বিশ্বজুড়ে পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটির জেরে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে অদ্ভূত এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাধারণ ওয়েবসাইটের পাশাপাশি অনেক ডার্ক ওয়েব এবং হ্যাকার গ্রুপ ওয়েবসাইট নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে অফলাইনে চলে গেছে।
পিএইচপির ত্রুটির কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা যখন হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করছে, ঠিক তখন হ্যাকাররা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তাদের নিজেদের ওয়েবসাইট রক্ষায়।
সোফোস-এর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রেবেকা টেলর বলেন, 'আন্ডারগ্রাউন্ড সাইটগুলো সাধারণত পিএইচপি-ভিত্তিক সফটওয়্যার ও প্লাগইনের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। ফলে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এই মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি সবার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করেছে।'
গত বুধবার পিএইচপি প্রকল্পের ডেভেলপাররা ত্রুটি সংশোধনের আপডেট প্রকাশ করেন। ব্যবহারকারীদের দ্রুত সেই আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেক জনপ্রিয় ওয়েবডিজাইন প্ল্যাটফর্মে পিএইচপি ব্যবহার করা হয়। ফলে এই নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে অনলাইন মার্কেটপ্লেস, সংবাদমাধ্যম, সরকারি সেবাসহ বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সাইবার অপরাধীরা সাধারণত ডার্ক নেট বা ক্লিয়ার নেটে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে কয়েক স্তরের জটিল নিরাপত্তা ব্যবহার করে। তাই প্রতিপক্ষ কেনো গোষ্ঠী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ার ঘটনা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
অতীতে কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, পুলিশ হ্যাকারদের অভ্যন্তরীন সার্ভারে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হওয়ায় তাদের গ্রুপ ধ্বংস হয়ে গেছে।
২০২৪ সালে কুখ্যাত র্যানসমওয়্যার হ্যাকার গ্রুপ 'লকবিট' -এর সিস্টেমে গোপনে প্রবেশ করে তাদের অনেকে সদস্যের পরিচয় ফাঁস ও চুরি হওয়া বিটকয়েন পুনরুদ্ধার করে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি।