প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র   

খালিদ আহমেদ : পরমাণু কার্যক্রম এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে আগে থেকেই টানাপড়েন চলছিলো। বাড়ছিল উত্তেজনার পারদ। এখন সে উত্তেজনায় বারুদ ঢালার মতো মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও যুদ্ধসরঞ্জাম মোতায়েন করা হচ্ছে। দিন কয়েক আগে রণতরী, গত শুক্রবার বি-৫২ বিমান এবং শনিবার প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কথা বলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।  বিবিসি।

দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উভচর যান ও উড়োজাহাজ পরিবহনে সক্ষম ইউএসএস আর্লিংটন শিগগিরই উপসাগরে থাকা অপর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে যোগ দেবে। এরই মধ্যে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি বি-৫২ বোমারু বিমান পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ওপর ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকি মোকাবেলায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে ইরান তাদের দিক থেকে হুমকির বিষয়টিকে ‘বাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে হস্তক্ষেপের লক্ষ্যে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ চালাতেই ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক অস্ত্র যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।

ইরানের জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা ইউসুফ তাবাতাবি-নেজাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নৌযান ইরানের কেবল একটি ক্ষেপণাস্ত্রেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।’

অবশ্য পেন্টাগনও বলেছে, তারা ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে চায় না। তবে ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এবং স্বার্থের সুরক্ষায় প্রস্তুত। তারা ইরানের ওপর কড়া নজর রাখছে।

শনিবার মধ্যপ্রাচ্যে যে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা মোতায়েন করা হচ্ছে, তা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অত্যাধুনিক জঙ্গিবিমানের সম্ভাব্য হামলা মোকাবেলায় বেশ কার্যকর বলেও আশ্বস্ত করেছে তারা। ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রত্যাহার করে নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে।

নিজেদের সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞাও পুনর্বহাল করেছে। ইরানের তেল রফতানি বন্ধে ক্রেতাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে তারা। ইরান বলেছে, তাদের তেল রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধা হয়ে দাঁড়ালে তারাও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে। হরমুজ দিয়েই মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ তেলবাহী জাহাজ ইউরোপ ও আমেরিকায় যায়।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে লাগার কারণও আছে যুক্তরাষ্ট্রের। ইরান এ অঞ্চলে তাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব ও ইসরায়েলকে চটিয়ে রেখেছে আগে থেকেই। ফলে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিন্তে যুদ্ধ শুরু করতে পারে। কারণ নিজের অঞ্চলেই বন্ধুহীন থাকবে ইরান। ইসরায়েল ও সৌদি আরব চায় ইরানের ওপর তাদের প্রাধান্য বজায় থাকুক।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেছেন, যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের মাধ্যমে ইরানের শাসকদের স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে। ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের ওপর যে কোনো আঘাত অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে মোকাবেলা করা হবে।

যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আর্লিংটন কবে উপসাগরে পৌঁছবে তার ধারণা পাওয়া যায়নি। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বৃহস্পতিবার সুয়েজ খালের ভেতর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত