শিরোনাম
◈ ময়মনসিংহ মেডিকেলের ময়লার সঙ্গে ‘কায়দা করে’ পাচার করা হয় সিরিঞ্জ-ক্যানুলা-স্যালাইন, পরে পাইকারি দরে বিক্রি ◈ চার জেলার ২৯ বাঁওড়ে মাছের উৎপাদন ১০ শতাংশ বাড়াতে ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের, অগ্রাধিকার পাবে গাড়ি ও জ্বালানি খাত ◈ সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, চলছে নিরাপত্তা যাচাই ◈ পিএইচপি কী, এটি ঘিরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা-সংকট সৃষ্টি হয়েছে কেন? ◈ বিশ্বে প্রথমবার মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাস শনাক্ত, ফ্রান্সে প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ◈ বিফ‌লে গে‌লো ইংল‌্যা‌ন্ডের ব্রুকের ডাবল সেঞ্চুরী, ৪২৯ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কার রেকর্ড জয়  ◈ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চাইতে থানায় রুমিন ফারহানা, ওসির সাথে তুমুল বাগবিতণ্ডা (ভিডিও) ◈ থাইল্যান্ডে ‘সয়েল ফিভারে’ ৪৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৭০ জন ◈ এবার বাংলাদেশের দুর্গাপূজার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতীয় সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন, বললেন ‘শাবাশ বাংলাদেশ!’

প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:৩৪ রাত
আপডেট : ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:৩৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ময়মনসিংহ মেডিকেলের ময়লার সঙ্গে ‘কায়দা করে’ পাচার করা হয় সিরিঞ্জ-ক্যানুলা-স্যালাইন, পরে পাইকারি দরে বিক্রি

বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মমেক)। প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এই হাসপাতালে। অথচ হাসপাতালের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া গেছে শম্ভুগঞ্জের একটি ময়লার গুদামে। এসব সামগ্রীর প্যাকেটের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ রয়েছে ২০২৮ ও ২০৩১ সাল পর্যন্ত।

হাসপাতালের এসব সামগ্রী কীভাবে বাইরে গেল, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

মমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে প্রায়ই নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় তাদের। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী ময়লার গুদামে পাওয়ার ঘটনায় হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শম্ভুগঞ্জের ওই গুদামে কয়েক বস্তা সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া গেছে। এসব সামগ্রীর মেয়াদ শেষ হতে এখনো কয়েক বছর বাকি। ময়লা সংগ্রহ ও বাছাইয়ের কাজে যুক্ত শ্রমিকদের দাবি, ময়লার সঙ্গে প্রতিদিনই নতুন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন চলে আসে। সেগুলো আলাদা করে রাখা হয়। পরে কিছু সামগ্রী হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হয়, আর বাকিগুলো পাইকারি দরে বিক্রি করা হয়।

Advertisement

ময়লা সংগ্রহের কাজে যুক্ত শ্রমিক জুবেদা খাতুন বলেন, ময়লা সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজে আমরা ১১ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছি। এর মধ্যে চারজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়লা সংগ্রহ করেন। বাকি সাতজন গুদামে এসব ময়লা প্রক্রিয়াজাত করেন।

তিনি আরও বলেন, ময়লার সঙ্গে প্রতিদিন নতুন নতুন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন চলে আসে। এগুলো আলাদা বস্তায় রেখে দিই। ১০ থেকে ১২ দিন পর তিন থেকে চার বস্তা সরঞ্জাম জমা হলে সেগুলো হাসপাতালে ফেরত দিই। বাকিগুলো পাইকারি দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

হাসপাতালের অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে ময়লার গুদামে গেল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার বাইরে এসব সামগ্রী যাওয়ার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের দায় ও তদারকির বিষয়টি তদন্ত করা জরুরি। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের করা হলে তিনি বলেন, এগুলো হাসপাতালের না বাহিরের।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার বলেন, অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ চিকিৎসাসামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু এসব সামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই, সেহেতু সেগুলো কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, তা জানতে চাওয়া হবে। ছুটি শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে জবাবদিহি করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৩৫ থেকে ৪০ ভ্যানগাড়ি ময়লা সরানো হয়। এসব ময়লার মধ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে কয়েক বস্তা অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। আরটিভি নিউজ

  • সর্বশেষ