প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মরণোত্তর দেহ দান : ইসলাম কী বলে

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম : ইসলাম বলে, কোনো কিছু দান করতে হলে তার প্রকৃত মালিক হতে হয়। মানুষকে সৃষ্টি করেছেন স্রষ্টা। তাই মালিক ও তিনি। আধুনিক পৃথিবীতে মরনোত্তর দেহ দান একটি আলোচিত স্বাভাবিক ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই মৃত্যুর পূর্বে বিভিন্ন মেডিকেলে কিংবা গবেষণাগারে নিজের দেহ বা দেহের বিভিন্ন অংশ দান করে যান। অনেকে আবার শরীরের বিশেষ কোনো অঙ্গ যেমন চোখ, কিডনি ইত্যাদি অন্য কাউকে দান করার ঘোষণা দিয়ে যান।

ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার গোটা দেহটাকে কাটাছেড়া করে গবেষণার কাজ করে গবেষকরা। কিংবা কোনো অঙ্গ অন্য কারো শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রশ্ন হলো এভাবে মৃত্যুর আগে মরনোত্তর দেহ দান করা ইসলামে জায়েয আছে কিনা। এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়ত কী বলে। ডাক্তারী পরীক্ষা-নিরক্ষা ও কাটা-ছেড়া করার জন্য মরনোত্তর দেহ দান করা হারাম। কেউ মৃত্যুর আগে এর ওসিয়ত করে গেলেও তা আমল করা যাবে না। কেননা, হাদীেেস এসেছে:- মৃতের হাড় ভাঙ্গা জীবিতের হাড় ভাঙ্গার মতই। (মুসলিম,মুআত্তা মালেক-৪৫,আবুদাউদ-৩২০৭,ইবনে মাযা-১৬১৭ )

যে ব্যক্তি নিজের কোনো অঙ্গের ক্ষতি করে, তাকে শাস্তি দেয়া হবে। (ফাতহুল বারী ১১/৫৩৯) আল্লাহ বলেছেন:- “আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি। তাদের স্থলভাগে ও সমুদ্রে চলাচলের জন্য বাহন দান করেছি। তাদের ভালো ও পবিত্র জীবনোপকরণ দান করেছি এবং আমার সৃষ্টির বেশিরভাগের উপর তাদের শ্রেষ্ঠ মর্যাদা দান করেছি।” (সূরা বনী ইসরাইল-৭০) আদম সন্তানের মর্যাদা বা শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তার অমর্যাদা করা জায়েয নেই। ফাতওয়ায়ে শামী’র দ্বিতীয় খন্ডের ২৪৫ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, মৃত্যুর পূর্বে দেহ বা চক্ষু দান করা জায়েজ নেই। কারণ ঐ ব্যক্তি তার দেহের মালিক নয়। না, মৃত্যুর আগে। না, মৃত্যুর পরে। সুতরাং বুঝা গেলো, মরনোত্তর দেহ দান করা জায়েজ নেই। এমনকি মরনের আগেও নেই। কারণ মানুষ তার দেহের মালিক নিজে নয়। বরং এর মালিকানা কেবল আল্লাহ তাআলারই। (ফাতওয়ায়ে মাদানিয়া ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ২৫৯)
যে জিনিস মৌলিকভাবে মাল নয় তা ও দান করা কিংবা বিক্রি করা বৈধ নয়, যেমন স্বাধীন মানুষ ও মানুষের বিভিন্ন অঙ্গ (বাদাইউসসানায়ে-৬/১১৯)

সুতরাং মরণোত্তর দেহ বা চক্ষু অথবা অন্য কোন অঙ্গ দান করা জায়েজ নাই। তেমনি গবেষণা বা নিজের মহত্ত প্রকাশে কোন দাতব্য প্রতিষ্ঠান বা মেডিকেলে দান করাও একে বারেই জায়েয নাই। আর এ ক্ষেত্রে অন্যদের জন্যও তা সংগ্রহ ও ব্যবহার করা জায়েজ নাই। তবে কিছু ফুকাহে কেরাম কিছু শর্তের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তিদের দান কৃত অঙ্গ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। শর্ত হল, অঙ্গ দাতার জীবদ্দশায় তার অনুমতির পাশাপাশি মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশদেরও অনুমতি থাকতে হবে। তার যে অঙ্গ নেয়া হবে তা জীবিত ব্যক্তির শরীরে স্থাপন করলে জীবিত ব্যক্তি তার থেকে উপকৃত হওয়ার ব্যপারে প্রবল ধারণা,নিশ্চয়তা থাকতে হবে। বিজ্ঞ ডাক্তারের এ কথা বলা যে,এতে জীবিত রুগীর যথাযথ কাজ হবে। সুতরাং কোন জীবিত ব্যক্তির জীবন রক্ষার্থে অনন্যোপায় হলেই শুধু অঙ্গ দান করা যাবে উপর্যুক্ত শর্তগুলো পালনের মাধ্যমে। (আল বাহরুর রায়েক ৮/৪০৩, আত তাজ ওয়াল ইকলীল-৩/৭৭, ফাতাওয়া আলমগিরী-৫/৩৬০) লেখক: কবি ও সাংবাদিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত