স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে। সোনালী ট্রফির এই অন্তিম মঞ্চে আলবিসেলেস্তেদের সামনে এখন একমাত্র বাধা ইউরোপসেরা স্পেন। তবে রবিবারের মেগা ফাইনালে লিওনেল মেসিদের পক্ষে কথা বলছে এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান, যা তাদের ট্রফি ধরে রাখার অভিযানে বড় এক শুভলক্ষণ।
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার যে ট্র্যাক রেকর্ড, তা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ আশাজাগানিয়া। ২০১৮ সালে স্কালোনি জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে হারের মুখ দেখেনি আর্জেন্টিনা। এই দীর্ঘ সময়ে ইউরোপীয় পরাশক্তিদের সাথে ১১ বার মুখোমুখি হয়ে প্রতিবারই অপরাজিত থেকেছে তারা।
ইউরোপের দলগুলোর বিপক্ষে তাদের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক জয়টি এসেছিল অবশ্যই ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে। যেখানে তারা টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বজয় করেছিল। এছাড়া ২০২২ সালে ইউরো ও কোপা আমেরিকাজয়ীদের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী 'ফিনালিসিমা' ম্যাচে ইতালিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আরেকটি ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।
স্বাভাবিকভাবেই লাতিন আমেরিকার দল হওয়ায় আর্জেন্টিনার জন্য ইউরোপীয় দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ কেবল বিশ্বকাপ এবং আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকে। স্কালোনির অধীনে খেলা এমন ১১টি ম্যাচের মধ্যে চারটি ছিল কাতার বিশ্বকাপে এবং তিনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে।
ইউরোপীয় দলগুলোর বিরুদ্ধে স্কালোনির সামগ্রিক রেকর্ডের খাতায় রয়েছে ৮টি জয় এবং ৩টি ড্র—যার মধ্যে দুটি ম্যাচ (ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস) আবার টাইব্রেকারে গড়িয়েছিল এবং দুটিতেই শেষ হাসি হেসেছে আর্জেন্টিনা।
শুধু মূল দলেই নয়, স্কালোনির ইউরোপ-বধের রেকর্ড আরও পুরোনো। আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ থাকাকালীন ইউরোপের দলের বিপক্ষে তাঁর একমাত্র ম্যাচটিতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ গোলের জয় পেয়েছিলেন তিনি। এমনকি নিজের খেলোয়াড়ি জীবনেও আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ইউরোপের দেশের বিপক্ষে তিনি মাত্র দুবার মাঠে নেমেছিলেন—যার একটি ছিল জার্মানির বিরুদ্ধে ড্র এবং অন্যটি হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে জয়।
এই পুরো পরিসংখ্যানটি কেবল স্পেনের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনাই বাড়িয়ে দিচ্ছে না, বরং ইউরোপীয় প্রতিপক্ষদের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতিতে, গলির ফুটবল থেকে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করার লাতিন আমেরিকার সেই ঐতিহ্য ও গর্বকেও যেন আরও একবার পুনরুজ্জীবিত করছে।