প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পলিটিক্যাল মুসলিম সংস্কৃতির তোড়ে বাঙালি মুসলমান তার পূর্ব পুরুষের অনেক কিছুই ত্যাগ করেছে

মুজতবা হাকিম প্লেটো : বয়াতির গ্রেপ্তার ধারাবাহিক এক আক্রমণেরই অংশ। দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রাপালা, বাউলদের উপর হামলা চলছে। এর রাজনৈতিক পক্ষ-বিপক্ষ আমরা খুব ভালো করেই জানি। পলিটিক্যাল ইসলামের মতো পলিটিক্যাল মুসলিম সংস্কৃতিও গড়া হচ্ছে শত বছর ধরে। পলিটিকাল মুসলিম সংস্কৃতির তোড়ে বাঙালি মুসলমান তার পূর্ব পুরুষের অনেক কিছুই ত্যাগ করেছে। ব্রিটিশ আমল থেকে পাশ্চাত্য চিন্তা ও সংস্কৃতি প্রধান শঙ্কার হলেও প্রধান শত্রু নির্মাণ করা হয়েছে হিন্দুকে। হিন্দু সমাজের থেকে স্বাতন্ত্রই তার একমাত্র আরাধ্য। হিন্দুতাকে নাকচ করা মুসলমান সমাজে দুইটা ধারা দেখা যায়। একপক্ষ হিন্দুত্বকে নাকচ করতে গিয়ে পাশ্চাত্য ধারায় শতভাগ ডুব দিতে চেয়েছে, অন্যভাগ হিন্দুত্বর সঙ্গে পাশ্চাত্যকেও অগ্রাহ্য করতে চেয়েছে। তাদের ফাঁকে মুসলমান সমাজের একটি অংশ দেশাত্ম ধারণাকে ভিত্তি করে অন্য পলিটিকাল সংস্কৃতি নির্মাণে নামে। যে কারণে এই মুসলমান গোষ্ঠী উভয় পলিটিকাল মুসলিম গোষ্ঠীর বিরোধিতার শিকার তারা তাদের মধ্যে দেশাত্ম উপাদান দেখে না, উভয়ের কমন শত্রু হিন্দু চেহারা দেখতে পায় সবসময়।

দেশাত্ম উপাদানের মাধ্যমে মুসলমান সমাজের এ দলের হিন্দুসহ অপরাপর লোকসমাজের সঙ্গে যোগসূত্র গড়ে ওঠে। সেই শক্তিই ৭১ ঘটায়। এ পরাজয় দুঃস্বপ্নের মতো পলিটিকাল মুসলিম উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে বিরাজমান। ফলে লোকজ ইসলামও তাদের কাছে শত্রু হিসেবেই বিবেচিত এতেই দেশাত্ম উপাদান মিশ্রিত। তারা আরব্য পৌত্তলিকতায় অবগাহন করবে, কিন্তু দেশিতে ঘোর আপত্তি। তারা গোপনে পাশ্চাত্য পর্নোগ্রাফিতে বিনোদন পাবে, কিন্তু বাংলার সংস্কৃতি হারাম। এই আক্রমণ আমরা ভাষা থেকে শুরু করে সবখানে দেখতে পাই। (শুধু বাঙালি হিন্দু বলছি কারণ তারা ভারতবর্ষের অন্য হিন্দুদের ভাষা ও সংস্কৃতি অতীতের উর্দুভাষী ধর্মগুরুদের মাধ্যমে ধর্মীয় সহী জ্ঞানে পবিত্ররূপে গ্রহণ করেছে জল ঘোর আপত্তি, কিন্তু পানি পবিত্র হালাল)। এ আক্রমণের আপাত বাধাহীন দৌরাত্ম্য আমরা দেখছি।

