প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যেসব রোডে রিকশা চলতো সেসব রোডে কি বিকল্প যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে?

শুভ কামাল : রিকশা যতো ধীর গতিরই হোক, রিকশা একটা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট। এরা এক যাত্রী নামিয়ে আরেক যাত্রী তোলে, সারাদিনে অনেক যাত্রী আনা নেয়া করে। বাংলাদেশে রিকশা স্বল্প দূরত্বের জন্য অনেকটাই অন্য দেশের রাজধানীর ট্যাক্সি ক্যাবের মতো। কিন্তু একটা প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ তিনজন যাত্রী নিতে পারে, হয়তো সারাদিনে দুইবারে গড়ে দুইজনকেই পরিবহন করে। অথচ দুই প্রকার যানই রাস্তায় সমান জায়গা দখল করে। কারের আগে-পিছে এক হাত করে খালি জায়গা রাখতে হয়, আর রিকশা একটা আরেকটার পেছনে ঠেকায়, তাই হিসেব করলে রিকশার চেয়ে প্রাইভেটকার রাস্তায় জায়গা বেশি নেয়। পৃথিবীর কোনো রাজধানীতেই প্রাইভেটকারবান্ধব আইন করে না। যেমন নিউইয়র্কে নিউজার্সি থেকে প্রাইভেটকার নিয়ে ঢোকতে ১৫ ডলার টোল দেয়া লাগে প্রতিবারে। ধরেন শহরে ঢুকে গেলেন, তখন পার্কিং করতেও প্রচুর টাকা দেয়া লাগে, তার উপর আবার পার্কিং পাওয়াও যায় না। তাই লোকে বাধ্য হয়েই পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করে, এতে শহরে জ্যাম কম হয়, শহরটা মোটামুটি সচল থাকে। এজন্যই মাঝে মাঝে দেখবেন নানা সুপারস্টাররাও অনেক সময়েই সাবওয়ে ট্রেন ব্যবহার করে।

ঢাকা শহরে যেসব আইন করা হয় সেসবই ব্যক্তিগত গাড়িবান্ধব, এসব ফ্লাইওভার বলেন আবার রিকশা বন্ধ করা বলেন সব উন্নয়ন বা আইনই ব্যক্তিগত গাড়ির সুবিধার কথা ভেবে বানানো। এতে করে লোকে প্রাইভেটকার বেশি কিনে, স্বল্প সংখ্যক লোক পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত যান রাস্তার বেশিরভাগ অংশ দখল করে রাখে। কেউ এটা নিয়ে কথা বলে না কারণ আইন দেশের প্রভাবশালী গাড়িওয়ালা লোকেরা বানায় এবং তারা সাধারণ লোকজন কিংবা বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে না, শুধু নিজেদেরটাই ভাবে। রিকশা বন্ধের বিরুদ্ধে প্রধান যুক্তি হচ্ছে, এতে করে সাধারণ মানুষেরা চলবে কীভাবে? যেসব রোডে রিকশা চলতো সেসব রোডে কি বিকল্প যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে? তেমন কিছু শোনা যায়নি।

দ্বিতীয়ত, এখন লোকে তিন লাখ টাকা হলেই গাড়ি কিনে ফেলবে, তখন এতো প্রাইভেট গাড়ির চাপ ঢাকার রাস্তা সামাল দিতে পারবে না, এখন প্রাইভেট গাড়ি যা আছে সেটাই সামাল দেয়ার ক্ষমতা ঢাকার নেই। অথচ উচিত ছিলো পাবলিক ট্রান্সপোর্টের উপর জোর দেয়া এবং প্রাইভেটকারকে নিরুৎসাহিত করা। এর একটা সহজ উপায় আছে। প্রাইভেটকারে সিএনজি গ্যাস সরবরাহ করা আইন করে বন্ধ করে দিলেই লোকে প্রাইভেট গাড়ি রাস্তায় নামাতে নিরুৎসাহিত হতো। তখন প্রতি লাইনে ভালো বাস দিলে সহজেই ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি হতো, কারণ সবাই তখন প্রাইভেটকারের বদলে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চড়তেই উৎসাহিত হতো। হোম পেজে দেখছি রিকশাহীন ঢাকায় মানুষের দুরবস্থার চিত্র। এ যেন সরকার পরিচালিত হরতালের মতো দুর্ভোগ। আইন শুধু গাড়িওয়ালাদের স্বার্থে হতে পারে না। এই আইনে গণমানুষের স্বার্থরক্ষা হয়নি। বৃহত্তর স্বার্থে, ঢাকাকে সচল রাখার স্বার্থে এখনই প্রাইভেটকারের ব্যবহারের উপর কড়াকড়ি আরোপ করা উচিত। নইলে এখন যাদের গাড়ি নেই তারা কাঁদছে, তখন জ্যামে বসে গাড়িওয়ালারাও কাঁদবে! ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত