প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রুনাইয়ে মানব পাচারের অভিযোগে ৫ বাংলাদেশীর পাসপোর্ট স্থগিত

মুকুল হায়দার: ব্রুনাইয়ে কয়েক হাজার শ্রমিক পাচারের সঙ্গে জড়িত ৫ বাংলাদেশী। সেখানে অবস্থান করে তারা একটি বড় চক্র গড়ে তুলেছে। অবশেষে তাদের পাসপোর্ট স্থগিত করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ব্রুনাইয়ের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে। সিনিয়র একজন কূটনীতিককে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সূত্র: মানবজমিন

ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশের হাই কমিশনার মাহমুদ হোসেন বলেছেন, শ্রমিকদের কাছ থেকে তিনি বার বার অনেক অভিযোগ পেয়েছেন। এসব অভিযোগে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ধনী দেশ ব্রুনাইয়ে উন্নত কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসব শ্রমিকের কাছ থেকে ওই চক্রটি হাজার হাজার ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্তু তাদেরকে ব্রুনাইয়ে নেয়ার পর সেই কাজ আর দেয় নি।

মাহমুদ হোসেন বলেছেন, যদিও ব্রুনাইয়ে কোনো কাজ নেই, তবু এই চক্রটি অধিক সংখ্যক মানুষ নেয়া অব্যাহত রেখেছে। এটা সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজগুলোর মতো। এর চেয়ে বড় কোনো অপরাধমূলক কর্মকান্ড থাকতে পারে না। তাই তাদের পাসপোর্ট স্থগিত করার বিরল উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার, যাতে তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানো হয় এবং ব্রুনাইয়ে যাতে তাদের কর্মকান্ড বন্ধ হয়।

বাংলাদেশের হাই কমিশনার বলেন, আমরা এসব ব্রোকারের বেশিরভাগকে দূতাবাসে ডেকেছি, যাতে সমস্যার সমাধান করা যায়। কিন্তু তারা আমাদের ডাকের তোয়াক্কাই করেননি। তারা আসেন নি। তাই তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে শক্তিশালী ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন বলে আমরা মনে করেছি। তাদেরকে আমরা দেখাতে চাই যে, তারা এসব অপরাধ অব্যাহতভাবে চালিয়ে যেতে পারেন না এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশীদের ব্রুনাইয়ে নেয়ার জন্য এজেন্টরা প্রায় ৪০০০ ডলার বা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। পরে তাদেরকে ব্রুনাই নেয়ার পর কোনো কাজই দিতে পারেন না। এমনকি তাদেরকে কাজ করতে হয় খুব কম মজুরিতে। এমনই একজন শ্রমিক হান্নান শিকদার (২২)। বাংলাদেশে ব্রোকারের দাবি করা অর্থ পরিশোধ করতে তিনি পারিবারিক সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। ভাল চাকরি দেয়া হবে এই প্রলোভনে পড়ে তিনি ব্রোকারের হাতে তুলে দিয়েছেন ৩৫০০ ডলার।

হান্নান শিকদার ব্রুনাই থেকে রয়টার্সকে বলেছেন, আমাকে বলা হয়েছিল যে, আমি এমন অর্থ উপার্জন করতে পারবো, যাতে প্রতি মাসে বাড়িতে ২৫ হাজার টাকা পাঠাতে পারবো। কিন্তু ব্রুনাই পৌঁছার পর এক সপ্তাহ কাজ করলাম। তারপর আমাকে কাজে যেতে মানা করা হলো। আমাকে আমার এজেন্ট বললেন, আমাকেই নতুন একটি কাজ খুঁজে নিতে হবে। তাছাড়া যদি মাসিক বেতনের একটি অংশ তার হাতে তুলে না দেই তাহলে আমাকে দেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেন। গত ৫ মাসে আমি মাত্র ৩৫০০০ টাকা বাড়িতে পাঠাতে পেরেছি। যদি বাংলাদেশে থাকতাম তাহলে এর চেয়ে অনেক বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারতাম।

উল্লেখ্য ব্রুনাইয়ে এখন প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশী রয়েছেন। এর বেশির ভাগই নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে, নিজস্ব ব্যবসায় নিয়োজিত। আর কিছু সংখ্যক মানুষকে বিপথে পরিচালিত করা হয়েছে। শ্রমিক রপ্তানিখাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। এখান থেকে শ্রমিক রপ্তানির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৭ সালে কমপক্ষে ১০ লাখ বাংলাদেশী বিদেশে গিয়েছেন কাজ নিয়ে। এটাই এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক শ্রমিকের দেশত্যাগ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