শিরোনাম
◈ ইউরোপের অস্থিরতায় নতুন সংকটের মুখে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প, রফতানি কমেছে ১১.৬৭ শতাংশ ◈ তিন দিন বন্ধ থাকবে থাইল্যান্ডের ই-ভিসা আবেদন, জানাল দূতাবাস ◈ স্থানীয় নির্বাচনে জয় পেতে মরিয়া বিএনপি ◈ ময়মনসিংহ মেডিকেলের ময়লার সঙ্গে ‘কায়দা করে’ পাচার করা হয় সিরিঞ্জ-ক্যানুলা-স্যালাইন, পরে পাইকারি দরে বিক্রি ◈ চার জেলার ২৯ বাঁওড়ে মাছের উৎপাদন ১০ শতাংশ বাড়াতে ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের, অগ্রাধিকার পাবে গাড়ি ও জ্বালানি খাত ◈ সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, চলছে নিরাপত্তা যাচাই ◈ পিএইচপি কী, এটি ঘিরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা-সংকট সৃষ্টি হয়েছে কেন? ◈ বিশ্বে প্রথমবার মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাস শনাক্ত, ফ্রান্সে প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ◈ বিফ‌লে গে‌লো ইংল‌্যা‌ন্ডের ব্রুকের ডাবল সেঞ্চুরী, ৪২৯ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কার রেকর্ড জয় 

প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:১৭ সকাল
আপডেট : ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:১৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্থানীয় নির্বাচনে জয় পেতে মরিয়া বিএনপি

ভবিষ্যতের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ ও বিরোধীদের চাপে রাখতে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জয় পেতে মরিয়া ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। তৃণমূলের ক্ষমতা ধরে রাখতে দলের প্রার্থীর পক্ষে ‘সর্বশক্তি’ দিয়ে মাঠে থাকবেন নেতারা।

দলীয় প্রার্থীদেরকে জয়ী করে তৃণমূলের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে চায় না সরকার পরিচালনায় থাকা বিএনপি।

নির্বাচনের কৌশল হিসেবে বিরোধী প্রার্থী জয়ী হলে সেই এলাকায় উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল। সম্প্রতি বিএনপির ২০২ জন ও বিরোধী জোট ছেড়ে আসা খেলাফত মজলিসের একজন এমপির নির্বাচনী এলাকার ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে (ইউপি) বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে সেই অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

পাশাপাশি ‘দলীয় প্রার্থী না জিতলে উন্নয়ন হবে না’–বিএনপির শীর্ষ নেতাদের এমন বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য এরই মধ্যে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য একক প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অপরদিকে, জাতীয় রাজনীতিতে ভিত্তি মজবুত করতে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও স্থানীয় নির্বাচনকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে।

তবে বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারি দলের এমপিদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া এবং ভোট না দিলে উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়ার হুমকি নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ টাইমসকে বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর আচরণবিধি ভাঙলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, কিন্তু এই মুহূর্তে তা সম্ভব নয়। সরকার তার ওয়াদা, ইশতেহার ও রাজনৈতিক কৌশল অনুযায়ী কথা বলতেই পারে। এতে আইনি কোনো বাধা নেই।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফল বিরোধী দলগুলোকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হতে সাহায্য করার পাশাপাশি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পথ তৈরি করবে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী টাইমসকে বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তৃণমূলের মানুষের কাছাকাছি থাকেন এবং তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকে। তাই ক্ষমতায় থেকে বিএনপি এই সুযোগ হাতছাড়া করবে না, এটাই স্বাভাবিক।’

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৭ মে পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারি এমপিদের এলাকায় বিশেষ বরাদ্দ

ইউপি নির্বাচনের ঠিক আগে, গত ১৩ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০৩টি সংসদীয় আসনের ৩ হাজার ১৫৯টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে। এই টাকা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে দেওয়া হয়।

গত ১২ আগস্ট দেওয়া বরাদ্দে এমপিদের ইচ্ছেমতো প্রকল্প নেওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু ১৩ অক্টোবরের আদেশে সংশ্লিষ্ট এমপিদের পছন্দ অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিরোধী বা স্বতন্ত্র এমপিদের এলাকা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেও, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ত্যাগ করায় খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্যের (সিলেট-৫) এলাকা এই বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছে।

সরকার যে নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে, তার প্রমাণ মিলছে নেতাদের বক্তব্যে। গত ১৫ অক্টোবর বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি এক সভায় বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী না জিতলে ওই ইউনিয়নে কোনো কাজ হবে না, আমার কাছে এসেও লাভ নেই।’

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম মনে করেন, তফসিল ঘোষণার আগে এমন প্রচার বন্ধে নির্বাচন কমিশনের আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এভাবে চাপ দেওয়া সাধারণ মানুষের স্বাধীন ভোটাধিকারে সরাসরি হস্তক্ষেপ। নির্বাচনে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ থাকবে কি না, তা তফসিল ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে বলে জানান তিনি।

প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ বিরোধীদের

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলগুলো সরব হতে শুরু করেছে। জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনের লক্ষণ ভালো নয়। সরকারি দল তাদের প্রার্থী না জিতলে উন্নয়ন বন্ধের হুমকি দিচ্ছে। এভাবে চললে নির্বাচন প্রহসনে রূপ নেবে।’

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ টাইমসকে বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকার ও বিরোধী এমপিদের বরাদ্দে বৈষম্য করা হচ্ছে, যাতে জনগণকে আমাদের কাছ থেকে দূরে রাখা যায়। সবশেষ ২০৩ এমপির বিশেষ বরাদ্দ এরই অংশ।’

তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান টাইমসকে বলেন, ‘সরকার আইন মেনেই বরাদ্দ দিচ্ছে, এক্ষেত্রে কারও অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেবেন বলেও জানান সেলিমা রহমান।

প্রধান বিরোধীদল জামায়াত ইতিমধ্যে দেশের বেশিরভাগ ইউপি, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে রয়েছে। এ ছাড়া প্রার্থী ঘোষণার প্রক্রিয়ায় আছে এনসিপিসহ আরও কয়েকটি দল।

তবে জামায়াত ও এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলো একপক্ষকে বাড়তি সুযোগ দেওয়া হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে।

বিএনপির তৎপরতা

নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বিএনপি। দলটি এখনো প্রার্থী চূড়ান্তের কাজ শুরু করতে পারেনি। তবে গত ১১ অক্টোবর জেলা নেতাদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে দলীয় একক ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহে বিএনপি নেতাকর্মীদের এক মতবিনিময় সভায় সতর্ক করে বলেন, কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে তাকে দলছাড়া করা হবে।

এদিকে, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ সম্প্রতি এক সভায় বলেন, ‘আমি যে প্রার্থীকে মনোনয়ন দেব, তাকেই জিতিয়ে আনতে হবে। না জিতলে ইউপিতে কোনো কাজ করব না—সোজা কথা।’

সূত্র : টাইমস অব বাংলাদেশ

  • সর্বশেষ