প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নে আর কতো বছর লাগবে? : নূরুননবী শান্ত

স্মৃতি খানম : গল্পকার, অনুবাদক, উন্নয়নকর্মী নূরুননবী শান্ত বলেছেন, বহুকাল ধরে শোনা যাচ্ছে, রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে সরকার প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। আরও কতো বছর লাগবে সেসব প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নে? রংপুর বিভাগের দিনমজুর সস্তায় কেনা যায় বলে দেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে তাদের বিরাট সুনাম। এই সুনাম নিয়ে তারা তো দেশের বাইরেও শ্রম বিক্রি করতে যেতে পারতো। কিন্তু এ অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের কাছে বিদেশে কাজ করতে যাওয়া সম্পর্কে কোনো তথ্যই নেই। জনগণের দক্ষতা বাড়ানোর কতো কর্মসূচিই না আছে সরকারের। আরেকটু সচ্ছল জীবনের জন্য হাপিত্যেশ করা উত্তরবঙ্গের জনগণ সেসব কর্মসূচির খবরও পায় না। সূত্র: সমকাল
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ আয় ও ব্যয় খানা জরিপ এবং দারিদ্র্য মানচিত্র প্রতিবেদনে (রিপোর্ট ২০১৮) দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দরিদ্র্য রংপুর বিভাগে। বলা হয়েছে, উত্তরবঙ্গের একটি অংশে নতুন করে দারিদ্র্যের তীব্রতা ফিরে এসেছে। ওদিকে বিশ্বব্যাংক মন্তব্য করেছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি গরিব পরিবারের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে না। এও এক প্রতিউন্নয়ন ধাঁধা! মঙ্গা দূর হয়েছে, অথচ দারিদ্র্য বাড়ছে! বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির হার এমনিতেই কম, উত্তরাঞ্চলে বিনিয়োগ একেবারেই নেই। তাই ২০১০ সালে যেখানে রংপুর বিভাগে ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ গরিব ছিল, ২০১৬ সালেই সেটা পৌঁছায় ৪৭ দশমিক ২ শতাংশে। কুড়িগ্রাম জেলার দারিদ্র্যের হার ৭১ শতাংশ। বিবিএস জানাচ্ছে, আয় বেড়েছে ধনীদের, দরিদ্রদের বাড়েনি, বরং কমেছে। সাধারণ মানুষ হতাশায় নুয়ে পড়েছে। দারিদ্র্য দূরীকরণে উত্তরবঙ্গের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে, কিন্তু তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেই, বিনিয়োগ নেই, গ্যাস নেই, শিল্পায়ন নেই, বাণিজ্যিক কৃষির সম্প্রসারণ নেই, এখানকার তারুণ্যকে দক্ষ করে তোলার বিশেষ কর্মসূচি নেই। ফলে এরা শ্রম বিক্রি করতে দেশের উন্নত অংশে যাবে, এখানকার পারিবারিক শৃঙ্খলায় বিপর্যয় তৈরি হবে, এরা মরে গেলে বড়জোর পরিবারপ্রতি অর্থ সহায়তা পাবে, গরিবের মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট পরিবার ছাড়া কেউ কাঁদবে না। পরিবারের সদস্যদের কান্নাতেও মৃতের প্রতি কোনো ভালোবাসা থাকবে না। কেবল এই অসহায় আর্তনাদটুকু থাকবে- ‘হামার এলা সংসারের খরচ চালাবে কায়?’ এ পরিস্থিতিকে নীরব মঙ্গা ছাড়া আর কী বা বলা চলে! মঙ্গা মানে কী আসলে খাদ্যাভাব? আমাদের শৈশবে যখন ঈদের জামা কিনতে যেতাম, যে জামাটা পছন্দ হতো অথচ কিনতে পারতাম না, সেটাকেই খুব ‘মঙ্গা’ বলা হতো। মাংস কেনা হতো না, মাংস ‘মঙ্গা’ বলে। মঙ্গা অর্থ বাজারে আছে, কিন্তু ভোক্তার সামর্থ্যে নেই। উত্তরবঙ্গের গরিব মানুষের কাছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, মর্যাদা- সবই খুব মঙ্গা। সস্তা কেবল জীবন। একটা জীবনের দাম মাত্র বিশ হাজার টাকা!

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত