স্পোর্টস ডেস্ক : ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলমান টেস্ট সিরিজের মাঝপথেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) গণছাঁটাইয়ের অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তে স্তম্ভিত ক্রিকেট বিশ্ব। সিরিজের দুটি টেস্টে শোচনীয় হারের পর একযোগে সাতজন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো এবং হেড কোচ ও বোলিং কোচকে বরখাস্ত করার ঘটনায় চারদিকে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এই অচলাবস্থার মাঝেই বিখ্যাত ভারতীয় ধারাভাষ্যকার হার্ষা ভোগলের একটি পোস্ট বিষয়টি নিয়ে নেটদুনিয়ায় নতুন করে চর্চা বাড়িয়ে দিয়েছে।
পিসিবির এমন বিশৃঙ্খল সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে ভোগলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন, ‘অবিশ্বাস্য সব কাণ্ড ঘটানোর জন্য পাকিস্তান ক্রিকেটের ওপর ভরসা রাখা যায়! প্রথম টেস্টের অধিনায়ক সালমান আগাকে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে বাদ দেওয়া হলো এবং তৃতীয় টেস্টের আগেই দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হলো! সিরিজের মাঝপথেই হেড কোচ ও বোলিং কোচ বরখাস্ত।
অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষককেও ফেরত পাঠানো হয়েছে। এমনকি যাদের বিকল্প হিসেবে ডাকা হয়েছে, টেস্টে নামা তো দূরের কথা, তারা সময়মতো ভিসা পাবে কি না সেটাই এখন অনিশ্চিত। বরাবরের মতো মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের নাটকই বেশি!’
এই সিদ্ধান্তের ফলে মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আগা, আলী উসমান, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল ও ওয়াইস জাফরকে দেশে ফেরত যেতে হচ্ছে। তাদের বিকল্প হিসেবে পাঁচজন একদম নতুন খেলোয়াড়সহ মোট সাতজনকে ডাকা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রানধাওয়া, রেজাউল্লাহ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থাকা সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজল।
একই সঙ্গে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে বরখাস্ত করে সীমিত ওভারের দলের হেড কোচ মাইক হেসন এবং বোলিং কোচ অ্যাশলি নফকে-কে টেস্ট দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে দলের নির্ভরযোগ্য উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বাদ দেওয়া নিয়ে বড় আলোচনা তৈরি হয়েছে। চলতি ইংল্যান্ড সফরে উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত ক্যাচিং ও গ্লাভসওয়ার্ক দেখালেও ব্যাট হাতে তিনি একদমই ছন্দে ছিলেন না। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ১২ ও ৪১ রান করার পর লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টের দুই ইনিংসে মাত্র ৭ ও ১ রান করেন তিনি।
পাকিস্তান ক্রিকেটে ঘনঘন পরিবর্তন নতুন কোনো ঘটনা নয়, তবে একটি আন্তর্জাতিক সিরিজের মাঝপথে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফে এমন নজিরবিহীন ও তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্ত দলের সার্বিক পারফরম্যান্সে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।