শিরোনাম
◈ তেল গ্যাস বিদ্যুৎ ও সারের দাম বাড়া‌তে চাপ দি‌চ্ছে আইএমএফ ◈ আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট হলে ইসরাইলের পতন হবে: নেতানিয়াহু ◈ আ‌র্সেনাল জিত‌লো অধিনায়কের গোলে, শীর্ষস্থান আরও মজবুত ◈ অ‌স্ট্রেলিয়ান উসমান খাজা বল‌লেন, বল টেম্পারিংয়ে আমা‌দের পুরো দল জড়িত ছি‌লো ◈ তিন দিনে ১৩০০ পোশাক কারখানা বন্ধ, কর্মহীন সাড়ে ৭ লাখ শ্রমিক ◈ ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান, আহত ২২ ◈ ভারতের মিজোরামে অস্ত্রের গোপন মজুত, পার্বত্য চট্টগ্রামে সরবরাহের ছক ◈ ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন মোড়, সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকোট ◈ কানাডায় নতুন পিআর পাওয়ার নতুন সুযোগ, তিন বছরে নেওয়া হবে ১১ লাখ ৪০ হাজার অভিবাসী ◈ দুবলার চরে সাগরে গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল পর্যটকের, ৩৩ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ দুপুর
আপডেট : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

অ‌স্ট্রেলিয়ান উসমান খাজা বল‌লেন, বল টেম্পারিংয়ে আমা‌দের পুরো দল জড়িত ছি‌লো

স্পোর্টস ডেস্ক: দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার কেপটাউনে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির আট বছরের বেশি সময় পর নতুন করে বিস্ফোরক দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটার উসমান খাজা। তাঁর দাবি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই টেস্টে স্যান্ডপেপার ব্যবহার সম্পর্কে পুরো দলই জানত। এমনকি কেপটাউন টেস্টের আগের পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টেও (বর্তমানে গেবেখা) বলের আকৃতি পরিবর্তনে স্যান্ডপেপার ব্যবহার করা হয়েছিল।

খাজার এই দাবি সরাসরি সাংঘর্ষিক ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার চার পেসার মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের দেওয়া যৌথ বিবৃতির সঙ্গে। সে সময় বল টেম্পারিং সম্পর্কে তাঁদের জানার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন এই চার ক্রিকেটার।

সম্প্রতি সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাজা বলেন, এটা আমাদের সবার বিষয় ছিল। শুধু ব্যাটার, বোলার কিংবা কোচিং স্টাফ নয়—আমরা সবাই জানতাম।
শিগগিরই প্রকাশিত হতে যাওয়া নিজের আত্মজীবনী সাবর বইয়েও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন সাবেক এই ওপেনার।

২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউন টেস্টে ক্যামেরন ব্যানক্রফটের ট্রাউজারের ভেতর থেকে ছোট এক টুকরা স্যান্ডপেপার বের করার দৃশ্য টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ স্বীকার করেন, দলের ‘লিডারশিপ গ্রুপ’ বল টেম্পারিংয়ের পরিকল্পনা করেছিল।

Advertisement

এরপর স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারকে ১২ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। ব্যানক্রফট পান ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা। স্মিথের ওপর আরও ১২ মাসের জন্য অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

ওয়ার্নারের ওপর দেওয়া হয়েছিল আজীবন অধিনায়কত্বের নিষেধাজ্ঞা। ২০২৪ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। পরে সিডনি থান্ডারের অধিনায়কও হন তিনি।

খাজার দাবি, ঘটনার পর দলের ড্রেসিংরুমেই তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর মতে, দায় শুধু স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।

খাজা বলেন, আদর্শ পরিস্থিতিতে আমি এসব বলতে চাইতাম না। সত্যটা সামনে আনার মানুষ হতে চাইনি আমি। কিন্তু আট বছর পরও সত্য প্রকাশ পাবে বলে ভেবেছিলাম। হয়তো ভেবেছিলাম ডেভি (ওয়ার্নার) কিছু বলবে, কিংবা অন্য কেউ মুখ খুলবে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আমার ওপর এসে পড়বে, তা ভাবিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘শুরু থেকেই আমি চেয়েছি, সবাই মিলে দায় নিই। ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমেও তাদের বলেছিলাম, বিষয়টি দলীয়ভাবে নিতে হবে। আমরা দল হিসেবে এটা করেছি, কী ঘটেছে তা আমরা জানতাম। তাই দল হিসেবেই দায় নিতে হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ওই তিনজনকে ভয়াবহ সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে।

খাজার মতে, স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে এখনো সেই ঘটনার পরিণতি বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। তাঁদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই মুখ খুলেছেন তিনি। ক্রিকেটের বাইরেও যে জীবন আছে, সেটা আমি সব সময় বিশ্বাস করি। ওই তিনজনের অন্তত কিছুটা ন্যায়বিচার পাওনা। কিন্তু মনে হচ্ছে, কেউই তাঁদের সেই ন্যায়বিচার দেবে না।

তাদের কেউই প্রথমে মুখ খুলতে চায় না। সেটাই স্বাভাবিক। কারণ, তারা কিছু বললে সেটাকে কেবল তাদের বক্তব্য বা শোনা কথা বলে উড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। তাই অন্য কারও মুখ খোলা প্রয়োজন ছিল,’ বলেন খাজা।

বল টেম্পারিংয়ের ঘটনার পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তদন্ত শুরু করেছিল। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে শাস্তি দেওয়া হয়। তবে তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ না করায় বিস্মিত খাজা।

তিনি বলেন, ‘পুরো টেস্টে আমি ক্যামেরন ব্যানক্রফটের পাশেই বসেছিলাম। অথচ আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি কারণ তারা জানত, আমি বিষয়টি দলীয়ভাবে নিতে চাইব।

আমাকে প্রশ্ন করা হলে সত্য বলার জন্যও প্রস্তুত ছিলাম। ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু ফোন আর আসেনি। এরপর শাস্তি ঘোষণা করা হলো। বিষয়টি আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।’

সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সঙ্গেও নিজের বই নিয়ে কথা বলেছেন খাজা। বইয়ে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা নিয়ে খোলামেলা লিখবেন, সেটিও কামিন্সকে জানিয়েছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারে অস্ট্রেলিয়া।

অ্যাশেজ সিরিজের পর বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া খাজা স্বীকার করেছেন, তাঁর এই বক্তব্যে সাময়িকভাবে অনেকের জীবন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে সত্য প্রকাশের সিদ্ধান্তে অনড় তিনি। তাঁর বিশ্বাস, এত দিন ধরে চলা বিতর্কের অবসান ঘটানোর এটাই সুযোগ।

  • সর্বশেষ