প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বার্সেলোনায় মেসিকে কে কত গোল বানিয়ে দিয়েছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : বার্সেলোনার মূল দলের হয়ে লা লিগায় লিওনেল মেসির অভিষেক ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর। সেই থেকে কতজনের সঙ্গেই তো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন। গড়ে তুলেছেন জুটি। কিন্তু সবার সঙ্গেই জুটিটা সমান জমেছে? উত্তর, না। সবার সঙ্গেই বোঝাপড়াটা সমান হয় না। সবাই সবার মনের ভাষা, চোখের ভাষা সমান বুঝতে পারে না। যারা ভালো বুঝতে পারেন, তাদের সঙ্গেই জুটিটা জমে ওঠে।

দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে শতজনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেললেও তাই মেসির সেরা জুটি গড়ে উঠেছে হাতে গোনা কয়েকজনের সঙ্গে। চোখের ভাষা বুঝে যারা মেসিকে গোল করায় সহায়তা করেছেন সবচেয়ে বেশি।

মনের কোণে নিশ্চয়ই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে, মেসির সেরা জুটি গড়ে উঠেছে কার কার সঙ্গে? সেরা জুটির প্রসঙ্গে প্রথমেই চলে আসে রোনালদিনহোর নাম। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির সঙ্গেই অন্তরঙ্গ জুটি গড়ে ওঠে মেসির। মেসির সেরা পার্টনারের তালিকায় এর পরের নামগুলো দানি আলভেস, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, লুইস সুয়ারেজ, নেইমার এবং জর্ডি আলবা।

পরিসংখ্যান বলছে, ক্যারিয়ারে বানের মতো গোল করায় মেসিকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছেন এঁরা। এদের নিখুঁত পাসেই রাশি রাশি গোল করতে সক্ষম হয়েছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। রোনালদিনহোর সঙ্গে মেসি জুটি বেঁধে খুব বেশি দিন খেলার সুযোগ পাননি। তিনি যখন কলি থেকে ফুল হয়ে ফুটতে শুরু করেছেন, তার কিছুদিন পরই বার্সেলোনা ছাড়েন রোনালদিনহো। স্বাভাবিকভাবেই গোল করায় মেসিকে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট-কারিদের তালিকায় রোনালদিনহোর নামটি নেই।

তবে যত দিন জুটি বেঁধে খেলেছেন, ‘লিটল ব্রাদার’ মেসির সঙ্গে রোনালদিনহোর বোঝাপড়াটা ছিল দারুণ। বিশেষ করে রোনালদিনহো বল পেলেই পাস বাড়াতেন অতি পছন্দের ‘লিটল ব্রাদার-এর দিকে। ছোট্ট মেসিকে রোনালদিনহো আদর করে ‘লিটল ব্রাদার’ বলেই ডাকতেন। রোনালদিনহো ঠিক মেসিকে কতটি অ্যাসিস্ট করেছেন, সেটিও জানা যায়নি। তবে বার্সেলোনার মূল দলের হয়ে মেসি ক্যারিয়ারের প্রথম যে গোলটি করেছেন, সেটি বানিয়ে দিয়েছিলেন এই রোনালদিনহোই। ক্যারিয়ারের সেরা এবং স্মরণীয় গোলের প্রসঙ্গ উঠলে এখনো সেই গোলটির কথাই বলেন মেসি।

যাই হোক, মেসির সেরা জুটির পার্টনারদের নাম তো জানাই গেছে। এবার জেনে নেওয়া যাক, এদের মধ্যে কে কতটি অ্যাসিস্ট, মানে গোল বানিয়ে দিয়েছেন মেসিকে। মেসিকে অ্যাসিস্ট করার তালিকায় সবার ওপরে লুইস সুয়ারেজ। বয়সে সমসাময়িক বলেই কিনা উরুগুইয়ান এই ফরোয়োর্ডের সঙ্গে মেসির বোঝাপড়াটা দারুণ। অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বের কারণে একে অন্যের মনের ভাষা, চোখের ভাষাটাও বুঝতে পারেন দারুণ।

তারই প্রতিফলন ঘটছে মাঠের খেলায়। সুয়ারেজ মাত্র ৪ বছর হলো বার্সেলোনায়। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ৪৬টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন মেসিকে। মানে মেসির ৪৬টি গোলে সুয়ারেজের প্রত্যক্ষ অবদান। ভাবা যায়!

