বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কো। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়েছে ফ্রান্স। প্রথম পাঁচ মিনিটেই দুবার গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। তবে দুইবারই অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।
প্রথম ২০ মিনিটে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। অন্যদিকে মরক্কো প্রতি-আক্রমণের কৌশলে খেললেও ফরাসি রক্ষণকে বড় কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। ম্যাচের ২৬ মিনিটে দ্রুতগতির এক আক্রমণে বক্সে ঢুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাকে থামাতে গিয়ে ফাউল করেন নুসাইর মাজরাউই, ফলে সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
তবে স্পট-কিক থেকে দলকে এগিয়ে নিতে পারেননি এমবাপ্পে। ২৯ মিনিটে নেওয়া তার দুর্বল শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইয়াসিন বুনু। ফ্রান্সের জার্সিতে টানা ১৫টি সফল পেনাল্টির পর এটিই এমবাপ্পের প্রথম ব্যর্থতা। এর আগে জাতীয় দলের হয়ে তিনি সর্বশেষ পেনাল্টি মিস করেছিলেন ২০২০ ইউরোর শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে।
পেনাল্টি সেভের পরও নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ধরে রাখেন বুনু। ৩৬ মিনিটে দেজায়ার দুয়ের কাছ থেকে প্রায় নিশ্চিত গোলও রুখে দেন তিনি। বিশ্বকাপে (টাইব্রেকারসহ) এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের নেওয়া ৯টি পেনাল্টির মুখোমুখি হয়ে মাত্র দুটি গোল হজম করেছেন মরক্কোর এই গোলরক্ষক। বাকি সাতটির মধ্যে চারটি সেভ করেছেন, আর তিনটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।
প্রথমার্ধের শেষদিকে লুকাস দিনিয়ের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফলে আরেকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয় ফ্রান্সের।
একের পর এক আক্রমণ, পেনাল্টি এবং একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেও জালের দেখা পায়নি ফ্রান্স। অন্যদিকে রক্ষণে শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্স ও ইয়াসিন বুনুর অনবদ্য গোলকিপিংয়ে গোল হজম এড়িয়েছে মরক্কো। ফলে বিরতিতে দুই দলই মাঠ ছাড়ে গোলশূন্য সমতায়। প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন ফ্রান্স ০-০ মরক্কো।
ফ্রান্স একাদশ
মাইনান (গোলরক্ষক), উপামেকানো, সালিবা, দিনিয়ে, কুন্দে, কোনে, র্যাবিও, দুয়ে, উসমান দেম্বেলে, ওলিসে, কিলিয়ান এমবাপে
মরক্কো একাদশ
ইয়াসিন বুনো (গোলররক্ষক), আশরাফ হাকিমি, দিয়োপ, মাজরাউই, বৌয়াদ্দি, এল-আয়নাউই, ওউনাহি, ব্রাহিম দিয়াজ, এল-খাননৌস, তালবি
'