শিরোনাম
◈ বিদিশার জামিন নামঞ্জুর ◈ আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু ◈ হিন্দুস্তান টাইমসকে যা জানালেন হাসিনা ◈ ইরানের পাল্টা হামলায় কাঁপল ৪ দেশ, লক্ষ্য মার্কিন সামরিক স্থাপনা ◈ ওয়া‌শিংট‌নের চাপিয়ে দেওয়া নির্দেশ মেনে নেবে না ইরান: মুখপাত্র ◈ ৫ মাস চিকিৎসা শেষে আজ রাত দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস ◈ ১৭ সেপ্টেম্বর কৃষক কার্ড উদ্বোধন, প্রথম দিনেই অর্থ পাবেন ১ লাখ কৃষক ◈ জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি ◈ পুরোনো ভূমি অধিগ্রহণ মামলার অব্যবহৃত অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমার নির্দেশ ◈ অবসরের পরই আবার কলকাতায় আস‌ছেন মেসি, এবার মা‌ঠেই খেলবেন!

প্রকাশিত : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৭ দুপুর
আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:১৫ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

অনলাইন বাণিজ্য জায়ান্ট অ্যামাজনের বিরুদ্ধে ২০ বিলিয়ন ডলারের মামলা

আন্তর্জা‌তিক ডেস্ক : অনলাইন বাণিজ্য জায়ান্ট অ্যামাজনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস, ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) এবং আরও ২১টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল যৌথভাবে মামলাটি করেছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অ্যামাজন তার ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত নিলাম ব্যবস্থায় গোপনে কারসাজি করে ২০১৮ সাল থেকে ১২ লাখের বেশি বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে প্রকৃত মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কয়েক লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অ্যামাজন দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপনদাতাদের জানিয়ে এসেছে যে তাদের বিজ্ঞাপন নিলাম ‘সেকেন্ড-প্রাইস’ পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ সর্বোচ্চ দরদাতা জয়ী হলেও তাকে নিজের পুরো দর নয়, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরকে সামান্য অতিক্রম করা মূল্য পরিশোধ করতে হয়।

কিন্তু তদন্তকারীদের দাবি, বাস্তবে অ্যামাজন নিলাম শেষে কৃত্রিমভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর বাড়িয়ে দিত। ফলে বিজয়ী বিজ্ঞাপনদাতাকে প্রকৃত ন্যূনতম মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ দিতে হতো। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে নিলামের পূর্ণাঙ্গ তথ্য গোপন রাখা হতো, যাতে তারা অতিরিক্ত মূল্য আরোপের বিষয়টি বুঝতে না পারেন।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ব্ল্যাক ফ্রাইডে ও প্রাইম ডের মতো ব্যস্ত কেনাকাটার সময় বিজ্ঞাপনের মূল্য আরও বাড়িয়ে দেওয়া হতো। এতে খাদ্যপণ্য, মুদি সামগ্রী, ফার্মেসি পণ্য ও ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসার বিজ্ঞাপন ব্যয় বেড়েছে।

কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এই অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরও পড়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি বিজ্ঞাপন ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করলে ক্রেতাদেরও বেশি মূল্য দিতে হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, ব্যবসাগুলো গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে অ্যামাজনের ওপর নির্ভর করে এবং বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ন্যায্য মূল্য পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অন্যায্যভাবে বিজ্ঞাপনের মূল্য বাড়ানোর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসার পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন।

মামলায় অ্যামাজনের বিরুদ্ধে ফেডারেল ট্রেড কমিশন অ্যাক্টসহ একাধিক ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের কাছে কথিত অবৈধ নিলাম ব্যবস্থা বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত বিজ্ঞাপনদাতাদের অর্থ ফেরত, আর্থিক জরিমানা ও অন্যান্য ক্ষতিপূরণের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক ছাড়াও মামলায় ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, ওয়াশিংটনসহ আরও ২১টি অঙ্গরাজ্য যুক্ত হয়েছে।মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে অ্যামাজনকে বড় অঙ্কের জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞাপন নিলাম ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

  • সর্বশেষ