প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি কি আবারও ভুল করতে যাচ্ছে?

মঞ্জুরুল আলম পান্না ; ৩০ এপ্রিলকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনের ¯œায়ু খানিকটা চাঙা হয়ে উঠেছে। বিএনপি তার রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গত ৩০ ডিসেম্বরের বিতর্কিত নির্বাচনে দলটির নির্বাচিতদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেয়ার আশঙ্কায় দারুণ এক অস্বস্তি। নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্যের মধ্যে একজন এরই মধ্যে শপথ নিয়েছেন। খুব স্বাভাবিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে কোনো সংশয় না থাকলেও বাকি চারজন রয়েছেন সন্দেহের দৃষ্টিতে।

যেহেতু সংসদের প্রথম বৈঠকের পর থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচিতদের কেউ শপথ না নিলে তার সংসদ সদস্য পদ খারিজ হয়ে যাওয়ার বিধান রয়েছে সেহেতু সঠিক একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আগামী দুই দিন বিএনপির জন্য একটা কঠিন সময়। বিএনপি মহাসচিব শপথের জন্য তাদের সংসদ সদস্যদের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে চাপ থাকার কথা বললেও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সে ধরনের কোনো চাপ দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আর যদি সে ধরনের কোনো চাপ থাকেও বুর্জোয়া রাজনীতিতে সেটি স্বাভাবিক বলেই ধরে নেয়া যায়।

বিএনপি মনে করছে, তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিলে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে বৈধতা দিয়ে দেয়া হবে। বাস্তবতা কি বলছে? তারা শপথ না নিলেও কি ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারকে কোনোভাবে দুর্বল করতে পারছে বিএনপি? খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে কি বৃহত্তর সমর্থক গোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে পারছে? নেতাকর্মীদের মনোবলকে চাঙা করতে পারছে? এর সব কটির উত্তর নিঃসন্দেহে ‘না’।

বরং নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি দলীয়ভাবে সংসদে গেলে যা হতে পারে তা হলো- এক. একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি কিংবা কারচুপির যেকোনো অভিযোগ এবং প্রমাণপত্র সংসদে তুলে ধরার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দৃষ্টি আকর্ষণ করাটা সহজ হতে পারে। দুই. খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে তাদের কণ্ঠকে উচ্চকিত করতে পারে। তিন. সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিতরা দেশের বাইরে আন্তঃসংসদীয় বিভিন্ন ফোরামেও তাদের কথা তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

আর নির্বাচিতদের শপথ না নেয়ার বিষয়ে দলটির সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকলে কি হতে পারে? এক. অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দলীয় সিদ্ধান্তকে অমান্য করে মির্জা ফখরুল বাদে অন্যরা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শপথ নিয়ে নেবেন। এতে করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দুর্বলতা প্রকাশ পাবে আবারও। দুই. টানা দশ বছর সংসদে কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির অস্তিত্ব আরও বেশি হুমকির মুখে পড়বে। তিন. সর্বোপরি শুধু নিজেদের লাভালাভের হিসেবে না থেকে জনগণের কথা কিছুটা হলেও সংসদে তুলে ধরতে পারলে মানুষের আস্থা অর্জন কিছুটা হলেও সম্ভব হবে তাদের জন্য, যেটা খুবই জরুরি। বিএনপির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল ছিলো ২০১৪-এর নির্বাচনে অংশ না নেয়া।

অনেক দেরিতে উপলব্ধি থেকে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েও বিএনপি ঘুরেফিরে আবারও সেই একই অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বিএনপি সংসদে গেলে সরকারের নিশ্চয় লাভ, আবার সংখ্যায় মাত্র ছয়জন নিয়ে হলেও সংসদে গেলে বিএনপির লাভ ছাড়া ক্ষতির কিছু নেই। লেখক : সাংবাদিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত