শিরোনাম
◈ প্রবাসীদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকারের: আইনমন্ত্রী ◈ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার আগে 'ওয়ার্নিং সিস্টেম' বন্ধ রেখেছিল সৌদি আরব, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ◈ হাসপাতালে সাড়ে চারশ রোগী সামলানো একা ডিউটিরত নারী ডাক্তারকে স্থানীয় নেতার হ্যানস্তা অভিযোগ, ভিডিওতে যা বললেন ◈ খেলাপি ঋণ থাকা সত্ত্বেও বেক্সিমকোর দুই প্রতিষ্ঠানকে ঋণ সুবিধায় ছাড় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ নিউইয়র্কে ড. ইউনূসের সঙ্গে যা করেছে, তাতে রিকনসিলিয়েশনের সুযোগ দেখি না: তথ্য উপদেষ্টা (ভিডিও) ◈ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা কাগজে সীমাবদ্ধ না রাখার তাগিদ রাষ্ট্রপতির ◈ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী ◈ অন্ধকারেও সীমান্তে নজরদারি বাড়াচ্ছে বিজিবি, ব্যবহৃত হচ্ছে থার্মাল ও নাইট ভিশন প্রযুক্তি ◈ ভোলায় এক নারীর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি ◈ ৬ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ ও সংকটের অন্তরালে: যেভাবে ডুবল ব্যাংক খাত

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল, ২০১৮, ০৫:২৯ সকাল
আপডেট : ২৭ এপ্রিল, ২০১৮, ০৫:২৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভারতে যেভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় পেলেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা

বিশেষ প্রতিবেদক: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনটি ছিল শুক্রবার। ভোর ছয়টার দিকে ওয়াজেদ মিয়ার ঘুম ভাঙ্গে বেলজিয়ামে তখনকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সানাউল হকের স্ত্রীর ডাকে-কারণ জার্মানির বন থেকে সেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী টেলিফোনে জরুরি কথা বলতে চান। মি.চৌধুরীর সাথে কথা বলার জন্য ওয়াজেদ মিয়া স্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু দুই-এক মিনিট পর শেখ হাসিনা ফিরে তার স্বামীকে জানান যে রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী ওয়াজেদ মিয়ার সাথেই কথা বলতে চান। টেলিফোন ধরার জন্য ওয়াজেদ মিয়া দ্রুত নিচে নামেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী প্রয়াত বিজ্ঞানী ড: এম. এ. ওয়াজেদ মিয়া তার ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ” নামক বইয়ে এভাবেই বর্ণনা করেছেন সেই সময়ের কিছু ঘটনার। রটেলিফোনে কথা বলার পর ওয়াজেদ মিয়া যখন বাসার উপরে যান তখন শেখ হাসিনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওয়াজেদ মিয়ার কাছে জানতে চান রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর সঙ্গে তার কী কথা হয়েছে।

ওয়াজেদ মিয়া বলেন যে, বাংলাদেশে “কি একটা মারাত্মক ঘটনা ঘটে গেছে যার জন্য আমাদের প্যারিস যাওয়া যুক্তিসংগত হবে না।’ এ কথা শুনে তারা দু’বোন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

নিরাপদ স্থানে না পৌঁছানো পর্যন্ত শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানাকে কোনো কিছু জানানো হবে না, এই শর্তে রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী ওয়াজেদ মিয়াকে বলেন, “বিবিসি-এর এক ভাষ্যানুসারে রাসেল ও বেগম মুজিব ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই এবং ঢাকাস্থ ব্রিটিশ মিশন কর্তৃক প্রচারিত এক বিবরণীতে বলা হয়েছে যে, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কেউ বেঁচে নেই।”
এমন অবস্থায় মি. চৌধুরী- যিনি ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হয়েছিলেন - মনে করেছিলেন, একমাত্র ভারতে আশ্রয় নেয়াটা তাদের জন্য নিরাপদ হবে।

১৬ অগাস্ট রাত ১১টার দিকে রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী এবং তার স্ত্রী ওয়াজেদ মিয়াকে সাথে নিয়ে বাইরে যান। উদ্দেশ্য ছিল ওয়াজেদ মিয়াকে ভারতীয় দূতাবাসের এক কর্মকর্তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া।

নির্ধারিত স্থানে ভারতীয় দূতাবাসের সেই কর্মকর্তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী ও তার স্ত্রী সেখান থেকে চলে যান। তখন ভারতীয় দূতাবাসের ঐ কর্মকর্তা ওয়াজেদ মিয়াকে রাষ্ট্রদূতের বাসায় নিয়ে যান।
আলোচনার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত ওয়াজেদ মিয়াকে বলেন যে, ভারত সরকারের কাছে তারা ঠিক কী চান, সেটি লিখে দিতে। এ কথা বলে রাষ্ট্রদূত একটি সাদা কাগজ ও কলম এগিয়ে দেন ওয়াজেদ মিয়ার দিকে।

ওয়াজেদ মিয়া যা লিখেছিলেন, “শ্যালিকা রেহানা, স্ত্রী হাসিনা, শিশু ছেলে জয় শিশু মেয়ে পুতুল এবং আমার নিজের কেবলমাত্র ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং প্রাণ রক্ষার জন্য ভারত সরকারের নিকট কামনা করি রাজনৈতিক আশ্রয়।”

২৩ আগস্ট সকালে ভারতীয় দূতাবাসের এক কর্মকর্তা ওয়াজেদ মিয়াকে টেলিফোন করে জানান যে, ভারতীয় দূতাবাসের একজন ফার্স্ট সেক্রেটারি তাদের সাথে দেখা করবেন।

সেদিন দুপুর দুইটার দিকে ঐ কর্মকর্তা ওয়াজেদ মিয়ার সাথে দেখা করে বলেছিলেন, পরের দিন অর্থাৎ ২৪ আগস্ট সকাল নয়টায় তাদের ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারতীয় দূতাবাসের ঐ কর্মকর্তা ২৪ আগস্ট তাদের ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে নিয়ে যান।

এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে করে ২৫ আগস্ট সকাল সাড়ে আটটার দিকে দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে পৌঁছান শেখ রেহানা, শেখ হাসিনা, ওয়াজেদ মিয়া এবং তাদের দুই সন্তান।

ভারত সরকারের দুই কর্মকর্তা দুপুরের দিকে তাদেরকে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যান নয়াদিল্লির ডিফেন্স কলোনীর একটি বাসায়। ঐ বাসায় ছিল একটি ড্রইং-কাম-ডাইনিং রুম এবং দু’টো শয়নকক্ষ - যার প্রত্যেকটির সাথে একটি করে বাথরুম।

ঐ বাড়ির বাইরে না যাওয়া, সেখানকার কারো কাছে তাদের পরিচয় না দেয়া এবং দিল্লি কারো সাথে যোগাযোগ না রাখা- ভারতের কর্মকর্তারা তাদের এই তিনটি পরামর্শ দিয়েছিলেন। এভাবেই শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা ১৯৭৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন।

  • সর্বশেষ