প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যক্তিগত কর্মকর্তা দুর্নীতিবাজ কিনা জানেন না শিক্ষামন্ত্রী!

ডেস্ক রিপোর্ট : নিখোঁজের পর গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মো. মোতালেব হোসেন দুর্নীতিবাজ কিনা তা জানেন না শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। দুর্নীতির অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোতালেব হোসেনকে গ্রেফতারের পর এ নিয়ে জানতে চাইলে রবিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে এ কথা জানান তিনি।

মোতালেব হোসেন ও নাসিরউদ্দিনশিক্ষামন্ত্রীর পিও মো. মোতালেব হোসেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) উচ্চমান সহকারী মো. নাসিরউদ্দিনকে দুর্নীতির অভিযোগে রবিবার গ্রেফতার করে ডিবি। আরেক অভিযানে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ থাকা লেকহেড গ্রামার স্কুলের মো. খালেক হোসেন মতিনকে গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি কারও দুর্নীতি ও অন্যায় থাকে, তাহলে ভিন্ন কথা। পুলিশ যা করার তাই করবে। আমি এখনও জানি না, তারা দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হয়েছে কিনা।’ এ বিষয়ে এর বেশি মন্তব্য করবেন না বলেও জানান মন্ত্রী।

ওইদিন দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু আলম শিক্ষামন্ত্রীকে জানান, তার মিরপুরের পাইকপাড়ার বাসায় খোঁজখবর নিয়েছে কয়েকজন। মোতালেব হোসেন ও নাসিরউদ্দিনকে ‘অপহরণে’র পর শনিবার (২০ জানুয়ারি) বিকালে তার বাসায় সাত-আট জন লোক গিয়ে তাকে খুঁজেছে। তিনি বাইরে যেতেও ভয় পাচ্ছেন বলে জানান। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেন।

ওইসময় শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ‘নিখোঁজ’ দুই কর্মকর্তাকে উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনকে শনিবার (২০ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুরের বসিলা সড়ক থেকে ‘অপহরণ’ করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বনানী থেকে ‘অপহরণ’ করা হয় উচ্চমান সহকারী নাসিরউদ্দিনকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক ও বাংলাদেশ সচিবালয় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘যারা মন্ত্রণালয়ের পিকনিকের টাকা তুলেছেন, তাদের অপহরণ করা হচ্ছে। এরপর আমাকে অপহরণের শিকার হতে হবে। সহকর্মীরা আমাকে সাবধানে থাকতে বলেছেন।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা ‘নিখোঁজের’ পর রবিবার (২১ জানুয়ারি) বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাজিয়া আফরিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবের কাছে। ওই চিঠিতে দুই কর্মকর্তা-কর্মচারীর ‘নিখোঁজের’ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। ওই চিঠিতে জানানো হয়, মো. মোতালেব হোসেন ২০ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর ‘নিখোঁজ’ হন। তার দুটি মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ। বাসার আশেপাশে ও সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ করে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার ভাই হাজারীবাগ থানায় বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করেছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের উচ্চমান সহকারী মো. নাসিরউদ্দিন গত ১৮ জানুয়ারি সচিবালয়ে আসার পথে আনুমানিক বেলা আড়াইটায় ‘নিখোঁজ’ হন। এরপর থেকে তার দুটি মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে তার শাশুড়ি বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

দুই কর্মকর্তা ‘নিখোঁজের’ ঘটনায় রবিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তার মধ্যে আতঙ্ক দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

রাতে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ডিবির একটি দল রাজধানীর গুলশান ও বসিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন— শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মো. মোতালেব হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) উচ্চমান সহকারী মো. নাসিরউদ্দিন এবং রাজধানীর লেকহেড গ্রামার স্কুলের পরিচালক মো. খালেক হোসেন মতিন।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উচ্চমান সহকারী মো. নাসিরউদ্দিনকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে মোতালেব হোসেনকেও গ্রেফতার করা হয়। আরেক অভিযানে লেকহেড গ্রামার স্কুলের মো. খালেক হোসেন মতিনকে গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত