স্পোর্টস ডেস্ক : এখনও পাঁচ মাস বাকি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের। তবে এর মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপ ঘিরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে সেটি ফুটবলের কারণে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণ ইস্যুতে আবারও বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক উঠেছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম 'জিবি নিউজ' এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডকে এই বছর জুনে মূল আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে দেশ দুটির বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে। এমনকি এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি, ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ দেশের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে মানুষের মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন। সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ব্রিটিশ রাজনৈতিক নেতারা বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ উপযুক্ত নাও হতে পারে—যদিও এই প্রস্তাবগুলো ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ বা ফুটবল ফেডারেশনগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়।
গত সোমবার রাতে হাউস অব কমন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কনজারভেটিভ দলের সাবেক মন্ত্রী সাইমন হোয়ার প্রস্তাব দেন যে, ট্রাম্পের আচরণের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যের দলগুলো বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। দ্য মিররের বরাতে হোয়ার ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বলেন, 'তিনি (ট্রাম্প) খুব সহজেই অপমানিত বোধ করেন, তার অহংকার আছে এবং তিনি অপমান সহ্য করতে পারেন না।'
এরপর তিনি বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, 'এ বছর কি রাষ্ট্রীয় সফর হওয়া উচিত? আমাদের ফুটবল দলগুলো কি আমেরিকার স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ খেলবে? এসব বিষয়ই প্রেসিডেন্টকে তার নিজের দেশে বিব্রত করবে। এখন আমাদের আগুনের জবাবে আগুন দিয়ে লড়তে হবে।
এই মতের পক্ষে সমর্থন জানান লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের লুক টেলর। স্টারমার ও সরকারের অন্যান্য সদস্যদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, 'আমি (মি. হোয়ার)-এর সঙ্গে একমত এবং সরকারকে জিজ্ঞাসা করতে চাই—তারা কি রাজার যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করা এবং বিশ্বকাপ বয়কট করার বিষয়টি বিবেচনা করবে? কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবল নিজের অহংকারেই সাড়া দেন।