স্পোর্টস ডেস্ক : আগামী বছর বিশ্বফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা-র সভাপতির নির্বাচনে কি লড়তে পারবেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো? ইতিমধ্যেই ১০ বছর ধরে তিনি সভাপতি রয়েছেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী টানা তিন বার বা মোট ১২ বছরের বেশি কেউ সভাপতি থাকতে পারবেন না। তা হলে কী ভাবে তিনি লড়বেন? বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে।
২০২৭ সালের মার্চ মাসে মরক্কোয় নির্বাচন হওয়ার কথা। ২০১৬ সালে তৎকালীন ফিফা সভাপতি শেপ ব্লাটারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ফিফা কংগ্রেসে তাঁকে সরিয়ে সভাপতি করা হয়েছিল ইনফান্তিনোকে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ ছিল ব্লাটারের। তার তিন বছর আগেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। --- আনন্দবাজার
ইনফান্তিনোর যুক্তি, ২০১৬ থেকে ২০১৯, এই তিন বছর তিনি ব্লাটারের সময়কাল চালিয়েছেন। তাঁর নিজের সময়কাল শুরু হয়েছে ২০১৯ সাল থেকে। ফলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত তিনি সভাপতি থাকতে পারবেন। অর্থাৎ, আরও এক বার নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন তিনি। ২০২২ সালে ফিফার বৈঠকের পর বিবৃতি দিয়ে এই কথা জানানো হয়েছিল।
কিন্তু ইনফান্তিনোর এই দাবির বিরুদ্ধে ফিফাকে চিঠি লিখেছে ‘ফেয়ারস্কোয়্যার’ নামের এক সংস্থা। ফিফার ‘গভর্ন্যান্স, অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়্যান্স কমিটি’-কে চিঠিতে তারা লিখেছে, “আমরা যে অভিযোগ করেছি ও তার পক্ষে যা যা তথ্য দিয়েছি, তাতে এটা স্পষ্ট যে, ইনফান্তিনো একাধিক নিয়ম ভেঙেছেন। ফিফার নিয়মে স্পষ্ট বলা আছে, তিন বারের বেশি কেউ সভাপতি হতে পারবেন না। ফিফা নিজেদের নিয়ম নিজেরাই ভাঙতে পারে না।
চিঠিতে আরও লেখা হয়েছে, “ইনফান্তিনো দাবি করেছেন, প্রথম তিন বছর তিনি অন্য কারও দায়িত্বভার সামলেছেন। কিন্তু তা ঠিক নয়। ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোকে সর্বসম্মত ভাবে সভাপতি করা হয়েছিল। সেই সময় থেকেই তাঁর সময় শুরু হয়েছে। চার বছরের বদলে তিন বছর সভাপতি থাকার মানে এই নয়, সেই তিন বছর ধরা হবে না। তাই ইনফান্তিনো যেন আগামী বছর নির্বাচনে না দাঁড়ান। তিনি নির্বাচনে দাঁড়ানোর যোগ্যই নন।
বিশ্বকাপ চলাকালীন ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ উঠেছে। তার মধ্যে গুরুতর, ফুটবলে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটানো। বিশ্বকাপ শেষে বিতর্ক আরও বাড়ে। বিশ্বকাপের মালিকানা বেসরকারি সংস্থার হাতে বিক্রির পরিকল্পনা করেও বিরোধিতার জেরে সরে আসতে হয়েছে তাঁকে।
ইতিমধ্যেই ইউরোপ, এশিয়া ও কনকাকাফ ইনফান্তিনোর হাত ছেড়েছে। এত দিন আফ্রিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল সংস্থা ইনফান্তিনোকে সমর্থন করছিল। এর মধ্যেই নিজেদের সমর্থন তুলে নিয়েছে স্কটল্যান্ডের ফুটবল সংস্থা। কঙ্গো ফুটবল সংস্থার প্রাক্তন সভাপতি দাবি করেছেন, এখন নির্বাচন হলে আফ্রিকার অন্তত অর্ধেক দেশ ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ভোট দেবে। তেমনটা হলে নির্বাচনে দাঁড়ালেও হারতে হতে পারে ইনফান্তিনোকে। ফলে তাঁর উপর চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে।