যে হাঁটাকে তিনি প্রাধান্য দিতেন। কিন্তু এখন আর সেই পরিবেশ নেই। মহাসড়কের পাশে নিয়মিত বর্জ্য ফেলায় দুর্গন্ধে এখন হাঁটা দায়।

বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ জানান, বাড়ি বগুড়া হওয়ায় তাকে প্রতি সপ্তাহে বাড়ি যেতে হয়। গাজীপুর শহর থেকে বেরোলেই কড্ডা এলাকায় মহাসড়কের পাশে বর্জ্যরে দুর্গন্ধের সঙ্গে লড়াই শুরু হয়। নাক চেপে এই পথ অতিক্রম করতে তার মতো প্রতিটি যাত্রীর নাভিশ্বাস ওঠে।

আলম এশিয়া পরিবহনের চালক মফিজুল ইসলাম জানান, কিছুদিন আগেও মহাসড়ক ধরে গাড়ি চালানোর সময় সড়ক বিভাজনের ওপর ফুটে থাকা ফুলের ঘ্রাণ পেতাম, যাত্রীরাও পুলকিত হতেন। সড়কের উন্নয়ন নিয়ে যাত্রীরা সরকারের প্রশংসা করতেন। এখন বর্জ্যরে দুর্গন্ধে গাড়ি চালাতে অনীহা চলে আসে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক হাসান ইউসুফ খান জানান, পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে এভাবে সড়কঘেঁষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নজির নেই। মহাসড়ক ও এর পাশে বর্জ্য ফেলায় গ্রিন ও ক্লিন গাজীপুর গড়ার উদ্যোগে ভাটা পড়ছে।

গাজীপুর সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুদ্দিন জানান, এভাবে সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা সত্যিই দুঃখজনক বিষয়। আমরা কোনোভাবেই এটা বন্ধ করতে পারছি না। এ বিষয়ে সমাজ সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুস সালাম সরকার জানান, পরিবেশের ক্ষতি হওয়ায় সড়কের পাশে বর্জ্য না ফেলতে আমরাও সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানকে পত্র প্রেরণ করেছি। যদিও তারা এখনো ওই কাজটা বন্ধ করেনি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম সোহরাব হোসেন জানান, বিশাল জনগোষ্ঠীর গাজীপুরে পূর্ব থেকেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় সড়কের পাশেই বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বর্তমানে সিটি করপোরেশনরে উদ্যোগে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অচিরেই মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত