প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজও সারাদেশে বজ্রপাতে নিহত ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : কালবৈশাখী ও বজ্রপাতের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত সাতজন। নিহতদের মধ্যে চারজনই নারায়ণগঞ্জের। জামালপুর, মৌলভীবাজার ও রাজশাহী জেলায় মারা গেছেন দুইজন করে। মৌলভীবাজারের একজন ওমানে চাকরি করতেন। সম্প্রতি তিনি ছুটিতে দেশে আসেন।

সোমবার দুপুরে ঝড়ের সময় বজ্রপাত হলে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের অধিকাংশ ঝড়-বৃষ্টির সময় ক্ষেতে ধান কাটছিলেন। দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলায় তিনজন ও সোনারগাঁ উপজেলায় একজনের মৃত্যু হয়। নিহত চারজনের মধ্যে তিনজন কৃষক।

রূপগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, সোমবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের টাওড়া গ্রামের নূরুল হকের ছেলে কৃষক রফিকুল ইসলাম (৩৪) ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান। তার সঙ্গে থাকা কামাল মোল্লার ছেলে হাশেম মোল্লা (৪০) গুরুতর আহত হন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রফিকুন নাহার বলেন, বজ্রপাতে আহত হাশেম মোল্লাকে গুরুতর অবস্থায় এলাকাবাসী নিয়ে এলে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

মৌলভীবাজারে নিহত ২ জনের মধ্যে একজন ওমানে চাকরি করতেন। সম্প্রতি তিনি ছুটিতে দেশে আসেন। এছাড়া এ জেলায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আব্দুস সোবহান জানান, সোমবার বেলা ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাখাইছড়া চা-বাগানে পাশে আনারস বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাত হয়।

এতে আহত হন কিশোর গোয়ালা (২০), দিপেন সবর (২৫), রাখাল সবর (২৭) রিপন ভুঁইয়া (১৮) ও অজয় গোয়ালা (২২)।

তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রিপন ও অজয় গোয়ালাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর সময় রাস্তায় অজয় মারা যান বলে চিকিৎসক আব্দুস সুবহান জানান।

এছাড়া কমলগঞ্জের আদমপুর ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামের হাজী আব্দুল মতলিবের ছেলে তমিজ উদ্দীন (২৫) বজ্রপাতে মারা গেছেন।

আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন বলেন, তমিজ মধ্যপ্রাচ্যের ওমানে চাকরি করতেন। কিছুদিন আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন।

সোমবার বেলা ১২টার দিকে মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই সঙ্গে তার চাটি গরুও মারা যায়।

এদিকে জামালপুরে নিহত দুজন হলেন, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের দক্ষিণ চিনাডুলি গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে বকুল মিয়া (২২) ও সরিষাবাড়ি উপজেলার শিবপুর গ্রামের আলেপ উদ্দিন ম-লের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৬)।

সরিষাবাড়ির মহাদান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান জুয়েল বলেন, “গ্রামের একটি জমিতে ধান কাটছিলেন হাবিবুর। হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।”

আর উলিয়া পাইলিং ঘাটে ঘাস কাটার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই বকুলের মৃত্যু হয় বলে ইসলামপুরের নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বাদল জানান।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জামখোলা হাওরে এক ধান কাটা শ্রমিকের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী।

নিহত ইয়াহিয়া আহমদ (৪২) সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রায়পুর গ্রামের ইলিয়াছ আলীর ছেলে। কিছুদিন আগে ধান কাটার কাজে কানাইঘাট থেকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ আসেন তিনি।
ওসি ইখতিয়ার বলেন, “সকালে ইয়াহিয়াসহ কয়েকজন শ্রমিক স্থানীয় জামখোলা হাওরে ধান কাটছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই ইয়াহিয়ার মৃত্যু হয়।”

রাজবাড়ীতের বালিয়াকান্দি উপজেলায় মারা গেছেন ১ জন

বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের ঝাউগ্রামে মতিন শেখ নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয় বলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন আলী জানান।
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় মারা গেছেন ১ জন

উপজেলার তেলকুমার হাওরে বজ্রপাতে শামসুল হক (৩৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে বানিয়াচং থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, কদিনের বৃষ্টিতে হাওরের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বৃষ্টির মাঝেই কৃষক শামছুল হক ধান কাটতে যায়। বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় মারা গেছেন ১ জন

পাবনায় ঘণ্টাব্যাপী কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আম, লিচু ও বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত