স্পোর্টস ডেস্ক : ১১২ রানের লক্ষ্য। স্লো ও স্পিনসহায়ক উইকেট। শুরুতে পাকিস্তানকে চাপে ফেলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ লিটন দাসদের। বাংলাদেশের হারের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়াল মুস্তাফিজুর রহমানের দুই ওভারের বোলিং। মাত্র দুই ওভারে ৪১ রান দিয়ে ম্যাচটাই পাকিস্তানের হাতে তুলে দেন অভিজ্ঞ এই পেসার।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রান করে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ২৩ রান করে চাপে পড়ে তারা। সেই ধাক্কা সামলে তাওহীদ হৃদয়ের ২৫ বলে ৪২, সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেনের কার্যকর ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক লিটন দাস করেন মাত্র ২ রান।
বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় কাভারের নিচে থাকা উইকেটে শুরু থেকেই স্পিনাররা পেয়েছেন বাড়তি সহায়তা। বাংলাদেশের চার স্পিনারের মধ্যে মোসাদ্দেককে অবশ্য বোলিংয়েই আনেননি লিটন। প্রথম তিন ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের রান ছিল ২০। তখনও ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে।
কিন্তু মুস্তাফিজ আক্রমণে আসতেই বদলে যায় চিত্র। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তাঁর প্রথম দুই বলেই ছক্কা হাঁকান সাইম আইয়ুব। শেষ বলে তাঁকে ফিরিয়েও ওভার থেকে ১৮ রান দেন মুস্তাফিজ। এরপর রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদীর স্পিনে আবারও চাপে পড়ে পাকিস্তান।
দলীয় ৫৩ রানে উসমান খান ফিরলে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা জাগে বাংলাদেশের। কিন্তু দশম ওভারে আবারও মুস্তাফিজকে আক্রমণে আনেন লিটন। আব্দুল সামাদ সেই ওভারে ছক্কা ও টানা চার মেরে তুলে নেন ২৩ রান। এরপর পাকিস্তানের দরকার পড়ে মাত্র ১৩ রান, ১৮ বলে।
শেষ পর্যন্ত ১১.৩ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। আব্দুল সামাদ ১৫ বলে ৩০, সাইম আইয়ুব ১২ বলে ২১ এবং নাসান নেওয়াজ ২২ বলে ২৭ রান করেন।
ফাইনালের দরজা বন্ধ হয়ে গেল বাংলাদেশের সামনে। এখন লড়াই শুধু ব্রোঞ্জের জন্য। ৩ অক্টোবর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত-শ্রীলঙ্কার পরাজিত দলের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে লিটনের দল।