প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে ইউসিসিএ কর্মচারীদের অবস্থান

নিউজ ডেস্ক: চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) মূল কর্মসূচির আওতায় ৪৯০টি উপজেলায় কর্মরত উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের (ইউসিসিএ) কর্মচারীরা।

৪৯০টি উপজেলার কর্মচারীদের ২০১২ সালের সরকারি সিদ্ধান্ত ৭ বছরেও বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ইউসিসিএ কর্মচারী ইউনিয়নের আয়োজনে অদ্য ২৯ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২য় দিনের মত অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন- ষাটের দশকে পল্লী উন্নয়নে কুমিল্লা মডেলের দ্বিস্তর সমবায় পদ্ধতি জাতীয় পর্যায়ে ‘সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচী (আইআরডিপি) হিসাবে চালু করা হয়। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে সফল কর্মসূচী হিসেবে আইআরডিপিকে সারা দেশে চালু করেন। যা পরবর্তী সময়ে দেশের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দ্বিস্তর সমবায় কাঠামোর আওতায় উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি (ইউসিসিএ)’র মাধ্যমে আইআরডিপি/বিআরডিবি’র চলমান প্রকল্পগুলোসহ এপর্যন্ত সরকারের ১১৪টি প্রকল্প/কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে । দ্বিস্তর সমবায় পদ্ধতির সফল বাস্তবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮২ সনে আইআরডিপিকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নরয়ন বোর্ডে (বিআরডিবি) রূপান্তরিত করা হয়। ১৯৭২ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত আইরডিপির ৩ জন কর্মকর্তা এবং টিসিসিএ/ইউসিসিএ কর্মচারীদের একই রাজস্ব খাত থেকে বেতন ভাতা প্রদান করা। দুঃখের বিষয় ১৯৮২ সালে বিআরডিবি গঠন হওয়ার পর থেকেই জাতীর জনকের সপ্ন বিলীন করার জন্য কুচক্রী মহল ইউসিসিএলিঃ এর কর্মচারীদের বেতন ভাতা সরকারি তহবিল থেকে বন্ধ করে দিয়ে উপজেলা পর্যয়ের ৩জন অফিসার সহ জেলা দপ্তর ও সদর দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের রাজস্ব বেতন ভাতা চালু করে।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) এর মূলকর্মসূচী ইউসিসিএলিঃ (উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিঃ) এর কর্মচারীদের রাজস্ব বাজেটে অন্তর্ভূক্তকরণের জন্য ২০০৮ সালের ৪২ তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত ও ২০১০সালের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠিতব্য বিআরডিবির ৪৪তম বোর্ড সভায় রাজস্ব করণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় এবং তা বাস্তবায়নের জন্য বিআরডিবির মহাপরিচালককে সভাপতি করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন হয় । উক্ত কমিটিকে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ হতে ৯/১২/২০১০খ্রিঃ তারিখে ইউসিসিএ কর্মচারীদের রাজস্ব করনের সুপারিশ সহ প্রতিবেদন দাখিলের অফিস আদেশ দেওয়া হয়। উক্ত কমিটি ১৫/০২/২০১২খ্রিঃ সালে ইউসিসিএ’র কর্মচারীদের রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ সহ প্রতবেদন দাখিল করেণ। উক্ত প্রতিবেদনের আলোকে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্ত্বে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সভা কক্ষ্যে ১১/০৪/২০১২খ্রিঃ তারিখের এক সভায় ইউসিসিএ কর্মচারীদের রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন ও যতদিন পর্যন্ত রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তর না হয় ততদিন পর্যন্ত ৭০% স্যালারী সাপোর্ট অব্যাহত রাখা সহ ৪টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অতীব দুঃখের বিষয় ৭ বছর অতিবাহিত হলেও রাজস্বকরনের কোন অগ্রগতি বিআরডিবি করতে পারেনি।

বর্তমানে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে ৪৭৮টি উপজেলায় বিআরডিবির মূলকর্মসূচী ইউসিসিএ লিঃ এর ২১৩০জন কর্মচারী ২ থেকে-৩ বছর ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছে না। উপজেলা পর্যায়ে বিআরডিবি’র মাত্র ৩ জন অফিসার ছাড়া কোন রাজস্ব বাজেটের ৩য়-৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নাই। অধিকাংশ উপজেলায় ইউসিসিএর কর্মচারীদের ২০১৫ জাতীয় বেতন স্কেল এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। সারাদেশে ৫৯ বছর শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীরা সহ অনেক কর্মচারীরা শূন্য হাতে অবসর গ্রহন করছেন। যা একটি সরকারি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে অমানবিক প্রথা। শ্রমিক কর্মচারীদের একটাই দাবি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত সফল কর্মসূচী দ্বিস্তর সমবায় কার্যক্রম চলমান রাখার স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিশ্ব মানবতার জননী, শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন যাতে দ্রুত বিআরডিবি’র মূল কর্মসূচি ইউসিসিএ’র কর্মচারীদের ২০১২ সালের সরকারি সিদ্ধান্ত চাকুরী জাতীয়করণ করাসহ ২০১২ থেকে সকল বকেয়া বেতন-ভাতাসহ সরকারী বিধি মোতাবেক অবসরজনিত সুবিধাদি নিশ্চিত হয় তাহার সুব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

অবস্থান কর্মসূচিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ দুলাল মিয়া। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ সভাপতি আঃ সহিদ, সহ সম্পাদক মো. সাচ্চু হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মো. শাকিল খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন আলী, প্রচার সম্পাদক মীর্জা মোকসেদুল আলম, সহ-প্রচার সম্পাদক মোঃ শাহীন, কার্যকরী সদস্য মীর ফজলুল হক, আবু বক্কর সিদ্দিকসহ বিভিন্ন জেলা কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত