স্পোর্টস ডেস্ক: ভারতের টেস্ট ক্রিকেটে আরও ৩০-৪০টি উইকেট যোগ করার সামর্থ্য ছিল মহম্মদ শামির। কিন্তু সেই সুযোগ তাঁকে দেওয়া হয়নি। টেস্ট থেকে শামির অবসরের পর নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভারতের সাবেক কোচ রবি শাস্ত্রী। তাঁর আক্ষেপ, ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুলে শামির মতো অভিজ্ঞ পেসারকে দীর্ঘদিন দলের বাইরে রাখা হয়েছে।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন শামি। ১৩ বছর আগে ৬ নভেম্বরই টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তাঁর। সেই দিনটিকেই বেছে নিলেন লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর জন্য। ভারতের হয়ে ৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট নিয়ে থামল তাঁর দীর্ঘতম সংস্করণের ক্যারিয়ার।
শামির অবসরে হতাশ শাস্ত্রী। তাঁর মতে, গত ১২ মাসের মধ্যে অন্তত একবার হলেও টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল এই পেসারের। শাস্ত্রীর বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও ৩০-৪০টি উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য ছিল শামির।
শামির ফিটনেস নিয়ে নির্বাচকদের প্রশ্ন তোলার বিষয়টিও মানতে পারছেন না সাবেক এই কোচ। তাঁর যুক্তি, জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলেছেন শামি। বাংলার হয়ে একের পর এক ম্যাচ খেলেছেন, করেছেন দীর্ঘ স্পেল। চলতি রঞ্জি ট্রফিতে প্রথম তিন ম্যাচেই নিয়েছেন ১৪ উইকেট। দিল্লির বিপক্ষে ৫৯ রানে পাঁচটি এবং মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ৩৭ রানে চার উইকেট পেয়েছেন।
শাস্ত্রীর প্রশ্ন, এত কিছুর পরও ফিটনেস প্রমাণে একজন ক্রিকেটারকে আর কী করতে হবে? তাঁর মতে, সংবাদমাধ্যমে শামির ফিটনেস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও মাঠের পারফরম্যান্সই সেসবের যথেষ্ট জবাব।
২০২৩ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালই ছিল ভারতের হয়ে শামির শেষ টেস্ট। এরপর আর লাল বলের ক্রিকেটে জাতীয় দলে সুযোগ পাননি তিনি। অথচ ২০২৬ সালের দলীপ ট্রফিতে ইস্ট জোনের হয়ে তিন ম্যাচে সাত উইকেট নিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করতেও ভূমিকা রেখেছেন এই পেসার।
তবে শামির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করেন না শাস্ত্রী। সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতের হয়ে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। শাস্ত্রীর মতে, আইপিএলে ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে কোনো সিনিয়র পেসার চোটে পড়লে শামি হতে পারেন ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প।