বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ভারতে খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে গত কদিন ধরেই। এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিজেদের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই জানিয়েছেন বিসিবি সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন।
আইসিসির সঙ্গে আজ বিকেলে ভিডিও কনফারেন্স হওয়ার কথা বিসিবি আজ বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন, ফারুক আহমেদ ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন সেই সভায় ছিলেন। সভা শেষে যখন ফারুক-শাখাওয়াতরা বের হয়েছেন, তখন তাঁদের ঘিরে ধরেন সাংবাদিকেরা। গাড়িতে ওঠার সময় সাংবাদিকদের শাখাওয়াত বলেন, ‘আমরা যে অবস্থান নিয়েছি, সেখানেই আছি। আমাদের জায়গা থেকে এক ইঞ্চিও নড়ব না। মানে ভারতে আমরা যাব না।’
আইসিসির সঙ্গে বিসিবির আজকের সভায় নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সভা শেষে সাংবাদিকদের শাখাওয়াত জানিয়েছেন, ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এদিকে দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর এক মাসও বাকি নেই। ভারত-শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। যদিও সভায় কী আলোচনা হয়েছে, সে ব্যাপারে শাখাওয়াত সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানাননি। বিসিবি সহ-সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সময় খুব কম। সেটা তারাও (আইসিসি) জানে। আর কিছু বলা যাচ্ছে না।’
টুর্নামেন্টের প্রথম দিন ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে হওয়ার কথা বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ। একই মাঠে ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি লিটনদের প্রতিপক্ষ ইতালি ও ইংল্যান্ড। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ ১৬ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে বাংলাদেশের খেলার কথা নেপালের বিপক্ষে। এখন যদি বাংলাদেশের চার ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় চলে যায়, সে ক্ষেত্রে ‘বি’ গ্রুপের কিছু ম্যাচ ভারতে ভাগ হয়ে যেতে পারে। কলম্বোর প্রেমাদাসা, সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি), পাল্লেকেলে—বিশ্বকাপের জন্য শ্রীলঙ্কার এই তিন ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, ওমান, জিম্বাবুয়ে—‘বি’ গ্রুপে পড়েছে এই পাঁচ দল। বাংলাদেশকে ‘সি’ গ্রুপ থেকে ‘বি’ গ্রুপে স্থানান্তরের গুঞ্জন এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে কলকাতা থেকে বাদ দেওয়ার ইস্যুতেই মূলত নিরাপত্তা ইস্যু জোরদার হয়েছে। এক ক্রিকেটারকেই যখন নিরাপত্তা দিতে পারছে না, বাংলাদেশ দলের বিশাল বহরকে কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে—এই প্রশ্ন তুলেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলটসহ অনেকে। এরই মধ্যে ক্রিকবাজ খবর প্রকাশ করেছে, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের পরিবর্তে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো তিরুবনন্তপুরম ও চেন্নাইয়ে হতে পারে। আইসিসির কাছে বিসিবি নিরাপত্তার ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে দুই দফা চিঠি পাঠিয়েছে। দ্বিতীয় চিঠির উত্তর এখনো আসেনি।