লিওনেল মেসি তার সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। কিন্তু তার সর্বশেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি যেন একেবারেই ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে এসেছে। ক্যারিয়ারের টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে আছেন তর্কযোগ্যভাবে ফুটবল ইতিহাসের সেরা এই তারকা আর সেই মুহূর্তে তিনি এমন একটি আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে পৌঁছানোর দীর্ঘ যাত্রাকে স্মরণ করা হয়েছে; সম্ভবত শেষবারের মতো।
‘শুরু থেকেই তোমরা আমার সঙ্গে ছিলে। চল, আর একবার! এই বিশ্বকাপে আমি খেলছি আমার "এল আলটিমো ট্যাঙ্গো" বুট পরে!’
ক্যাপশনটি ছোট হলেও প্রতিটি শব্দ এবং ভিডিওর প্রতিটি দৃশ্য যেন বিশেষ অর্থ বহন করে। কারণ, আগামীকালের (১৯ জুলাই) ফাইনালকে অনেকেই মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হিসেবে দেখছেন।
পোস্টটির মূল আকর্ষণ ছিল অ্যাডিডাসের বিশেষ সংস্করণের এফ৫০ ‘এল আলটিমো ট্যাঙ্গো’ বুট। অ্যাডিডাসের ভাষায়, এটি ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মেসির সম্ভাব্য শেষ উপস্থিতিকে স্মরণ করে তৈরি করা হয়েছে।
এই সংগ্রহটি উদযাপন করছে দুই দশকের এক ঐতিহাসিক সম্পর্ককে, যার সূচনা হয়েছিল ২০০৬ বিশ্বকাপে। তখন মাত্র কিশোর বয়সেই বিশ্বমঞ্চে অভিষেক করেছিলেন লিওনেল মেসি।
'শুরু থেকেই তোমরা আমার সঙ্গে ছিলে'; এই বাক্যটি মূলত অ্যাডিডাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা। পেশাদার ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময়ই এই ব্র্যান্ডটি ছিল মেসির সঙ্গী। প্রচারণাটিতে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে তার প্রথম যাত্রার সঙ্গে ২০২৬ সালের ষষ্ঠ এবং সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপকে এক সুতোয় গেঁথে দেওয়া হয়েছে, যা তৈরি করেছে এক পূর্ণতার অনুভূতি।
বুটের নকশাতেই লুকানো আসল গল্প
‘এল আলটিমো ট্যাঙ্গো’ এফ৫০ বুটের প্রধান রং সাদা। এর সঙ্গে রয়েছে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী আকাশি নীল এবং সোনালি রঙের ছোঁয়া। এই রংগুলো একদিকে জাতীয় পতাকার প্রতীক, অন্যদিকে দেশের জন্য মেসির অর্জিত গৌরবের প্রতিফলন।
ডিজাইনটি ২০০৬ বিশ্বকাপে মেসির পরা এফ৫০.৬ টিইউএনআইটি বুটের প্রতিও শ্রদ্ধা জানায়। সেই বিশ্বকাপেই ১৮ বছর বয়সী মেসি প্রথমবারের মতো বিশ্ব ফুটবলে নিজের আগমনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
অ্যাডিডাস ইচ্ছাকৃতভাবেই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরু এবং সম্ভাব্য শেষ অধ্যায়কে একই গল্পে বেঁধেছে। এমনকি ‘এল আলটিমো ট্যাঙ্গো’ নামটিরও রয়েছে দ্বৈত অর্থ। এটি যেমন আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ট্যাঙ্গো নৃত্যের প্রতি ইঙ্গিত করে, তেমনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শেষবারের মতো এক অনন্য পরিবেশনার প্রতীকও।
ভিডিওটি শুধুমাত্র চলতি বিশ্বকাপের হাইলাইট নিয়ে তৈরি নয়। বরং এতে তুলে ধরা হয়েছে মেসির পুরো বিশ্বকাপ যাত্রা; প্রথম ম্যাচ থেকে আজ পর্যন্ত তার দীর্ঘ পথচলা। প্রায় ২০ বছরের সেই অভিযাত্রাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভিডিওটি স্পষ্ট করে যে, এটি আর দশটি টুর্নামেন্টের মতো নয়। এটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের গল্প।
ভিডিওটির নির্মাণশৈলীও অ্যাডিডাসের বৃহত্তর প্রচারণার অংশ, যেখানে গত দুই দশকে মেসি ও অ্যাডিডাসের একসঙ্গে তৈরি করা স্মৃতি, অর্জন এবং ইতিহাসকে উদযাপন করা হয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে মেসি এই পোস্টটি শেয়ার করেছেন।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে। অন্যদিকে স্পেন ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছে।
কিন্তু মেসির জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব শুধু আরেকটি শিরোপা জেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যদি আর্জেন্টিনা জয় পায়, তবে তিনি তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ইতি টানতে পারবেন আরেকবার বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তোলারসেই স্বপ্নের দৃশ্য দিয়ে।
এই প্রেক্ষাপটেই তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি আরও বেশি আবেগঘন হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে, মেসি তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ অধ্যায়ে আরেকটি অবিস্মরণীয় স্মৃতি সৃষ্টি করতে প্রস্তুত।
পোস্টটি প্রকাশের কয়েক মিনিটের মধ্যেই কোটি কোটি ভিউ, লাইক ও মন্তব্যে ভরে যায়। বিশ্বের নানা প্রান্তের সমর্থকেরা ভিডিওটিকে অত্যন্ত আবেগময় বলে বর্ণনা করেছেন। আবার অনেকেই বিশেষভাবে আলোচনা করেছেন মেসির বিশেষ বুট নিয়ে, যা ইতোমধ্যেই আর্জেন্টিনার ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযানের অন্যতম প্রতীকী চিত্র হয়ে উঠেছে।