এ আর. আব্বাস সিদ্দিকী, (কুতুবদিয়া): বিদেশ থেকে এক লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ার প্রান্তিক লবণ চাষীরা। ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশায় অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে এবার বেশি পরিমাণ জমিতে লবণ চাষ করেছেন তারা। অনেকের লবণ এখনও মাঠে রয়েছে, আবার অনেকেই লবণ বিক্রি করছেন।
তাদের আশঙ্কা, দেশীয় লবণ শিল্পকে ধ্বংস করতে একটি সিন্ডিকেট লবণ আমদানি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। লবণ আমদানির ফলে, চাষীদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবে। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্তের সম্মুখীন হবেন দেশীয় লবণ শিল্প। সুতরাং আমদানি নয়, দেশে লবণের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করার দাবি এসব প্রান্তিক চাষীদের। কুতুবদিয়া উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক লবণ চাষীদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।
অনুসন্ধানী তথ্য মতে, কুতুবদিয়া ৬ হাজার ৭৬৮ একর জমিতে লবণের চাষ হয়। এতে চাষীদের উৎপাদিত লবণ ১২ হাজার ৬২৫ মে.টন মাঠেই রয়েছে। যা বিক্রি করতে পারেনি স্থানীয় প্রান্তিক চাষীরা। এরমধ্যে গত বছরের ৯ হাজার মে.টন লবণ রয়েছে। এছাড়াও বিগত বছর গুলোতে লবণ উৎপাদনে পাঁচ যুগের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল। যা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন করে এ প্রান্তিক চাষীরা।
উপজেলার নেজাম উদ্দিন, নাছির উদ্দিন, মাহামুদুল করিম, সাজ্জাদ হোসেনসহ অনেক প্রান্তিক চাষীরা জানান, ন্যায্য মূল্যের আশায় অতীতের চেয়ে বেশি জমিতে লবণ চাষ করেছি। এতে খরচও আগের যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি। এখন যদি সরকার প্রান্তিক চাষীদের ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত করে, বিদেশি লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে তাহলে তো মরে যাবো। অন্তত প্রান্তিক চাষী ও এ শিল্পকে ষড়যন্ত্রের ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে বিদেশি লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি করেছেন তারা।
বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠ পরিদর্শক মো. ইদ্রীস আলী জানান, কুতুবদিয়ায় এ পর্যন্ত লবণ মজুদ রয়েছে ১২ হাজার ৬২৫ মে.টন। এর মধ্যে চলতি মৌসুমের উৎপাদিত লবণ ৩ হাজার ৬২৫ মে. টন।
এদিকে, কুতুবদিয়ার অর্থনৈতিক যোগানের চালিকাশক্তি হচ্ছে লবণ শিল্প। কিছু সিন্ডিকেট লবণের ঘাটতি দেখিয়ে এ শিল্পকে ধ্বংস করতে চায়। ওই ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে সরকার ২৪৭টি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টন আমদানির অনুমোদন দেয়ার কারণে দেড় লাখ দ্বীপবাসী উদ্বিগ্ন। শুধু প্রান্তিক চাষী নয়, লবণ শিল্প ও দ্বীপবাসীকে বাঁচাতে বিদেশি লবণ আমদানি না করার দাবি কুতুবদিয়ার সর্বস্তরের মানুষ।