শিরোনাম
◈ স্কুলশিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা, বিএনপি নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা ◈ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ ◈ নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভূমিধসে নিহত অন্তত ১৬০, নিখোঁজ ৮ শতাধিক ◈ ১৯ বছর ধরে পালাতক ‘পিচ্চি হান্নানের’ সহযোগী ‘কিলার মাসুদ’ গ্রেপ্তার ◈ নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শোক, সহায়তায় প্রস্তুত বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ◈ শ্রীলঙ্কার বিরু‌দ্ধে সিরিজ জয়ের পথে ভারত ◈ গ্রামের নিম্নবিত্তের সবজি কচু-লতি এখন রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায় ◈ ৪৫ বছর পর জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় নতুন মোড়, গ্রেপ্তার মোজাফফরকে নিয়ে হবে তদন্ত ◈ রিয়ালের পতনে দিশেহারা ইরান, ২০ লাখ রিয়ালে মিলছে না আগের অর্ধেকও ◈ ফ্লাইটে মায়ের মৃত্যু, ওমানের আইনে মরদেহ রেখেই দেশে ফিরতে হলো ছেলেকে

প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:১১ দুপুর
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

২০ কোটি বছর পর পৃথিবীর দিনের সময় হবে ২৫ ঘণ্টা, কিন্তু কেন?

ভবিষ্যতে পৃথিবীতে দিন হবে ২৫ ঘণ্টায়। শুনতে অবাক লাগলেও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই তথ্য কিন্তু ভুল নয়। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করে দেখছেন যে পৃথিবীর আবর্তনের গতি ক্রমেই কমছে। যদিও এই পরিবর্তনের গতি এতটাই ধীর যে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর কোনো প্রভাবই পড়ে না। আমরা আমাদের জীবনকে ২৪ ঘণ্টার চক্রে গুছিয়ে নিয়েছি বলে এই সময়কে ধ্রুবক বলে মনে হয়। কিন্তু নক্ষত্রের সাপেক্ষে পৃথিবীর ঘূর্ণন গণনা করলে দেখা যায়, দিন ২৪ ঘণ্টার চেয়ে কিছুটা ছোট। পৃথিবী তার কক্ষপথে ঘোরার সময় সূর্যকে আবার আকাশে একই অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে কিছুটা বাড়তি সময় ঘোরে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্য ক্রমাগত বাড়ছে।

পৃথিবীর গতি কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করছে চাঁদ। চাঁদের মহাকর্ষীয় শক্তি পৃথিবীর সাগরে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি করে। এই বিশাল জলরাশি যখন সমুদ্রতলের ওপর দিয়ে চলাচল করে, তখন একধরনের ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ভাষ্যে, এই ঘর্ষণ পৃথিবীর ঘূর্ণন শক্তি সামান্য কমিয়ে দেয়। এই শক্তি হারিয়ে যায় না বরং তা চাঁদকে পৃথিবী থেকে দূরে ঠেলে দেয়। একে তুলনা করা যেতে পারে একটি ঘূর্ণমান চেয়ারের সঙ্গে যার পা মেঝেতে ঘষা লেগে গতি কমিয়ে দিচ্ছে।

চাঁদ ছাড়াও পৃথিবীর উপরিভাগের পরিবর্তন ঘূর্ণন গতিতে প্রভাব ফেলে। নাসা ১২০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, হিমবাহ গলে যাওয়া, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি—এসবই পৃথিবীর ভরের ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে। যখন গ্রিনল্যান্ড বা অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে মহাসাগরে মিশছে, তখন পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষ কিছুটা সরে যাচ্ছে যাকে বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন ‘পোলার মোশন’। ২০০০ সালের পর থেকে গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে বরফ গলার হার বেড়ে যাওয়ায় এই পরিবর্তনের গতিও ত্বরান্বিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত ১২ দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। দেখা গেছে, পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের পেছনে প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের যেমন ভূমিকা আছে, তেমনি গত কয়েক দশকের দ্রুত পরিবর্তনের জন্য মানুষের কর্মকাণ্ড দায়ী। প্রাকৃতিক ব্যবস্থার পাশাপাশি মানুষের প্রভাব এখন পাল্লায় নতুন ওজন যোগ করছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দিন কবে ২৫ ঘণ্টায় পৌঁছাবে? উত্তরটি আসলে চমকে দেওয়ার মতো। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীর দিন এক ঘণ্টা বাড়তে অর্থাৎ ২৫ ঘণ্টায় পৌঁছাতে প্রায় ২০ কোটি বছর সময় লাগবে।এই সময়কাল এতটাই দীর্ঘ যে মানবসভ্যতা বা আধুনিক সমাজব্যবস্থার ওপর এর কোনো ব্যবহারিক প্রভাব পড়বে না।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • সর্বশেষ