স্পোর্টস ডেস্ক : আপাতত সামনে বিশ্বকাপ। ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক সাউথ আফ্রিকা। ফলে আপাতত সে দেশের বোর্ডে ক্ষমতা দখলের লড়াই বন্ধ রয়েছে। তবে তার মানে এই নয় যে, লড়াই থেমে গিয়েছে। বিশ্বকাপ শেষ হলেই আবার ডামাডোলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডে এখন ১৫ সদস্য রয়েছেন। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, আট জন স্বাধীন ও ছ’জন বোর্ড নিযুক্ত সদস্য রয়েছেন। যিনি মাথায় থাকবেন তিনিও স্বাধীন সদস্য। স্বাধীন সদস্যদের উপর বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাঁরা নিজেদের মতো কাজ করেন। কিন্তু যাঁদের বোর্ড নিয়োগ করেছে, তাঁদের উপর বোর্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। -- আনন্দবাজার
বোর্ড নিযুক্ত যে সদস্যেরা রয়েছেন তাঁরা মূলত সাউথ আফ্রিকার ছোট প্রদেশের ক্রিকেটের মাথায় রয়েছেন। তাঁদের নেওয়া হয় ফাঁক ভরাট করতে। বোর্ডের কোনও সিদ্ধান্তে তাঁদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বোর্ড চালান স্বাধীন সদস্যেরা। তাঁরাই সংখ্যায় বেশি। এই স্বাধীন সদস্যেরা দেশের প্রধান প্রদেশগুলির ক্রিকেট সংস্থার মাথায় রয়েছেন।
২০১৩ সাল পর্যন্ত সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডে কোনও স্বাধীন সদস্য ছিলেন না। বর্তমান বোর্ডের মধ্যে আলোচনা চলছে, যাতে আবার স্বাধীন সদস্যের সংখ্যা কমানো হয়। কিন্তু সেটা হলে নতুন বিপদ। স্বাধীন সদস্যদের ক্ষমতা বেশি হওয়ায় বাড়তি সুবিধা পায় স্পনসর থেকে শুরু করে ম্যাচের সম্প্রচারকারী চ্যানেল। এই পরিস্থিতি বদলালে স্পনসরেরা আগ্রহ হারাতে পারেন। কেন সেটা করতে চাইবে বোর্ড?
পুরনো ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে মরিয়া বোর্ড নিযুক্ত সদস্যেরা। তার কারণও রয়েছে। বোর্ডের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বোর্ড নিযুক্ত সদস্যেরা ক্রমশ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছেন। সাউথ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগেও তাঁদের কোনও ভূমিকা থাকে না। তাঁরা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতার কেন্দ্রে বদলের পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা।
সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান সভাপতি আর্ল ক্লেনিস্টর জানিয়েছেন, তিনি পুরনো নিয়মে ফিরতে চান না। কিন্তু পাশাপাশি এ-ও জানিয়েছেন, এই নিয়ম খুব পুরনো নয়। তিনি বলেন, “আমরা যদি দেশের রাগবি ও ফুটবল সংস্থার দিকে তাকাই, তা হলেই বিষয়টা পরিষ্কার হবে। রাগবি সংস্থা খুবই সফল। কিন্তু ফুটবল সংস্থা আবার চরম ব্যর্থ। কিন্তু দুটো বোর্ডেই স্বাধীন সদস্য নেই। সকলেই বোর্ড নিযুক্ত।
রাগবির ন’টি বিশ্বকাপে খেলে চার বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সাউথ আফ্রিকা। অন্য কোনও দেশের এই সাফল্য নেই। আবার ফুটবল বিশ্বকাপে চার বার সুযোগ পেয়ে মাত্র এক বার গ্রুপ পর্ব টপকাতে পেরেছে সাউথ আফ্রিকা। তার কারণও রয়েছে। রাগবিতে একটি সুষ্ঠু সিস্টেম রয়েছে। ফুটবলে দুর্নীতির অভিযোগ বার বার উঠেছে। তার ফল হাতেনাতে দেখা যাচ্ছে।
বোর্ড নিযুক্ত সদস্যদের দাবি, সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেটে প্রত্যেক প্রদেশের সমান অধিকার থাকা উচিত। কাউকে বেশি, কাউকে কম গুরুত্ব দিলে হবে না। স্বাধীন সদস্যেরা সব সিদ্ধান্ত নিজেদের প্রদেশের কথা ভেবে নেন। তাতে অন্যদের ক্ষতি হচ্ছে। ফলে তাঁরা আওয়াজ তুলছেন।
এই সব নিয়েই বোর্ডের ডামাডোল চলছে। এই ছবি অবশ্য নতুন নয়। আগে শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটারদের নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। তার জেরে দীর্ঘ বছর নির্বাসিত থাকতে হয়েছিল সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডকে। আপাতত সেই সমস্যা মিটেছে। কিন্তু নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপ পর্যন্ত হয়তো সেই বিষয়ে বেশি জলঘোলা হবে না। কারণ, ২০০৩ সালের পর আবার একটি এক দিনের বিশ্বকাপ ও ২০০৭ সালের পর কোনও সিনিয়র স্তরে আইসিসি প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে তারা। এই বিশ্বকাপ ভাল ভাবে সামলাতে পারলে পরবর্তীতে আরও দায়িত্ব পাওয়া যাবে। তাতে বোর্ডের আর্থিক সুরাহা হবে। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষ হলেই আবার ডামাডোল শুরুর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।