শিরোনাম
◈ ৫ শতাংশ কোটা রেখে সংসদে আইন পাসের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ◈ রেলওয়ের চাকরিতে ৪০ শতাংশ পোষ্য কোটা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট ◈ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দেবেন না: সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ◈ জামালপুরে বন্যার পানিতে গোসলে নেমে ৪ জনের মৃত্যু ◈ সাংবাদিকদের পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর ◈ মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এতো ক্ষোভ কেনো, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর ◈ ট্রাম্পের ওপর হামলা নিন্দনীয়: শেখ হাসিনা  ◈ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে আর্তমানবতার সেবায় আরও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ◈ কোটা প্রসঙ্গে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এখন আমার বলার কিছুই নাই: প্রধানমন্ত্রী  ◈ প্রশ্নফাঁসের সুবিধাভোগীদের আইনের  আওতায় আনা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৪ জুন, ২০২৪, ০৮:৩৫ রাত
আপডেট : ১৪ জুন, ২০২৪, ০৮:৩৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের ৩ জন নিহত

মুযনিবীন নাইম: [২] সৌদি আরবের আল নাজাদ অঞ্চলের আপিপ শহরে কাজে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি তিন যুবক নিহত হয়েছে।

[৩]বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি সময় দুপুর ১২টা ও সৌদি সময় আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে আপিপ থেকে নির্মাণ কাজে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

[৪] নিহত শ্রমিকদের মধ্যে সবুজ চৌকিদার (৩৮) চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের পশ্চিম বিশকাটালি গ্রামের জামাল চৌকিদারের ছেলে। অপর নিহত মো. সাব্বির (২১) পার্শ্ববর্তী হাইমচর উপজেলার আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নের চরভাঙা গ্রামের সৈয়াল বাড়ির মো. ইসমাইল সৈয়ালের ছেলে এবং মো. রিফাত (২০) আলগী উত্তর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। ঈদুল আযহা আসন্ন সময়ে এমন দুর্ঘটনা প্রত্যেক পরিবারে হৃদয় বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

[৫] কমলাপুর গ্রামের রিফাত মাত্র ৩ বছর আগে গিয়েছেন ওই দেশে। ভবন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তার বাবা দেলোয়া হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগেও ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। বাবার আবেদন ছিলে ছেলে যেন বাড়িতে এসে ঈদ করে। কিন্তু তা আর হলো না।

[৬] রিফাতের প্রতিবেশী আল-আমিন খান বলেন, রিফাত খুবই কমবয়সী। এমন দুর্ঘটনায় আমরা সবাই মর্মাহত। সান্ত্বনা দেয়ার মতো কিছুই নেই। ছেলেটি তাদের সংসারের উপার্জনের হাল ধরেছিল।

[৭] নিহত সাব্বিরের বাবা ইসমাইল সৈয়াল ও মা ফাতেমা বেগমের একটাই দাবি তাদের সন্তানকে দেশে আনার জন্য সরকারিভাবে যেন সহযোগিতা পাওয়া যায়। সাব্বিরের মা ফাতেমা বেগম ছেলের শোকে কথাও বলতে পারছেন না। অনেকটা বাকরুদ্ধ। প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দিয়েও মাকে বুঝাতে পারছেন না। কিছু সময় পর পর ছেলের নাম নিয়ে কেঁদে উঠেন।

[৮] সাব্বিরের ছোট বোন স্নেহা বলেন, ভাই আমাকে ফোনে অনেক স্বপ্নের কথা বলতেন। দেশে আসলে কি কি করবেন। গত কয়েকদিন আগে কথা হলে আমি দেশে আসার জন্য বলি। কিন্তু ভাইয়ের আর আসা হলো না। দুই ভাইয়ের আমি ছোট। বড় ভাইও সৌদিতে থাকেন।

[৯] সাব্বির আর রিফাতকে সৌদিতে কাজের জন্য নিয়েছেন সবুজ চৌকিদার। তিনি তাদেরকে নিয়ে আপিপ শহর ও আশপাশের এলাকায় ভবন নির্মাণের কাজ করতেন। নিজেদের গাড়িতে তারা কাজে আসা-যাওয়া করতেন। গাড়ির চালক ছিলেন সবুজ। 

[১০] সবুজের বাবা বলেন, তার ছেলে সবুজ প্রায় ১৮ বছর সৌদিতে থাকেন। বেশ কয়েকবার দেশে এসেছেন। তার স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান আছে। তাদেরকেও ভ্রমণ ভিসায় কয়েকবার সৌদিতে নিয়েছেন। সর্বশেষ গত দুই সপ্তাহ পূর্বে দেশ থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের সৌদিতে নিয়েছেন। তারা এখন সৌদি আছেন।

[১১] তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি সময় ৪টায় সবুজসহ ৩ জনের দুর্ঘটনার খবর পান। রাত ১০টায় সেখানে অবস্থানরত স্বজনদের মাধ্যমে জানতে পারেন দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

[১২] এই তিন পরিবারের দাবি হচ্ছে- তাদের সন্তানদের মরদেহ আনার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যাতে সহযোগিতা করে।

[১৩] হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা নাজনীন তৃষা জানান, সৌদিতে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি। তবে আমাদের জানালে তাদের জন্য যেসব করণীয় আছে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। সম্পাদনা: কামরুজ্জামান

এসবি২

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়