শিরোনাম
◈ ‘তারেক রহমানকেও জেআইসি সেলে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল’ (ভিডিও) ◈ তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর ফের গ্রেফতার ◈ জুলাই জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের সেগমেন্ট সরানোর অভিযোগ নাহিদের ◈ বিদেশমুখী হতে হবে না, দেশেই উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ এমপিওভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসরভাতার টাকা পাবেন যেভাবে ◈ পলাতক আ.লীগ নেতারা ভারতে যেভাবে দিন কাটাচ্ছেন! ◈ রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতের উপর ১০০% শুল্ক! ট্রাম্প আইন আনছেন, মার্কিন সেনেটে বিল পাস  ◈ রদ্রিকে পেতে রিয়াল-বার্সার লড়াই, শেষ পর্যন্ত কে জিত‌বে? ◈ কমার বদলে বাড়ছে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ◈ মন্ত্রিসভায় আসছে নতুন মুখ

প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ০২:১০ দুপুর
আপডেট : ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

জুলাই জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের সেগমেন্ট সরানোর অভিযোগ নাহিদের

মনিরুল ইসলাম: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, রাজধানীর জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন ও তথ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে জাদুঘরটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জাদুঘরে আগে সীমান্তে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি পৃথক সেগমেন্ট ছিল, যেখানে ভুক্তভোগীদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি মোদিবিরোধী আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহও সেখানে স্থান পেয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এসব অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাদুঘরের উপস্থাপনায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আন্দোলন-সংগ্রাম তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তার মতে, গত দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন ও ঘটনার বহুমাত্রিকতা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “সম্পর্ক ভালো বা খারাপের বিষয় নয়, এটি হতে হবে মর্যাদাপূর্ণ।” তার দাবি, জাদুঘরের কিছু বিষয়বস্তু পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকার হয়তো কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে।

জাদুঘরটি যে ভবনে প্রতিষ্ঠিত, সেই গণভবন নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে এখান থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো, যার মধ্যে বিতর্কিত সিদ্ধান্তও ছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এই ভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম জাদুঘরের প্রদর্শনী আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনাবলি একটি বিস্তারিত টাইমলাইনের মাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের অবদানও এতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাদুঘরে পর্যাপ্ত জনবল নেই এবং ব্যবস্থাপনাগত ঘাটতিও রয়েছে। এ অবস্থায় জাদুঘরটিকে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের দাবি জানান তিনি।

এনসিপির এই নেতা বলেন, “জুলাই স্মৃতি জাদুঘর যেন কোনো দলীয় ইতিহাসচর্চার জায়গা না হয়ে জাতীয় ইতিহাসের প্রতিফলন ঘটায়—সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”

পরিদর্শনকালে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, রাজধানীতে সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া জুলাই স্মৃতি জাদুঘরটি ২০২৬ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকেই এর উপস্থাপনা ও বিষয়বস্তু নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়