এর পরের নামটি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। বর্ষিয়ান এই মিডফিল্ডার গত মৌসুমে বার্সেলোনা ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন জাপানি ক্লাব ভিসেল কোবেতে। তার আগ পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর মেসির সঙ্গে জুটি বেঁধে খেলেছেন। বোঝাপড়াটাও ছিল দুর্দান্ত। মাঝমাঠ থেকে ইনিয়েস্তা বেশির ভাগ পাসই বাড়াতেন মেসির উদ্দেশ্যে। সব মিলে তিনি মেসির ৪৪টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন।

সফল জুটি গড়তে মনের ভাষা, চোখের ভাষা বোঝাটা যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ, তালিকার ৩ নম্বর নামটিই বলে দিচ্ছে সেটি। সুয়ারেজ মেসির মতোই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। ইনিয়েস্তা মিডফিল্ডার। মানে তারা মাঠে কাছাকাছি জায়গাতেই খেলেন। ফলে বল দেওয়া-নেওয়াটা হয় সব সময়। কিন্তু চোখের ভাষা বুঝলে একজন ডিফেন্ডার হয়েও যে আক্রমণভাগের একজনের সঙ্গে অবিশ্বাস্য জুটি গড়ে তোলা যায়, তার জ্বলন্ত প্রমাণ দানি আলভেস।

একজন ডিফেন্ডার হওয়া সত্ত্বেও এই ব্রাজিলিয়ানের সঙ্গে আক্রমণভাগের মেসির মধ্যে গড়ে উঠেছিল অসাধারণ জুটি। আলভেস চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারতেন, কোন দিকে পাস বাড়ালে মেসি অনায়াসে গোল করতে পারবেন। ফলে ডিফেন্ডার আলভেসের বেশির ভাগ পাশই খুঁজে নিত মেসিতে। ফল, তিনি মেসিকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪২টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন!

তালিকার ৪ নম্বর নামটি জাভি হার্নান্দেজের। ২০১৫ সালে বার্সেলোনা ছাড়ার আগ পর্যন্ত তিনি মেসিকে মোট ৩৪টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। যার একটি অ্যাসিস্ট ছিল ২০০৯ সালের উয়েফা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে। রোমের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে জাভির পাস থেকেই হেড করে গোলটি করেন মেসি। আর্জেন্টাইন তারকা মূলত হেডে দুর্বল। মাথা দিয়ে ক্যারিয়ারে কম গোলই করেছেন তিনি। তবে সেদিন জাভি মেসিকে দেখে এমনভাবে বল লভ করেন, মেসি অনায়াসেই হেড করে বল জড়িয়ে দেন জালে।

রোনালদিনহো, দানি আলভেসের পর ন্যু-ক্যাম্পে আরেক ব্রাজিলিয়ানের সঙ্গেও দারুণ জুটি গড়ে উঠেছিল মেসির। তিনি নেইমার। মেসি, সুয়ারেজ, নেইমার মিলে গড়ে তুলেছিলেন ভয়ঙ্কর এক আক্রমণ ত্রয়ী। যার নাম দেওয়া হয়েছিল—এমএসএন। নেইমার ঠিক কতটি অ্যাসিস্ট মেসিকে করেছেন, সংখ্যাটা জানা যায়নি। তবে ২০১৭ সালে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত মেসির সঙ্গে কার্যকর জুটিই গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দানি আলভেসের মতো আরও একজন ডিফেন্ডারের সঙ্গেও অবিশ্বাস্য জুটি গড়ে উঠেছে মেসির। তিনি স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জর্ডি আলবা। নেইমার থাকাকালে জর্ডি আলবা শুধু রক্ষণেই পড়ে থাকতেন। তার ঠিক উপরে খেলতেন নেইমার। ফলে তিনি পাস বাড়াতেন নেইমারকে, নেইমার মেসিকে।

কিন্তু নেইমার চলে যাওয়ার পর জর্ডি আলবার সঙ্গে মেসির যোগাযোগটা এখন সরাসরি। রক্ষণ থেকে উপরে আলবা বেশির ভাগ পাশই দেন মেসিকে। নিখুঁত সেই পাস থেকে মেসিও অনায়াসেই করছেন গোল। এরই মধ্যে মেসির ২০টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন জর্ডি আলবা। তাদের জুটিটা যেহেতু চলমান, জর্ডি আলবার অ্যাসিস্ট সংখ্যা সামনে আরও বাড়বে, সেটা অনুমিতই।

সর্বাধিক পঠিত