প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবারো লড়াইয়ে নামছেন খালেদার আইনজীবীরা

এস এম নূর মোহাম্মদ : কিছুটা বিরতি দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আবারও আইনী লড়াইয়ে নামছেন তার আইনজীবীরা। প্রস্তুত রয়েছে দুদক এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও। এর আগে এসব মামলায় লড়াই চালালেও চ‚ড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। তাই ৭ মামলায় আবার শুনানি করতে হবে তাদের। এবার এসব মামলার চ‚ড়ান্ত নিষ্পত্তি হলে তার মুক্তি আইনগত কোন বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, এসব মামলা দ্রতই নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছি। আর এগুলো নিষ্পত্তি হলে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কোন বাধা থাকবে না বলেও জানান তিনি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আপিল শুনানি হতে পারে চলতি সপ্তাহে। দুদক আবেদন করলে আদালত শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবেন। এর আগে এ মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া চার মাসের জামিন বহাল রেখে আপিল বিভাগ গত ১৬ মে রায় দেন। রায়ে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে খালেদা জিয়ার করা আপিল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে হাইকোর্টকে।

কুমিল্লার নাশকতা ও হত্যা মামলা : কুমিল্লার নাশকতা ও হত্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিতের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর আজ শুনানি হবে। আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় মামলাটি দুটি ৯ ও ১০ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। এর আগে গত ৩১ মে এ দুই মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন ২৪ জুন পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন আপিল বিভাগ। এ সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত আপিল আবেদন করতে বলা হয়। তার আগে ২৮ মে খাদেলা জিয়াকে ছয় মাসের অন্তর্বতীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। তবে পরের দিন রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে জামিন স্থগিত করে আদেশ দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত।

ঢাকায় মানহানির দুই মামলা : ঢাকায় মানহানির দুই মামলায় হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের বিষয়ে আপিল বিভাগে শুনানি হবে আগামী কাল। গত ১১ জুন শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করা হয়। এর আগে এ দুই মামলায় জামিন চাইলে হাইকোর্ট শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেন। সেইসঙ্গে খালেদা জিয়ার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেন। পরে হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করলে চেম্বার বিচারপতি ২৫ জুন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। আর এ দুই মামলায় জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য বিচারিক আদালতে ৫ জলাই দিন ধার্য রয়েছে।
কুমিল্লার নাশকতার মামলা : কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদা জিয়াকে জামিন নিতে হবে। এ মামলায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন দ্রæত নিষ্পত্তি করতে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২০ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে বাসে দুষ্কৃতিকারীদের ছোড়া পেট্রোল বোমার ঘটনায় ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রæয়ারি পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করে। কুমিল্লার আদালতে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে ৮ আগস্ট পরবর্তী দিন ধার্য রাখা হয়। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জামিনসহ আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া।

নড়াইলের মানহানি মামলা : নড়াইলে দায়ের করা মানহানির মামলায়ও খালেদা জিয়াকে জামিন নিতে হবে। গত ৫ জুন নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ শেখ আব্দুল আহাদ এ মামলায় খালেদার জামিন আবেদন নাকচ করে বলেছেন, হাকিম আদালত জামিন প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগেই জজ আদালতে আসায় ওই আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। এই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনে বিচারিক আদালত আদেশের জন্য ৩০ আগস্ট দিন রাখেন। তবে তার আগেই খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা ২০ মে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২৮ মে ওই আবেদন উপস্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন। এদিকে ওই ৭ মামলার বাইরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য ২৮ জুন দিন ধার্য রয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত এ মামলায় জামিনে রয়েছেন খালেদা জিয়া। এছাড়া গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির করতে জারি করা প্রডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করেছেন আদালত। গত ১৪ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ ও ২ পৃথকভাবে এ পরোয়ানা প্রত্যাহার করেন।

প্রসঙ্গত, এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়। একইসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে দণ্ড দেন বিচারিক আদালত। ১৯ ফেব্রুয়ারি রায়ের সার্টিফায়েড কপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল করেন খালেদা জিয়া। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধিতে দুদক আবেদন করলে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এছাড়া ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল এবং ব্যবসায়ী শরফুদ্দিনও হাইকোর্টে আপিল করেন।