আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, ইরান তার জাতীয় স্বার্থকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। তাই নিজেদের দাবি ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার মার্কিন প্রচেষ্টার কাছে তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না এবং ওয়াশিংটনের নির্দেশ মেনে চলবে না।
প্রতিবেদনে ইরনা’র বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের স্বার্থ ও জাতীয় কল্যাণের ভিত্তিতে বিভিন্ন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এবং সে অনুযায়ী নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। শেষ পর্যন্ত দেশের সংশ্লিষ্ট ও বৈধ কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তার ভিত্তিতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেবে। --- পার্সটুডে
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমেরিকা প্রতিবারই কোনো না কোনো অজুহাত দেখিয়ে আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এবং প্রতিবারই তার উপযুক্ত জবাব পেয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড শুধু আমেরিকার অসৎ উদ্দেশ্যেরই প্রমাণ নয়; একই সঙ্গে এগুলো দেখিয়ে দেয় যে, একদিকে মার্কিনিরা বিভ্রান্তিতে ভুগছে এবং অন্যদিকে তাদের অতিরিক্ত দাবি আদায়ের নেশা ধরেছে। তারা আলোচনার অর্থকে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছে। ইরানের ক্ষেত্রে এ ধরনের পদ্ধতি কোনোভাবেই কার্যকর হবে না।
বাকায়ি আরও বলেন, ভুল হিসাব-নিকাশের কারণে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে একটি অবৈধ যুদ্ধ শুরু করার কারণে এবং কোনো না কোনোভাবে পুরো অঞ্চল ও বিশ্বকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার কারণে আমেরিকা এখন ক্ষয় ও দুর্বলতার মধ্যে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের সময় আমেরিকা যে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছে, আমাদের দৃষ্টিতে তার প্রতিটিই যুদ্ধাপরাধের সুস্পষ্ট উদাহরণ। এই যুদ্ধের কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না; এটি ছিল সম্পূর্ণ অন্যায় ও অবৈধ একটি যুদ্ধ। ফলে এই যুদ্ধে সংঘটিত সব কর্মকাণ্ডই যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।