মনিরুল ইসলাম : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সব ধর্মের মানুষের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটেছে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ, ছুটি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে ভক্ত, পূজারি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে এসব কথা বলেন বিএনপির এই নেতা।
পূজামণ্ডপগুলোতে পৌঁছালে ঢাক-ঢোল ও শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং ফুল দিয়ে এমরান সালেহ প্রিন্সকে বরণ করে নেন ভক্ত ও পূজারিরা। এ সময় তিনি তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং সার্বিক খোঁজখবর নেন।
উপস্থিত ভক্ত ও পূজারিদের উদ্দেশে বক্তব্যে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নিজের পক্ষ থেকে সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে স্মরণকালের সর্বোচ্চসংখ্যক মণ্ডপে এ বছর মহাসমারোহে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার ফল।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবারের দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ, সর্বোচ্চ ছুটি ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, শুধু রাজধানীতে নয়, জেলা পর্যায়েও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যাচ্ছেন। তাঁর মতে, এটি একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।
তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এবার প্রাণ খুলে আনন্দ করছেন, উৎসব উদযাপন করছেন এবং স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন। বিএনপি সরকার নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে এই আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টিতে কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রিন্স বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সব ধর্মের মানুষের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটাতে হবে বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে সামাজিক ঐক্যের অনন্য মেলবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এই সম্প্রীতি, ঐক্য ও পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমাদের সকলের উচিত, প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে দেশ পুনর্গঠনে তাঁকে সহযোগিতা করা।”
প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহ ও নির্দেশনায় এবার মহাসমারোহে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে উল্লেখ করে এমরান সালেহ প্রিন্স আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
দুর্গাপূজায় জামায়াত-এনসিপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এবারের দুর্গাপূজায় সহযোগিতার ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এমরান সালেহ প্রিন্স।
তিনি অভিযোগ করেন, দুর্গাপূজা উদযাপনে সহযোগিতার জন্য জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের নির্লিপ্ততা দল দুটির রাজনৈতিক অবস্থানকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
জামায়াতের কর্মকাণ্ডে বারবার সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে দাবি করে তিনি বলেন, এনসিপিও তাদের জোটের শীর্ষ দলের নীতি অনুসরণ করছে কি না, তা স্পষ্ট করা উচিত।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অধিকার, উৎসব ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। শুধু মুখে সম্প্রীতির কথা বললেই হবে না, বাস্তব আচরণেও তার প্রতিফলন থাকতে হবে।
হালুয়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা এমরান সালেহ প্রিন্সের সঙ্গে ছিলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্যসচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মহিউদ্দিন, মিজানুর রহমান, উত্তম কুমার বাবুল, আসাদুজ্জামান আসিফ, নাঈমুর আরেফীন পাপন ও আনোয়ার হোসেনসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।