বাংলার দলিত সমাজকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তান গড়ার পর পরই যেমন যোগেন ম-লরা অপাঙতেয় হয়ে যায়। ৪৭ পরবর্তী হিন্দুদের উপর পলিটিকাল মুসলিমদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এই যোগেন ম-লের সমাজই যারা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাকিস্তানকেই শ্রেয় মনে করেছিলো। তেমনই ১৯৭১-এ অবাঙালি প্রভু শক্তি নাশের পর থেকেই বাংলাদেশে পুরনো দেশত্ম যোগসূত্র গুরুত্ব হারাতে থাকে। ৭১’র ‘বাঙালিত্ব’ ধারণার শহুরে ধারাটি দুইশ বছর ধরে কলকাতায় গড়া বিকাশের উত্তরাধিকার হিসেবে নিজেকে চেনাতে চেয়েছে তাই শহুরে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ও কলকাতা। বাহ্যিক বিরোধিতার হৈচৈ হলেও ভিতর থেকে এ লড়াইয়ে তারা জয়ী হতে পারেনি। কলকাতাকেন্দ্রিক দুইশ বছরের চর্চা বেদ বা সংস্কৃতভিত্তিক নয়, তার বেশিটাই পাশ্চাত্য ধ্যান-ধারণা নির্ভর অনেকটাই পাশ্চাত্যকে দেশীয় উপাদানের মোড়কে উপস্থাপন। আবার শহুরে পলিটিকাল মুসলিমের আরাধ্য ওই পাশ্চাত্যই ফলে নাকচ করতে হলে হয় তাকে পুরো ইংরেজ হতে হয় নয়তো ফিরতে হয় মধ্যপ্রাচ্যে, কিন্তু তাতে তো তার শ্লাঘায় বেঁধে। তারা আহত বাঘের মতো গোঙায় শুধু গোঙায় আর পলিটিকাল মুসলিম সংস্কৃতির পাশ্চত্যকে অগ্রাহ্য করা গোষ্ঠীর কৃতিত্বে উল্লসিত হয় কখনো ঘোমটা টেনে কখনো খ্যামটা নেচে।

বর্তমান শহুরে বাংলাদেশির ৯০ শতাংশের বেশি প্রথম পুরুষ শহুরে। সদ্য গ্রাম থেকে উঠে আসলেও তাদের আনুষ্ঠানিক জীবন চর্চায় পুরোটাজুড়ে গ্রাম থেকে শেখা সংস্কৃতি অনুপস্থিত পয়সার অভাবে শাকপোড়া ঘরে খায় বটে, কিন্তু আরাধ্য বাসি রুটির তৈরি পাশ্চাত্য ধাঁচের ফাস্টফুড। সে যে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু সে বোধ তার জাগে না, এটা তার বিকাশ বলেই ভাবে। ফলে গ্রামীণ ব্যাপারগুলো তার প্রধান আরাধ্য নয়- বরং সীমারেখা টেনে তার উচ্চতা ঘোষণা করতেই চায় আনুষ্ঠানিক বিনোদনে তাকে খুঁজতে হয় নতুন কিছু সেখানে কমন মিত্র পাশ্চাত্য ঘরানা। নানারূপের এই পাশ্চাত্য ভাবাপন্ন ব্যাপারটায় বিশ্বের অন্য সব মানুষের মতোই বাঙালির সব অংশেরই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।

ফলে গ্রামীণ বিনোদনের উপায়গুলো গুরুত্ব হারায়, তবে পলিটিকাল মুসলিম তার একচেটিয়া গড়তে গ্রামীণ দেশি সব কিছুকেই নাকচের ছুরি শান দিতেই থাকে সে ছুরি চালায়, কিন্তু শহুরে পলিটিকাল মিত্র গোষ্ঠীর কাছে তার গুরুত্ব কমে যাওয়ায় রক্ষা তাগিদও কমে যায়। গ্রাম থেকে হারাতে থাকে যাত্রাপালা বাউল আসর ইত্যাদি। বরং পাশ্চাত্য ধাঁচনির্ভর যোগসূত্র খোঁজ শহুরে গোষ্ঠীগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। এই পাশ্চাত্য ধাঁচ কতো প্রবল তা শুধু ফাস্ট ফুড আর পর্নোগ্রাফির চর্চায় নয় ওয়াজেও দুই লাইন ইংরেজি বলার ঝোঁক বলে দেয় তার শক্তি। মার তোমাদের সবাইকে খেতে হবে। তবে এটা কী শেষ? শেষের শেষ থাকে। কাহানি আভি বাকি হায়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত