প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানিকগঞ্জে পানিপড়ায় সব রোগ সারান তিনি!

সাজিয়া আক্তার : মানিকগঞ্জে চলছে পানিপড়া, তেলপড়া আর মলম দিয়ে পক্ষাঘাতসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যথা, মানসিক প্রতিবন্ধী, অস্ত্রপচার ছাড়া পাইলস রোগের চিকিৎসা। এই আধ্যাত্মিক ক্ষমতার দাবিদার বেলাল পাগলার গ্রামের লোক বলছে, অল্পদিনেই হয়েছে কোটিপতি, দেশজুড়ে রয়েছে তার রোগী সংগ্রহের এজেন্ট আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দাবি এসব প্রতারণা। সময় টিভি

ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, রক্ত পরীক্ষা, এক্সরে কিম্বা আলট্রাসনোগ্রামের দরকার নাই। সব চিকিৎসার নিশ্চিত সমাধান দিচ্ছেন মানিকগঞ্জের বেলাল পাগলা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোনো শিক্ষা বা স্বীকৃত সনদ তার নাই। মজার ব্যাপার হলো তার ও পরিবারের চিকিৎসা করান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছেই। কে এই অপচিকিৎসক। সরকারি বিআইডব্লিউটিএ’র চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বেলাল পাগলা চাকরি থেকে অবসরের পর বেছে নেন লাভজনক এই ব্যবসা।

বেলাল পাগলা বলেন, ‘যারা পক্ষঘাতগ্রস্ত রোগী আমি তাদের বেশি চিকিৎসা করি।’

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ গ্রামে চারপাশে প্রাচীর দিয়ে চার একক জমির উপর গড়ে উঠেছে বেলাল পাগলার দরবার শরিফ। আস্তানায় রয়েছে তেল,পানি আর মলম বিক্রির ২০টি দোকান। এছাড়াও টিকিট সংগ্রহের কাউটার, আর নারী ও পুরুষদের আলাদা হলঘরসহ রোগী দেখা স্থান, দ্বিতল একটি ভবন,ছোট আরও কয়েকটি ঘর। আর দরবারের পাশেই বড় একটি প্রাচীর দিয়ে তার বাড়ি। ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নানা যানবাহনে আসতে শুরু করে রোগীরা। এখানে ৩০ থেকে ১শ’ টাকায় বিক্রি হয় প্রতি বোতল পানি, তেল ও মলম।

সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে, আল্লাহর দোহাই দিয়েই প্রথমে রোগীসহ সকলকে মিলাদ পড়ানো হয়, মিলাদ শেষে চলে এ প্রতারকের নানা ভেলকিবাজি। আস্তানার কর্মীদের জড়ো করে চলে বন্দনা, কানে কানে কথা, আর চিকিৎসার নামে প্রতারণা আর কেরামতি। এর শিকার হচ্ছে দেশের সহজ-সরল সব শ্রেণিপেশার মানুষ।

দেশ জুড়ে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন বেলাল। তারা এসব রোগীদের সংগ্রহ ও আস্তানায় নিয়ে আসতে কাজ করছে। আর রোগী সংগ্রহে সবচে দক্ষকর্মী দরবার শরিফের বড় খাদেম হিসেবে পরিচিত।

হরগজ গ্রামের বাসিন্দা সাবেক সাটুরিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান ও গ্রামবাসী বলছে, দিন দিন বড় হয়ে উঠছে আস্তানা, মানুষের বিশ্বাসকে পূঁজি করে চলছে তার ব্যবসা, আর মলম, তেল ও পানি বিক্রিসহ এজেন্টের দিয়ে হাদিয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।

সাটুরিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আ খ ম নুরুল হক বলেন, ‘চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে গ্রামের প্রধান যারা আছেন তারা সবাই যদি কথা বলা শুরু করেন তাহলে মানুষ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবে।’

জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন হাসপাতালের সাথে জড়িত দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতি শুক্রবার এক থেকে তিন হাজার রোগী হরগজের এ আস্তানায় এসে প্রতারিত হচ্ছে প্রতিদিন ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