প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কবরে ফুল অর্পণ ও ইসলামের বিধান

মুফতি মোস্তফা কামাল কাসেমি: মৃতব্যক্তির কবরে বা শহিদ মিনারে তাদের সম্মান প্রদর্শনের জন্যে পুস্পস্তবক অর্পণ কিংবা নীরবতা পালন শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নেই। কেননা এর দ্বারা মৃতব্যক্তি কোনো প্রকার উপকার লাভ করে না। যারা শহিদ হয়েছেন, ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মা পুষ্পপল্লবে ঘেরা ঘন সবুজ বৃক্ষলতায় পরিপূর্ণ সুরভিত জান্নাতে বিচরণ করে।

শহিদ এবং ঈমানসহ মৃত্যুবরণকারী সকল মুসলিমের আত্মা তাদের যোগ্যতা ও আমলের তারতম্য অনুসারে পাখিরূপে জান্নাতে উড়াউড়ি করে বলে বিশুদ্ধ হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘শহিদগণের রূহ আল্লাহর সান্নিধ্যে সবুজ পাখিদের মধ্যে থাকবে এবং জান্নাতের বাগ-বাগিচা ও নহরসমূহে ভ্রমণ করবে।’ (মুসলিম: ৭৪৫৬) রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘মুমিনের আত্মা একটি পাখি হয়ে জান্নাতের বৃক্ষরাজিতে বিচরণ করতে থাকবে। আল্লাহ যেদিন তাকে পুনুরুত্থিত করবেন সেদিন তার দেহে আত্মাটি ফিরিয়ে দেয়া পর্যন্ত এভাবেই থাকবে।’ (আহমাদ: ৬৫৪৫) অপর একটি বর্ণনায় রয়েছে, ‘শহিদগণের আত্মার প্রতি আল্লাহ দৃষ্টি দিবেন এবং বলবেন তোমরা কি কিছু কামনা করছ? তাঁরা বলবেন, আমরা আর কি কামনা করব! আমরা তো যেখানে ইচ্ছা সেখানে বিচরণ করছি।’ (মুসলিম: ৭৪৫৫) ভেবে দেখুন, আল্লাহর পথে শহিদগণ যেখানে আল্লাহর কাছেই কিছু কামনা করছে না, সেখানে কি তারা আমাদের এসব মূল্যহীন পুষ্পস্তবকের জন্যে অপেক্ষা করে?

শহিদ ও মৃতব্যক্তির জন্যে অন্তরে বাস্তবেই যদি দরদ থাকে, তাদের ত্যাগ-তীতিক্ষার বিনিময়ে কিছু দেওয়ার মনোবৃত্তি থাকে তাহলে এমন একটি পথ খুঁজতে হবে, যে পথে কিছু করলে তারা পরকালে উপকৃত হবেন। আর সে পথটি হল আল্লাহর অনুমোদিত পথ। শহিদ ও মৃতদের জন্যে নিয়ত করে কেউ যদি দান-খয়রাত করেন, তাদের পক্ষ হয়ে জনকল্যাণমূলক কাজ করেন, আমল করে তার সওয়াব মৃতব্যক্তিকে পৌঁছিয়ে দেন তাহলে এর বিনিময়ে তারা জান্নাতে শত কোটি পুষ্পে ভরা উদ্যানের মালিক হতে পারবেন। দুনিয়ার এসব মূল্যহীন ফুলের তাদের কোনো প্রয়োজন নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি একবার সুবহানাল্লাহ বলল তার জন্যে জান্নাতে একটি খেজুর গাছ লাগানো হবে।’ (তিরমিজি: ৫৬৪৪) অপর বর্ণনায় রয়েছে, ‘সে গাছটির ছায়ায় একশত বছর দ্রুতগামী ঘোড়া দৌঁড়ালেও তার ছায়া শেষ করা যাবে না।’

এতে স্পষ্ট হয়, পৃথিবীতে বসে সৎ কর্মের মাধ্যমে উর্ধ্ব জগতে নিজের জন্যে কিংবা কোন মৃতের জন্যে উদ্যান তৈরি করা যায়। তাই পৃথিবীতে বসে এই কাজটি করতে হবে যেনো ঊর্ধজগতের বাসিন্দাদের নিকট পৌঁছায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের আমলগুলো তোমাদের মৃত নিকটাত্মীয় ও তোমাদের সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে তাদের কবরে পেশ করা হয়। আমলগুলো ভাল হলে তারা আনন্দিত হয় আর অন্য কিছু হলে তারা বলে, হে আল্লাহ তাদেরকে তোমার আনুগত্যের আমল করার এলহাম কর।’ (আবু দাউদ: ৪৬১৫)
শহিদ ও মৃতদেরকে তারাই আনন্দিত ও উপকৃত করে যারা তাদের জন্যে দুয়া ও দান-খয়রাত করে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর আনীত দ্বীনে পুষ্পস্তবক অর্পণের কোন বিধান নেই। মৃতদের জন্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ খ্রিস্টান জাতির সংস্কৃতি। হিন্দু ধর্মেও মূর্তিকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। মূলত পুষ্পস্তবক অর্পণ মূর্তিপূজার অংশ। এটি হিন্দুদের একটি ইবাদত, যা মূর্তিকে দেয়া হয়। কাজেই মুসলিমদের এ ধরনের কর্মকা-ে অংশগ্রহণের কোন সুযোগ নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.)বলেন, ‘কোন ব্যক্তি সংস্কৃতিতে যে সম্প্রদায়ের অনুসরণ করে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।’ (আবু দাউদ: ৫৪৪৪)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত