প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘পুলিশ টাকা চাইলেই আমাকে ফোন দেবেন’

মঞ্জুর আহমেদ অনিক: সাধারণ নাগরিকের সার্বিক সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

সোমবার দুপুরে পুলিশ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে জেলা পুলিশের বর্ণাঢ্য র‍্যালি শেষে শহীদ মিনারে সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন পুলিশ সুপার।

পুলিশ আর কোনো ফোর্স নয়, পুলিশ একটি সার্ভিস উল্লেখ করে হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা জনগণের সেবা দেবো, জনগণের যেন কোনো কারণেই কষ্ট না হয়। সে কষ্টের বিষয়গুলো আমরা খুঁজে বের করব এবং আমরা সেই কাজগুলো করব। আজকে সাধারণ মানুষ যে মাদকাসক্ত হচ্ছে, রাস্তাঘাটে চলাফেরা করতে পারছে না। সাধারণ মানুষ থানায় গেলে জিডি করতে সময় লাগছে, মামলা করতে দেরি হচ্ছে, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট… বিদেশ যাবে, দেরি হচ্ছে। সেগুলো কারণে আজকের বাংলাদেশ পুলিশ আগের তুলনায় অনেক সচেতন হয়েছে।’

‘এই শহীদ মিনারে আমরা আজ থেকে এক মাস আগে ঘোষণা করেছিলাম যে, আমরা জনগণের সেবা দিতে চাই। আমরা যানজট নিরসনের কথা বলেছিলাম। আমরা এই চাষাঢ়া মোড়, আশপাশের এলাকায়, বঙ্গবন্ধু সড়ক এবং এসপি-ডিসি অফিস পার হয়ে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড পর্যন্ত আমরা চাচ্ছি যে, গাড়িগুলো চলাচল করবে। এবং আপনারা দেখেছেন যে, এসব রাস্তায় গাড়ি চলতে পারত না, রাস্তাগুলো দখল করে নিত হকাররা। আমরা হকার ভাইদের বলেছি, যে রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করবে, গাড়ি চলাচল করবে সে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না। হকার ভাইদের ধন্যবাদ জানাই, তারা কিন্তু আমাদের কথা রেখেছেন। এই রাস্তাগুলোর মধ্যে এখন তারা বসেন না। এবং সেই কারণে আমার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যানজট সৃষ্টি করে এমন কিছু বরদাশত করা যাবে না,’ বলেন পুলিশ কর্মকর্তা।

হারুন অর রশিদ আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে একটা বিষয় লক্ষ করা যায়, বিশেষ করে গার্মেন্টগুলোতে কিছু অসাধু লোক রয়েছে, কিছু মাস্তান চক্র রয়েছে, যারা ওই এলাকায় সরকারিদলের নাম ভাঙিয়ে তারা কিছু গার্মেন্টস থেকে মাল লুট করে নিয়ে যায়, জোর করে নিয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে আমরা বলেছি, গার্মেন্টসের মালিক যাকে মাল দেবেন, ঝুট দেবেন সে মালটি নেবেন। তার কাছ থেকে জোর করে ছিনিয়ে মালামাল নিয়ে, আজকে শিল্পকারখানার মালিককে রাস্তায় বসিয়ে দেওয়ার কাজ, আমাদের কাছে যদি কমপ্লেইন আসে আমরা তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব। আমাদের অ্যাকশন অলরেডি শুরু হয়েছে। আমরা যেখান থেকে কমপ্লেইন পাচ্ছি যে, কোন কোন গার্মেন্ট থেকে মাল জোর করে নিয়ে যায়, কোন কোন গার্মেন্টস চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে, কমপ্লেইনগুলো আমরা নিচ্ছি। যদি আপনাদের জানা থাকে, আপনারা সেটাও আমাদের জানাবেন।’

এ ছাড়া যেসব ভূমিদস্যু নিরীহ মানুষের জমি দখল করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন এসপি হারুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. নূরে আলম, মো. ফারুক হোসেন, সুভাস সাহা ও মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম, ডিআইও-২ মো. সাজ্জাদ রোমনসহ জেলা পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত