শিরোনাম
◈ ১৪৮ দিন পর জয়ের দেখা, স্বস্তিতে টটেনহ্যাম ◈ সব ধর্মের মানুষের ঐক্যে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ◈ অতিরিক্ত উৎপাদনে আলুর দরপতন, কেজিতে ১৪ টাকা পর্যন্ত লোকসানে কৃষক ◈ মব থামছে না, দিন‌কে দিন রাজ‌নৈ‌তিক চেহারা পা‌চ্ছে, নেপথ্যে কী? ◈ গ্যাস বরাদ্দে সার ও বিদ্যুত বে‌শি গুরুত্ব পাওয়ায় দে‌শের এক হাজার শিল্পকারখানা বন্ধের উপক্রম ◈ দুর্গাপূজার মহানবমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে  প্রধানমন্ত্রী তারেক, রংপুর থেকে রাজশাহী, এরপর চট্টগ্রামে ◈ তাঁবু রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ, আয় ২৩ কোটি ডলারের বেশি ◈ জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর ক্রিকেটার‌দের তা‌মিম বল‌লেন, ক‌ঠোর প‌রিশ্রম চা‌লি‌য়ে যাও রেজাল্ট পা‌বে ◈ টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানী ছাড়ছেন নগরবাসী ◈ বৈধ অস্ত্র দিয়ে ভয়-ভীতি দেখালে কী শাস্তি, লাইসেন্স পেতে কী যোগ্যতা লাগে জানুন নিয়ম

প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ দুপুর
আপডেট : ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

মব থামছে না, দিন‌কে দিন রাজ‌নৈ‌তিক চেহারা পা‌চ্ছে, নেপথ্যে কী?

ডেস্ক রি‌পোর্ট: দেশে একের পর এক ঘটে চলেছে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা বা মবের ঘটনা। কখনও ধর্মের দোহাই দিয়ে প্রকাশ্যে করা হচ্ছে খুন, তো কখনও ব্যক্তিস্বার্থে গুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে আস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র।

সবশেষ ফেসবুকে লাইভ করে দফায় দফায় মারধরের ঘটনায় সাতক্ষীরার শামীমের মৃত্যু ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে, যেখানে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।
এর কয়েকদিন আগেই রাজধানীর এক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় সামনে আসে বিএনপি থেকে নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যের নাম।

এছাড়া ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়, আদালতেও একের পর মবের ঘটনা হয়েছে গণমাধ্যমের শিরোনাম। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১৭ই অক্টোবর পর্যন্ত ৫৩৭টি মবের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মারা গেছেন ২৫৬ জন আর আহত হয়েছেন ৫৭৫ জন। ----- সূত্র, বি‌বি‌সি বাংলা

সংগঠনটি বলছে, গত বছর মবের এই সংখ্যা ছিল ৪২৮টি আর ২০২৪ সালে ছিল ১৬৯টি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মবের ঘটনা প্রকট হয়ে ওঠে। নির্বাচিত সরকারের সময় তা কমে আসবে মনে করা হলেও এখনও তাতে লাগাম টানা যাচ্ছে না। বরং মব একটি রাজনৈতিক চেহারা পাচ্ছে বলেই মত মানবাধিকারকর্মীদের।

Advertisement

তারা বলছেন, সম্পত্তি দখল থেকে শুরু করে, ধর্ম অবমাননার মতো নানা কারণে ঘটছে এসব মবের ঘটনা, যেখানে আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠছে সরকার ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, সম্পত্তি দখলের জন্য মব তৈরির ঘটনাগুলোতে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা দেখা যায়।

অন্যদিকে ধর্মকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টির ঘটনায় প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্তার বিষয়টি সংগঠনটির মনিটরিং রিপোর্টে উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

যদিও এমন দাবি অস্বীকার করছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। তারা বলছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সরকারের। একইসাথে যেকোনো ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে 'দায়ী করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে' বলেও বলছে দলটি।

এদিকে সরকারের দিক থেকে বারবারই মব ঠেকানোর হুঁশিয়ারি দেয়া হলেও কার্যত তার কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেই প্রশ্ন রয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, যেকোনো ঘটনায় সরকারের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার কারণে মবের সংখ্যা কমে আসছে।

মব সহিংসতার রাজনৈতিক রূপ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই বাংলাদেশে মবের ঘটনা মারাত্মক রূপ নেয়। এসময় মব তৈরি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া থেকে শুরু করে কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানোসহ নানা ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছিল। অনেকেই আশা করেছিলেন, নির্বাচিত সরকার আসার পর বদলাবে সেই দৃশ্যপট। পরিসংখ্যান বলছে, সেই আশায় গুঁড়ে বালি।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মব সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১৭১ জন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১২৮ আর গত বছর ছিল ১৯৮ জন।

অর্থাৎ মবতো বন্ধ হয়ইনি, কখনও কখনও বেড়েছে সেই প্রবণতা। আর তার কারণ হিসেবে সামনে আসছে, মবের ঘটনায় সরকার ও বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি।

এনিয়ে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি – এইচআরএসএস'র নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনা বা দলের সিদ্ধান্তে মবের ঘটনা ঘটার কোনো তথ্য সংগঠনটির কাছে না থাকলেও এসব ঘটনায় কোনো না কোনো রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থক সংশ্লিষ্টতা কম বেশি দেখা গেছে। কোনো একটা নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠী করছে, এরকম নয়। বলা যায় সব ঘরানারই সমর্থক বা লোকজন এখানে যুক্ত আছে", বলেন তিনি।

তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান। সম্পত্তি দখল ও ধর্ম সংক্রান্ত মবে আলাদা আলাদা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার কথা বলেন।

সম্পত্তি দখলের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি, আর ধর্ম অবমাননার অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার প্যাটার্ন দেখা গেছে উল্লেখ করেন তিনি।

আমাদের মনিটরিং রিপোর্ট বলে তৌহিদি জনতার নামে মূলত জামায়াত এগুলো করে। জামায়াতের মদদপুষ্ট কিছু কিছু এনসিপির লোকও এতে আছে। যাদের অনেকেই মাদ্রাসায় চাকরি করে কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডটা হলো শিবির অথবা জামায়াত।

সেকারণেই মবের ঘটনায় বিরোধী দলকে যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন মি. সাইদুর রহমান। বলেন, "এগুলো নিয়ে জামায়াত কোনো কথা বলে না। কোনো প্রেস রিলিজও দেয় না, প্রেস কনফারেন্সও করে না। কোনো ঘৃণাও প্রকাশ করে না, থামানোর জন্য সরকারকে বলে না, নিজেরাও থামায় না। জামায়াত আর মবের উত্থান একসাথে ঘটেছে" বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও এমন à