প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রুডো, ম্যাঁক্রো, বরিসের হাস্যরসে ক্ষুব্ধ হয়ে দ্রুত ন্যাটো সম্মেলনস্থল ত্যাগ করলেন ট্রাম্প, সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে বললেন ট্রুডো একজন দুমুখো ব্যক্তি

আসিফুজ্জামান পৃথিল : ন্যাটো নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে হাসাহাসি করছেন এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পরিয়েছিলো অনলাইনে। এই ভিডিওর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো একজন দুমুখো ব্যক্তি। এরপরই তিনি পূর্ব নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে দেন এবং সফর সংক্ষিপ্ত করেন। টাইমস, টেলিগ্রাফ, বিবিসি, সিএনএন

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে বিশ^নেতারা সবাই ট্রাম্পকে নকল করে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করছেন। মঙ্গলবার বাকিংহাম প্যালেসের এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। এই ভিডিওতে ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো, কারাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো আর ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক র্যুটে। এছাড়াও ছিলেন প্রিন্সেস অ্যানি। ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায় ম্যাঁক্রো দেরিতে আসায় জনসন বলছেন, তোমার দেরী হলো কেনো? এর জবাবে ট্রুডো বলেন, তিনি মনে হয় ৪০ মিনিট ধরে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন! এই ভিডিওতে ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করা হলেও, বিশ^নেতাদের ইঙ্গিত ছিলো ট্রাম্পের দীর্ঘসময় ধরে সংবাদ সম্মেলনের প্রতি। এক পর্যায়ে ট্রুডে বলেন, ‘তোমরা দেখেছ, ম্যাঁক্রোর ব্যাপারে তিনি যখন কথা বলছিলেন, তার দলের লোকদের চোয়াল মাটির সঙ্গে ঘষা খাচ্ছিলো।’
ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোর সঙ্গে করা ট্রাম্পের দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলন নিয়ে মজা করেছেন নেতারা। এই ব্যাপারে ট্রাম্পের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি রাগে ফেটে পরেন। ট্রাম্প বলেন, ‘সে আসলে একজন দুমুখি ব্যক্তি। সে এই ধরণের মন্তব্য করেছে অস্তিরতা থেকে। কারণ আমি তাকে ন্যাটোতে আরও বেশি আর্থিক অবদান রাখতে বলেছিলাম। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলকে পাশে রেখে ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যকথা বলতে ট্রুডো একটা ভালো ছেলে। তাকে আমার ভালোই লাগে। কিন্তু তাকে আমি বলেছিলাম, সে দুই শতাংশ অর্থ দিচ্ছে না। মনে হয় না এটা তার ভালো লেগেছে। তার ২ শতাংশ দেয়া উচিৎ। কানাডার তো অনেক অর্থ রয়েছে। সে বুঝেই এগুলোকে গুরুত্ব দেয় না।’
এর আগে চলমান দ্বন্দের মধ্যেই স্বাক্ষাৎ করেন ন্যাটো নেতারা। ৩ ঘন্টার এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য ছিলো সাইবার নিরাপত্তা আর চীনের কারণে সৃষ্টি হওয়া কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। ৭০ বছর বয়সী সংগঠনটি সম্প্রতি বড় ধরণের দ্বন্দের মধ্যে জড়িয়েছে। একে অপরের সমালোচনা করতে ছাড়ছেন না শীর্ষ নেতারা।

উদ্বোধনী ভাসনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীবরিস জনসন সকল নেতাকে মনে করিয়ে দেন, ন্যাটোর নীতি একজন সকলের জন্য, সবলে একজনের জন্য। এর আগে মঙ্গলবার সম্মেলনের শুরুর দিনই বেশ কিছু বিষয়ে মার্কিন ও ফ্রেঞ্চ নেতাদের তিক্ত বাক্যবিনিময় হয়। শুরু থেকেই এই সম্মেলনে ঐক্যের ডাক দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আর তা বজায় থাকেনি। বিবিসির প্রতিরক্ষা করসপন্ডেন্ট জোনাথন বিয়ালে বলেছেন, ন্যাটোর নেতারা তাদের গভীর মতপার্থক্য লুকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে তিনি মনে করেন, ২৯ সদস্য রাষ্ট্রের এই জোটের ভবিষ্যত নিয়ে খুব একটা শঙ্কা নেই। তবে তুরস্ক কতোদিন এর সদস্য থাকবে, সে প্রশ্ন আছে বলে মনে করেন তিনি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত