প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একই নূন্যতম মজুরি বছরের পর বছর!

ডেস্ক রিপোর্ট : মাসিক মূল মজুরি ৫৬০ টাকা। বাড়িভাড়া ১১২ টাকা। চিকিৎসা ভাতা ১০০ টাকা। যাতায়াত ভাতা ২০ টাকাসহ মোট মজুরি ৭৯২ টাকা। পেট্রোল পাম্পের একজন শ্রমিকের এই হচ্ছে সর্বশেষ ঘোষিত নূ্যনতম মাসিক মজুরি। শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ এ খাতের শ্রমিকদের নূন্যতম  মজুরি নির্ধারণ করে ১৯৮৭ সালে। শ্রম আইনে প্রতি ৫ বছর অন্তর মজুরি পুনর্নির্ধারণ করার নিয়ম থাকলেও তা হয়নি। মজুরি বোর্ডের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি পেট্রোল পাম্পের শ্রমিক শাহাব উদ্দিন সরকার তাদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নূন্যতম মজুরির তুলনায় বেতন বেশি পান তিনি। তবে বেতন বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করলেই সরকার নির্ধারিত পরিমাণের উদাহরণ দেন মালিক। পেট্রোল পাম্পের শ্রমিকদের চাইতে আরও কম মজুরি নির্ধারণের রেকর্ডও গড়েছে মজুরি বোর্ড। টাইপ ফাউন্ড্রি শিল্পের শ্রমিকদের সাকল্যে মাসিক মজুরি ধরা হয়েছে ৫২১ টাকা। অবশ্য মুদ্রণশিল্পের সঙ্গে এ পেশাটি বিলুপ্তপ্রায়। ১৯৮২ সালে এ মজুরি নির্ধারণ করে সরকার।

এত কম পরিমাণের নূন্যতম মজুরি থাকার কারণ জানতে চাইলে মজুরি বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলাম  বলেন, ‘বিষয়গুলো আমার দেখতে হবে। না দেখে কিছু বলা যাবে না। দেখে হয়তো পরে বলতে পারব।’

বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের নূ্যনতম মজুরি নির্ধারণে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান স্থায়ী নিম্নতম মজুরি বোর্ড শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বতন্ত্র একটি সংস্থা। একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মালিক এবং শ্রমিক পক্ষের একজন করে প্রতিনিধি এবং একজন নিরপেক্ষ সদস্য থাকেন বোর্ডে। কোনো শিল্পে মজুরি নির্ধারণের প্রয়োজনে অস্থায়ী ভিত্তিতে ওই শিল্পের একজন করে মালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধি নিয়ে অস্থায়ী মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়।

মজুরি বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত শ্রমিক কিংবা অন্য কোনো পক্ষের চাপে সংশ্নিষ্ট শিল্পের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। বোর্ড সব পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠায়। এর ভিত্তিতে সরকার মজুরি নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে। সাধারণত চাপ না থাকলে মজুরি বোর্ড গঠন করে না সরকার। পেট্রোল পাম্পও এরকমই একটি শিল্প। ১৯৮৭ সালে একবার নির্ধারণের পর এ শিল্পে আর মজুরি পর্যালোচনা করা হয়নি। মজুরি বোর্ডের তালিকায় এরকম অন্তত ১০টি পেশা রয়েছে যে সব শিল্পের মজুরির পরিমাণ অতি সামান্য।

অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ শ্রমিকদের নূ্যনতম মজুরি ২৪৫০ টাকা। ২০০৯ সালে সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠন করা হয় এ শিল্পে। এ খাতে নতুন মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে ৪২টি শিল্পে নূন্যতম মজুরি ঘোষণা করেছে মজুরি বোর্ড। তবে ঘোষিত নূন্যতম মজুরিও শতভাগ বাস্তবায়ন হয় না। মজুরি নিয়ে এ অনিয়মের অভিযোগ এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে গত এক বছরে ৮০০টি মামলা করেছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)।

সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সর্বশেষ কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদনে মজুরি না দেওয়া, শিশুশ্রমের অস্তিত্বসহ অনেক অনিয়ম পেয়েছেন। তবে গত বছরের তুলনায় অনিয়মের হার কিছুটা কমে এসেছে। তার মতে, প্রাতিষ্ঠানিক খাতসহ অনেক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত এখনও নূ্যনতম মজুরি নির্ধারণের বাইরে রয়ে গেছে। এ রকম শিল্প এবং সেবা খাতের সংখ্যা অন্তত ৫৫টি।

বাংলাদেশ লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ  বলেন, জাতীয়ভিত্তিক নূন্যতম মজুরি নির্ধারিত থাকলে মজুরি নির্ধারণে অধিক যুক্তিপূর্ণ হতো। যেমন, দেশে ছোট ছোট অনেক অসংগঠিত খাত আছে যেখানে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করছেন।

এক বছরে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭৪৮ শ্রমিকের :দেশে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফোরামে অনেক কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বড় শিল্প হিসেবে তৈরি পোশাকের বাইরে অন্য শিল্প ও সেবা খাতে দৈন্যদশা কাটেনি। গত এক বছরে (২০১৭) কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন এক হাজার ২৬৫ শ্রমিক। এর মধ্যে মারা গেছেন ৭৪৮ শ্রমিক। বাকি ৫১৭ জন আহত হয়েছেন।

নিহতের মধ্যে চেয়ে সর্বাধিক ৩০৭ জন শ্রমিক মারা গেছেন পরিবহন খাতে। নির্মাণ শিল্পে ১৩১ এবং ৫৫ জন দিনমজুর মারা গেছেন। পোশাক খাতে গত বছর দুর্ঘটনায় ১৬ শ্রমিক মারা গেছেন। বিলসের জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বিলসের তথ্য মতে, এর বাইরে সহিংসতায় প্রাণ গেছে ২৫৮ শ্রমিকের। নিখোঁজ রয়েছেন ২৭ শ্রমিক। বকেয়া মজুরি আদায়, শ্রম অধিকার প্রশ্নে সহিংসতা এবং শ্রম অসন্তোষ হয়েছে। এ সূচকে দায় বেশি পোশাক খাতের। গত বছরের ১৮১টি শ্রম অসন্তোষের ৯১টি ঘটেছে পোশাক খাতে। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত