শিরোনাম
◈ তিন বছর পর আইপিএলের নিলাম ফিরছে ভারতে, ডিসেম্বরে হবে ক্রিকেটারদের কেনাবেচার প্রতিযোগিতা ◈ জাতিসংঘ অধিবেশন: এবারও মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র ◈ ভারত থেকে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে ৪ হাজার টন ডিজেল এলো বাংলাদেশে ◈ র‍্যাব বদলে এসআরবি, সদস্যদের শাস্তির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে যা আছে ◈ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ‘শেষের দিকে’, তেহরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের দাবি ট্রাম্পের ◈ গরম নিয়ে স্বস্তির বার্তা, ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি ঝড়ের আভাস ◈ মার্কিন কংগ্রেসে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিল পাস, ১০০ শতাংশ রপ্তানি শুল্কের মুখে ভারত ◈ যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে আগস্টে বাংলাদেশের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি ◈ বন্যায় নিহতদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশ-নেপাল ‌টি-‌টো‌য়ে‌ন্টি সিরিজ আগামী মা‌র্চে ◈ দরপত্রের শর্ত শিথিল, সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি কিনবে সরকার

প্রকাশিত : ০১ জুন, ২০১৯, ১২:৩৩ দুপুর
আপডেট : ০১ জুন, ২০১৯, ১২:৩৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সোনাগাজী থানার সাবেক ওসির ভূমিকার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি টিআইবির

স্বপ্না চক্রবর্তী : নুসরাত হত্যা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে ফেনীর সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসির অব্যহতি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডকে পুলিশের ভূমিকা বিশেষ করে তৎকালীন ওসির দায়দায়িত্ব নিরূপণে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর পিবিআই উল্লেখযোগ্য তৎপরতার সাথে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দিলেও এর পরিপূর্ণতা ও বস্তুনিষ্ঠতা সম্পর্কে আমরা আশ্বস্ত হতে পারছি না। কারণ নুসরাত যৌনহয়রানির শিকার হওয়ার পর তার পরিবারের মামলা দায়েরের দিন থেকে তার ওপর নৃশংস হামলার পুরো সময়ে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসির প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার কথা গণমাধ্যমসূত্রে দেশবাসী জানতে পেরেছে। বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে ‘হত্যাকাণ্ডটিকে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা’ এবং ‘হত্যাকারীদের সুরক্ষা প্রদানে যোগসাজশের’ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এমন বাস্তববতায় অভিযোগপত্রে তাকে অব্যহতি দেওয়ার কোন যুক্তিগ্রাহ্য কারণ রয়েছে কি না, বা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হওয়ায় তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে কি না-সেই প্রশ্ন ওঠাটা অস্বাভাবিক নয়।”

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়াটা যথার্থ, তবে যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, ব্যক্তির পরিচয়ের কারণে এক্ষেত্রে ‘গুরু পাপে লঘু দণ্ড’ দিয়ে দায় সারার চেষ্টা হচ্ছে কি না এরূপ প্রশ্ন ওঠা অযৌক্তিক নয়। নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আইনকানুনের ধার ধারেননি ওসি । জিজ্ঞাসাবাদের যে ভিডিও এই পুলিশ কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন তাতে দেখা গেছে কোন নারী পুলিশ সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। একের পর এক বিব্রতকর প্রশ্ন করে তাকে রীতিমতো হেনস্থা করা হয়েছে। একদিকে নুসরাতকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করে বাস্তবে তার জন্য নির্যাতনকারীর সাথে যোগসাজশ করা হয়েছে ও অন্যদিকে তার অভিযোগকে ভিত্তিহীন প্রমাণের অপচেষ্টা হয়েছে।’

শুধু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সীমাবদ্ধ রাখা উক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বহুমুখী বিতর্কিত ভূমিকার একটি অংশকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে উলেøখ করে তিনি বলেন, একজন প্রভাবশালী যৌন নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে মামলা করার পর নুসরাতকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এমনকি মাদ্রাসার ছাদে তার হাত পা বেঁধে আগুন দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনাকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করেছেন ঐ পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া অভিযুক্তদের কয়েকজন পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করার কথাও বলেছে যেটা গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডকে কেবল মাত্র দায়িত্বে অবহেলা বলে চালিয়ে দেওয়া যাবেনা। বরং ঘটনার পরম্পরা বিবেচনায় নিলে উক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ঘাতকদের যোগসাজশের ও অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়াসের অভিযোগ অমূলক এমনটা বলার সুযোগ নেই।

নুসরাত হত্যাকাণ্ডকে স্থানীয় পুলিশ বাহিনী বিশেষ করে ওসি মোয়জ্জেমের ভূমিকা নিয়ে বিচার বিভাাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলছেন, দেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ভয়াবহ ও গভীরতম উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আইনের কঠোরতম প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোন সম্ভাবনা নেই। এমন অবস্থায় নুসরাতের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্তের বিকল্প নেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রযোজ্য বিভাগীয় পদক্ষেপে যথার্থ, তবে যথেষ্ট নয়। এই অপরাধে পুলিশ কর্মকর্তার দায় কতটুকু তা পরিপূর্ণ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে নির্ধারণ করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত না হলে, তা হবে এ ধরণের জঘন্য অপরাধকে সুরক্ষা ও প্রণোদনা দেওয়ার শামিল।

  • সর্বশেষ